বুধবার, ২৬ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

পঙক্তিমালা

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২৩, ১৩:০৭

পৃথিবী শ্লথ কিছুক্ষণ
তাহমিনা কোরাইশী

পঁচিশে মার্চের কাল রাত—
পুলিশ লাইনের অতি নিকটেই বাড়ি
সন্ধ্যা থেকে অশনি সংকেত
চারপাশে সবকিছু স্থবির-বোবা
বাড়ন্ত আঁধারে ঝুলছে গ্যাস বেলুনের মতো
রাস্তায় চলন্ত ট্যাঙ্ক থেকে চলছে গোলাগুলি
পুড়ছে পুলিশ লাইন, পুড়ছে জনপদ;
হঠাত্ মধ্যরাতে বিকট শব্দে প্রধান ফটক চুরমার
অসুরকুলের প্রচণ্ড শক্তি আর বুটের আঘাতে
দু’পাল্লা দরজাও একই;
কর্কশ গলায় পাক হানাদার ‘মিসক্রিয়েন্ট কাহা মিসক্রিয়েন্ট?’
প্রচণ্ড বেগে ধাবমান কুলহীন পাথারে জেলেদের জালে
আটকে পড়া প্রাণ সমস্বরে উচ্চারণ কলেমা তৈয়ব
তথাপি পাইনি রেহাই—
প্রাপ্তি হয়নি আশানুযায়ী প্রত্যাশা ওদের
অগত্যাই বলির পাঁঠা;
কিছুক্ষণ শ্লথ পৃথিবী
আঁধারের মাঝে আরেক আঁধার দাঁড়ায় পাশে
সেই মুহূর্তকেই করছি ধারণ—কালের আকাশে
কান্নার মেঘরাশি যেমন।
যদিও বেঁচে গেছি নূহের প্লাবনে
এ জাহাজের যাত্রী আমরা ক’জন
আমাদের শান্তি গিলেছে
রাতের অজগর।

 

চৌষট্টি নগর
টিপু সুলতান

মাঘের সন্ধ্যা মুছে কী সব ভুল বকে
মানুষের আদলে তৃতীয় গান গায়
গোপন দাসের অতর্কিত পাখিগুলো;

শরীর মেলিয়ে ছুঁয়ে যায় হাওয়া
আর সংক্রমণ ডালের ওপর দুপুর
শান্ত সবুজ পঞ্জিকায় দিন লেখে
কখনো খুয়ে ফেলানো সহজ সংখ্যা
প্রজাপতি হয়, প্রজাপতি উড়তেই
শ্যামা রঙের উন্নত ঘাস, সুহূদ নদী—
ডানাখোঁটা কঙ্কালে কাকভেজা শিশু
সূর্যপুরাণ থেকে অম্লান সংগীত চর্চা
এসবের শিরোনাম তুমি চৌষট্টি নগর!

 

জল প্রবাহ
লুত্ফর রহমান

নাব্য সংকটে হূদয় নদী।
গেল বর্ষায় প্রশস্ততা বেড়েছে ভাঙনে।
গভীরতা কমেছে তোমার
থাকার হৃদয়ের।
অপেক্ষায় শুকনো বুক নিয়ে।
তোমার অসীম জলপ্রবাহ,
বন্যা নিয়ে বন্য হয়ে আসুক।

 

ফাঁকি
ভূঁইয়া বুলবুল

পাখিদের প্রচণ্ড ভালোবাসে সে
তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম
যদি পাখি জনম পাও তবে কোন পাখি
হতে চাও পরের জনমে
—ডানা আছে উড়তে জানে না এমন পাখি
—বুঝেছি
—কী বুঝেছ?
—বুঝেছি!
—আর জনমে আমার বাতাস হওয়ার খবর
জেনে গেছ তুমি!

[নেত্রকোনা]

খেদ
সাহিনা মিতা

অবনত হয়ে আছি পতনের পানে, 
কালো চামড়ার গভীরে যে মন—
তার শুশ্রূষায় একটিও সারেনি প্রাণ,
বাঁচেনি কোনো মুমূর্ষু
রূপান্তরিত শৈবাল হয়ে
আছড়ে যাই বালুময় তট,
কেউ নেই প্রবাল ভাবে!
সহস্র সম্ভারে নিজেকে প্রমাণ করা
দুঃসাধ্য বৈ তো কিছু না!

প্রেমেরা কেবল পৌত্তলিক হয়,
ব্রাহ্মণের পূজার থালায়
ঘিয়ে জ্বলা প্রদীপ যেমন!
কালো বলে দীর্ঘ শরীরে কোনোদিন ভাসেনি
একটিও সৌভাগ্য তিলক,
আমি কোন মন্দিরে যাই,
কোন দেবতার কাছে?
হাত পেতে নিতে বাহ্য সুন্দরের বর!

 

 

ইত্তেফাক/এসজেড

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন