বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের ৬ বারের সফল সংসদ সদস্য নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন বলেছেন, পদ্মা সেতুর নদী শাষন, রেলওয়ে প্রকল্পসহ বিভিন্ন প্রকল্পের সরকারি শত শত কোটি টাকা সাশ্রয় করার জন্য মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুনকে শিবচরের মানুষ ও শিবচরের প্রশাসন সারা জীবন মনে রাখবে এবং আমি নিজেও তাকে ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।
শনিবার বিকেলে শিবচরে চৌধুরী ফাতেমা বেগম পৌর অডিটোরিয়ামে মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুনের বদলীজনিত বিদায় সংবর্ধনা এবং দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন । এসময় জেলা প্রশাসককে ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানান চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন। এছাড়াও জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ-প্রশাসন, পৌরসভার পক্ষ থেকে ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানানো হয় ।
তিনি বলেন, ডিসি সাহেব আরেকটি ভাল উদ্যোগ নিয়েছিলেন যে, প্রতি বুধবার তিনি সাধারন মানুষের কথা শুনতেন। সাধারন মানুষের অনেক সমস্যা থাকে। যেটা তারা সরাসরি কখনোই ডিসি সাহেবকে জানাতে পারেননি। এখন আমাদের কাছেও একজন মানুষ আসলে তাকে আমরা বলতে পারি যে, বুধবার ডিসি সাহেবের কাছে গিয়ে তাকে জানান সমাধান পেয়ে যাবেন। এই যে একটি দিন তিনি সাধারন মানুষের জন্য রেখেছেন আমি মনে করি এতে অনেক সমস্যার সমাধান হয়েছে। সাধারন মানুষ কি পেলো বা না পেলো সেটা বড় নয়, একজন মানুষ ডিসির কাছে তার সমস্যা বলতে পেরে মনের দিক থেকে আশ^স্ত হয়েছে এবং এতে অনেক দূর্নিতী বন্ধ হয়েছে। আমি মনে করি তিনি যে সময় দিয়েছেন, যে কাজ করেছেন, যে সহযোগিতা করেছেন এটা শিবচরের মানুষ, শিবচরের প্রশাসন সারাজীবন মনে রাখবে। তিনি যেখানেই থাকবেন শিবচরকে, মাদারীপুরকে ভালবাসবেন। এবং তার যে সততা এটা তিনি বাংলাদেশের সব জায়গায় রেখে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার যে কাজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিয়েছেন সেই কাজ, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে ভূমিকা রাখবেন। আমরাও তার সাথে থাকবো।
শিবচর উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ আ. লতিফ মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা ও দোয়া ও মাফলি অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুনির চৌধুরী, পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, মাদারীপুর স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক (উপসচিব) মো. নজরুল ইসলাম, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লা, মাদারীপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ওবাইদুর রহমান খান, কালকিনি উপজেলা চেয়ারম্যান মীর গোলাম ফারুক, শিবচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. রাজিবুল ইসলাম, শিবচর পৌরসভার মেয়র মো. আওলাদ হোসেন খান, শিবচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, শিবচর উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক ডা: মো. সেলিম, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি মো. তোফাজ্জেল হোসেন খান তোতা প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।
চীফ হুইপ তার বক্তব্যে বলেন, জেলা প্রশাসক ভাল কাজ করায় শিবচরের মানুষ আজ তাকে সম্মান জানাতে এখানে এসেছে। এজন্য আমি উপজেলা পরিষদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমি ৬ বারের ৩২ বছরের সংসদ সদস্য। আমার মনে হয় সর্ব প্রথম কোন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আমি আসতে পেরেছি। আমারও এখানে আসার ইচ্ছে ছিল। কারন জেলা প্রশাসকের এই সময়টা আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ন সময়। বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময় পদ্মা সেতুসহ যে মেগা প্রকল্পগুলো হচ্ছে সেখানে ভৌগলিক দিক থেকেই শিবচরের গুরুত্ব অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এই সময়টিতে জেলার সাথে আমাদের সংযোগ অনেক বেশি ছিল। আপনারা জেনেছেন যে, এতবার এমপি হওয়ার পরও কেউ আমাকে প্রস্তাব করেনি যে মাদারীপুর জেলা কেন তৃতীয় শ্রেনীতে থাকবে। এক সময় মাদারীপুর জেলার সাথে শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জ ছিল। মাদারীপুরের সাথে থাকা সত্বেও শরীয়তপুর দ্বিতীয় শ্রেনী, গোপালগঞ্জলও দ্বিতীয় শ্রেনী হবে হয়ত। কিন্তু আমরা ছিলাম তৃতীয় শ্রেনীর। এই বিষয়টি যখন জেলা প্রশাসক সাহেব আমাদেরকে জানায় তখন আমরা ৩ এমপি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলি। তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের ঐতিহ্য ও ভৌগলিক দিক বিবেচনা করে স্বল্প সময়ের মধ্যে মাদারীপুর জেলাকে দ্বিতীয় শ্রেনীতে উন্নীত করেন। এ জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আমি ধন্যবাদ জানাই এবং এই উদ্যোগ নেয়ার জন্য ডিসি মহোদয়কে আমি ধন্যবাদ জানাই।
চীফ হুইপ তার বক্তব্যে আরও বলেন, আপনারা জানেন, আমাদের পদ্মা সেতু, রেলওয়ে প্রকল্পসহ বিভিন্ন প্রকল্পের জমি অধিগ্রহনে অনেক ধরনের দূর্নিতী, অনিয়ম ছিল। আমরা ভাবতেই পারিনি পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে প্রায় সাড়ে ৪ শ কোটি, রেলওয়ে প্রকল্প থেকে প্রায় ২ শ কোটি লোপাটের টাকা ডিসি সাহেব উদ্ধার করেছেন। সরকারের টাকা তিনি অপচয় হতে দেননি। এটা দেশের বড় সম্পদ। এটা আমাদের অঞ্চলেরও একটি সুনাম হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে যে, শিবচরের মানুষ এসকল দূর্নিতী ও অন্যায়ের সাথে জড়িত না। এটা প্রমান হওয়ার কারনে আমাদের এলাকার মানুষও বুঝতে পেরেছে যে, ইচ্ছে করলেই কেউ এই ধরনের অন্যায় কাজ কেউ করতে পারবে না। পাশাপাশি শিবচরে অনেক মেগা প্রকল্প হচ্ছে। ডিসি সাহেবের কাছ থেকে আমরা সব সময় সহযোগিতা পেয়েছি। এখানে এসপি সাহেবও আছেন। আমার মনে হয় মাদারীপুর সৃষ্টির পর কোন জেলা প্রশাসক এত বেশি শিবচরে আসেনি। তারা শিবচরের বিভিন্ন কাজে বারবার এসেছে। বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করেছেন। এই জন্য তাকে আমি ধন্যবাদ জানাই।
