বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

বিশ্ব মেধাস্বত্ত্ব সংস্থার সদর দপ্তরে স্বাধীনতা দিবস পালিত

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২৩, ১৭:২৮

জেনেভায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে। সোমবার (২৭ মার্চ) সুইজারল্যান্ডে জাতিসংঘের বিশ্ব মেধাস্বত্ত্ব সংস্থার (WIPO) সদর দপ্তরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়। 

অনুষ্ঠানে জেনেভাস্থ জাতিসংঘ দপ্তরে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মো. সুফিউর রহমান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জ্ঞানভিত্তিক এবং উদ্ভাবনী জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠায় ‘স্মার্ট বাংলাদেশ-২০৪১ রূপকল্প’ বাঙালি জাতির সোনার বাংলার স্বপ্ন বাস্তবায়নে একটি অত্যাবশ্যক ধাপ। 

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ একটি শান্তিপ্রিয়, প্রগতিশীল ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। তার বক্তব্যে স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের স্বাধীকার আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস উল্লেখ করে বলেন, সমস্ত বাধা-বিপত্তি কাটিয়ে বাংলাদেশ এখন একটি উদার, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক শান্তিকামী রাষ্ট্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তিনি সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সাফল্য, দারিদ্র্য দূরীকরণে সাফল্য, নারীর ক্ষমতায়ন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকার সুরক্ষায় বাংলাদেশের ভূমিকা তুলে ধরেন।

“সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়”- এই মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর হতে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা পালন করে আসছে। শান্তির সংস্কৃতি বিনির্মাণে সবাইকে একযোগে কাজ করার ও কার্যকর অবদান রাখার বিষয়ে তিনি গুরুত্বারোপ করেন।


আলোচনা সভায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ ও দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ীপ্রতিনিধি, উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি, ইকোনমিক মিনিস্টার এবং কমিউনিটির সদস্যবৃন্দ। স্থায়ী প্রতিনিধি স্বাধীকার আন্দোলনথেকে স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রেক্ষিত বর্ণনা করে স্বাধীনতার চেতনার প্রায়োগিক দিকসমূহের উপরে আলোকপাত করেন।

বিশ্ব মেধাস্বত্ত্ব সংস্থা (WIPO)-র সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটিতে প্রায় ১০০টি দেশের রাষ্ট্রদূত/স্থায়ী প্রতিনিধি ও কূটনীতিক, জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যগণসহ তিন শতাধিক আমন্ত্রিত অতিথি অংশগ্রহণ করেন।

বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেনেভা সেন্টার ফর সিকিউরিটিজ স্টাডিজ এর পরিচালক রাষ্ট্রদূত নাথালি চুয়ার্ড।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপ-রাষ্ট্রদূত সঞ্চিতা হক, সুইজারল্যান্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি জমাদার নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শ্যামল খান, সহ-সভাপতি মশিউর রহমান, মোর্শেদ গোলাম, বিপুল তালুকদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুম খান দুলাল, উপদেষ্টা স্বপন কুমার সাহা, আশোক কুমার সরকার রবি, সাংগঠনিক সম্পাদক গৌরিচরন সসীম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আইয়ান জুনায়েদ প্রমুখ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সুইজ বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের সভাপতি ইমরান খান মুরাদ। সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদেরকে বাংলাদেশি ঐতিহ্যবাহী খাবার ও মিষ্টান্ন সহযোগে আপ্যায়ন করা হয় এবং শুভেচ্ছা উপহার প্রদান করা হয়।

ইত্তেফাক/এমএএম