চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে গতকাল আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ মাঠে গড়ানোর আগেই বাগড়া দেয় বৃষ্টি। যাতে করে ৩ ওভার কমিয়ে শুরু করা হয় খেলা। তবে বৃষ্টি থামেলেই ব্যাট হাতে উইকেটে ঝড় তোলে বাংলাদেশের দুই ওপেনিং ব্যাটসম্যান লিটন কুমার দাস ও রনি তালুকদার।
এ ম্যাচে রীতিমত আইরিশ বোলারদের কচুকাটা করে দেশের ইতিহাসে দ্রুততম ফিফটি তুলে নিয়েছে লিটন দাস। শুধু তিনি নয় ব্যাট হাতে মারমুখী ছিলেন অপর প্রান্তে থাকা রনিও। এতে করে দুই ওপেনারের উড়ন্ত সূচনায় এদিন ভেঙেছে টাইগারদের ওপেনিং জুটিতে গড়া আগের সৌম্য-নাইমের রানের রেকর্ডও।
এদিকে গতকালকের আগে অবদি দেশের ইতিহাসে দ্রুততম ফিফটি করার রেকর্ড ছিল মোহাম্মদ আশরাফুলের। ২০০৭ বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২৭ বলে ৬১ রানের ইনিংস খেলার পথে ২০ বলে পঞ্চাশ পেরোন তিনি। তবে গতকাল বুধবার সেই রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন বাংলাদেশ দলের স্টাইলিশ ওপেনার লিটন। স্রেফ ১৮ বলে ৫ চার ও ৩ ছয়ে ক্যারিয়ারের দশম টি-টোয়েন্টি ফিফটি করেছেন লিটন। মজার ব্যাপার হল তৃতীয় দ্রুততম অর্ধশত রানের রেকর্ডও রয়েছে এই ব্যাটারেরই দখলে। যা কিনা তিনি গড়েছিলেন গতবছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে।
তবে লিটন দাস শুধু নিজের রেকর্ড গড়েই থেমে থাকেননি। এ দিন দুই ব্যাটারের খ্যাপাটে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের দলীয় পঞ্চাশ আসে স্রেফ ২১ বলে। এটি তাদের দ্রুততম দলীয় ফিফটির রেকর্ড। ২০১৬ বিশ্বকাপে ধর্মশালায় আইরিশদের বিপক্ষে ২৪ বলে ৫০ রান করেছিল বাংলাদেশ।
এছাড়া রেকর্ড গড়ে নিজের হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেওয়ার পর আরো ভয়ংকর হয়ে ওঠেন লিটন। অপর প্রান্তে রনিও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেছেন। সবমিলিয়ে ৪৩ বলেই বাংলাদেশের রান পৌঁছে যায় তিন অঙ্কে। বাংলাদেশের দ্রুততম দলীয় শতরান ছিল আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আগের ম্যাচেই। সেদিন একশ করতে লেগেছিল ৫৩ বল।
এরপর এ দুই ব্যাটার ওপেনিং জুটিতেও রেকর্ড গড়েছেন। এর আগে ওপেনিং-এ নাইম শেখ এবং সৌম্য সরকারের ১০২ রানের জুটিকেও এদিন ছাড়িয়ে যান লিটন-রনি। ৪৪ রান করে রনি বিদায় নিলে ভাঙে ১২৪ রানের উদ্বোধনী জুটি।
