আগুন জ্বলছে টাইগার শিবিরে!

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২৩, ১০:৫৯

বাংলাদেশ ওয়ানডে ফরম্যাটে শক্তিশালী দল হলেও বাকি দুই ফরম্যাটে ছিল যাচ্ছে তাই অবস্থা। তা দেখা যায় পরপর দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে। তবে কুড়ি ওভারের এ ফরম্যাটে যেন নিজেদের নতুন করে গোছানো শুরু করেছে টাইগাররা। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়ে গিয়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল ইংল্যান্ড। এরপর আয়ারল্যান্ড এসেও রয়েছে হোয়াইটওয়াশের দ্বারপ্রান্তে এছাড়া এক ম্যাচ বাকি থাকতেই আইরিশদের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে নিয়েছে সাকিব বাহিনী।

আজ দুপুর ২টায় সিরিজের তৃতীয় এবং শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি খেলতে চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে নামবে বাংলাদেশ ও আয়াল্যান্ড। এর আগে সিরিজের শেষ ম্যাচের আগে বিশ্রাম করেই কাটিয়েছে টাইগাররা। শুধু এ ম্যাচের আগেই নয়, এ সিরিজের প্রথম ম্যাচের আগে শেষ অনুশীলন করেছিল বাংলাদেশ দল। এরপর প্রতি ম্যাচের পর মাঝের একদিন বিরতিতে বিশ্রাম করেছে।

এদিকে চট্টগ্রামে টিম হোটেলে গতকাল বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন রনি। যিনি কিনা আট বছর পর ফিরেছেন টাইগার শিবিরে। আর ফিরেই যেন নতুন করে দিচ্ছেন হুংকার। তবে তারই গর্জন নয়, বদলে গেছে গোটা দলই। গতকাল রনি জানান, টাইগারদের এ টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বদলে যাওয়ার মন্ত্র। শুধু তাই নয়, বলেন, দলের মধ্যে দাপুটে মনোভাবে আগুন জ্বেলে দিয়েছেন তাদের অধিনায়ক সাকিব আল হাসানই।’

ওপেনার রনি বলেন, ‘সাকিব ভাই কিংবদন্তি ক্রিকেটার, সেটা আপনারাও জানেন। উনার সঙ্গে আবাহনীতে খেলেছি প্রায় ১২ বছর আগে। তখনো একই ইনটেন্ট, একই মনমানসিকতা উনার ভেতরে ছিল। উনি সবসময় ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করেন, ডমিনেট করার চেষ্টা করেন। উনার যে ডমিনেটিং চিন্তাভাবনা, সেটা দলের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন যে, আমরা খেলব, বাঘের মতো খেলব। আমরা ডমিনেট করার চেষ্টা করব।’

ডান-হাতি এ ওপেনার আরো বলেন, ‘আমাদের ভয়ডর থাকবে না, আমরা সবসময় ইতিবাচক মানসিকতা নিয়েই মাঠে যাব। হতে পারে কখনো আমরা ব্যর্থ হবো, আবার সফল হবো। তবে যদি আমরা এই জিনিসটা ধরে রাখতে পারি, এটা ধারণ করে চললে আমাদের সাফল্যের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। এটা কোচ-অধিনায়কের চিন্তাভাবনা একই।’

এসময় প্রতিপক্ষ আয়ারল্যান্ড হলেও অন্য যে কোনো বড় দলের সঙ্গে খেলার মতো মনোভাবই এই বাংলাদেশ দলের আছে বলে বিশ্বাস রনির। বলেন, ‘আমাদের একটা পরিকল্পনা আছে। আমরা প্রতিটা সিরিজে পরিকল্পনা করেই মাঠে নামি। ওটাই মাঠে দেখানোর চেষ্টা করি। ম্যাচ বাই ম্যাচ সেই পরিকল্পনাটা করি। সিরিজ অনুযায়ী আমরা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কেমন খেলব, আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে কেমন খেলব—এমন নয়। আমরা প্রতিটি ম্যাচ অনুযায়ী পরিকল্পনা করি। যদি এক ধাঁচে আমরা খেলতে পারি ভবিষ্যতে কাজে দেবে। এ জিনিসটাই আমরা এগিয়ে নিতে চাচ্ছি। দলগতভাবে আমরা যে জিনিসটা বুস্ট আপ করতে চাচ্ছি, আগ্রাসী খেলার একটা প্রবণতা যেন ক্রিকেটারদের মধ্যে থাকে।’

আট বছর পর দলে ফিরে বোলারদের ওপর চড়াও হতে দেখা যাচ্ছে রনিকে। এছাড়া চলমান সিরিজে পরপর দুই ম্যাচেই আইরিশ বোলারদের কচুকাটা করেছেন তিনি। আর রনির সঙ্গ পেয়ে তাণ্ডব চালান টাইগার আরেক ওপেনার লিটন কুমার দাস। এই দুই ব্যাটারের ঝোড়ো ব্যাটিংয়েই পরপর দুই ম্যাচে বড় সংগ্রহ করতে পেরেছে বাংলাদেশ দল। মজার বিষয় হচ্ছে, ব্যাটারদের এমন হাত খুলে খেলার স্বাধীনতা নাকি ম্যানেমেন্টই দিচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে রনি বলেন, ‘এখন (বাদ পড়ে যাওয়ার) ভয় কাজ করে না। কারণ, টিম ম্যানেজমেন্ট আমাকে ঐ সাহসটা দিয়েছে। এছাড়া আমার এখানে হারানোর কিছু নেই। কারণ, আমি আট বছর আগেও যেমন খেলা খেলেছি...শুরু থেকেই আমার খেলার ধরনটাই এমন ছিল। কারণ, আমি ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে মাঠে নামি। আমার টিম ম্যানেজমেন্ট আমাকে যে বার্তা দিয়েছে, আমার খেলার ধরন অনুযায়ী আমাকে খেলতে বলেছে। ইংল্যান্ড সিরিজের আগেও আমাকে বলেছে, তুমি বিপিএলে যে কাজটা করেছ, এখানেও সেটাই করবে।’

 

ইত্তেফাক/এসজেড