সোমবার, ২৯ মে ২০২৩, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

প্রতিশোধ নিতে সাবেক স্ত্রীকে হত্যা: তিন মাস পর রহস্য উদঘাটন

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২৩, ২১:৪৫

গাজীপুরের কালীগঞ্জে জনি আক্তার রূপা (২০) নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার প্রায় তিন মাস পর এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাবেক স্বামী ও তার ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। 

বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) নগরীর বাসন থানার চান্দনা-চৌরাস্তা এলাকা থেকে দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়। গাজীপুর পিবিআইর এসআই সনজিৎ বিশ্বাস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহত জনি আক্তার রূপা (২০) জামালপুরের মাদারগঞ্জ থানার ফাজিলপুর গ্রামের রবিউল ইসলামের মেয়ে। রূপা তার দ্বিতীয় স্বামী গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বালিগাঁও গ্রামের উজ্জল মিয়ার সঙ্গেই বসবাস করতেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নিহত রূপার সাবেক স্বামী মোজাম্মেল হক (৩২) ও তার বড় ভাই জহির আলী (৩৯)। তারা জামালপুরের মাদারগঞ্জ থানার হিমারদীঘি গ্রামের সোহরাব প্রামাণিকের ছেলে। 

জানা যায়, ২০১৫ সালে মোজাম্মেল হক ও জনি আক্তার রূপার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে। জীবিকার তাগিদে মোজাম্মেল মালয়েশিয়া চলে যায়। প্রবাসে থাকাকালে মোজাম্মেল রূপার মায়ের ব্যাংক একাউন্টে বিভিন্ন সময়ে প্রায় নয় লাখ টাকা পাঠিয়েছিলেন। চার বছর পর ২০২২ সালে দেশে ফিরে এসে পাঠানো টাকার বিষয়ে জানতে চাইলে রূপা ও তার মা কোনো হিসাব দিতে পারেনি। পরে পারিবারিক মীমাংসায় মোজাম্মেলকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়। এসব নিয়ে তাদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি দেখা দিলে দুই সন্তানকে স্বামীর কাছে রেখে রুপা জামালপুরের ইসলামপুর চিনাডুলি গ্রামের মনু মিয়ার ছেলে উজ্জল মিয়াকে বিয়ে করেন এবং গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বালিগাঁও গ্রামে বসবাস করতে থাকেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে মোজাম্মেল প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করে। 

এসআই সনজিৎ বিশ্বাস বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোজাম্মেল জানিয়েছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী ৬ জানুয়ারি রূপাকে সন্তানের বিষয়ে আলাপ করার জন্য নিজ গ্রামে আসার অনুরোধ করে। সে মোতাবেক রূপা গাজীপুর থেকে মোজাম্মেলের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা করে। ওইদিন বিকাল ৪টার দিকে মোজাম্মেল রূপাকে নিয়ে জামালপুরের মাদারগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড থেকে বগুড়ার সারিয়াকান্দি যমুনা নদীর চরে এক বন্ধুর বাসায় বসে আলাপ করার জন্য রওনা করেন। এদিকে আগে থেকে তার বড় ভাই জহির আলীকে একটি নৌকা নিয়ে মাদারগঞ্জ থানার জামথৈল ঘাটে আসতে বলে। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী দুই ভাই যমুনার চরে যাওয়ার পর রুপাকে প্রথমে ওড়না দিয়ে হাত পা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করে তারপর মোজাম্মেল তার সঙ্গে আনা দা দিয়ে গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত লাশ বালি ভর্তি বস্তায় ভরে যমুনা নদীতে ফেলে দেয়।

এদিকে স্ত্রীর কোনো খোঁজ না পেয়ে রূপার দ্বিতীয় স্বামী উজ্জল মিয়া বাদী হয়ে গত ২৪ জানুয়ারি গাজীপুরের কালীগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরবর্তীতে নিহতের পরিবার বিষয়টি গাজীপুর জেলা পিবিআইকে অবহিত করে। প্রায় তিন মাস অনুসন্ধান চালিয়ে পিবিআই ৩০ মার্চ গাজীপুর মহানগরের বাসন থানার চান্দনা-চৌরাস্তা এলাকা থেকে দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করে। এরপর শুক্রবার (৩১ মার্চ) তারা গাজীপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ইত্তেফাক/এবি/পিও