চট্টগ্রামে ঈদ শপিংয়ে ফিক্সড প্রাইসের নামে প্রতারণা

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২৩, ০৬:০১

চট্টগ্রামে ঈদের বাজারে কেনাকাটার ক্ষেত্রে ভয়াবহ প্রতারণার শিকার হচ্ছেন ক্রেতারা। সারা বছর যেসব দোকানে দর কষাকষির মাধ্যমে পণ্য বিক্রি হয়েছে, এখন সেই সব দোকানে ঈদ সামনে রেখে ‘ফিক্সড প্রাইস’ লিখে রাখা হয়েছে। সাধারণত ঈদের শপিংয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ করে তরুণ-তরুণীরা পণ্য পছন্দ হলে দামের দিকে তেমন একটা গুরুত্ব দেন না। এই সুযোগকেই কাজে লাগান অসৎ ব্যবসায়ীরা। ‘ফিক্সড প্রাইজের’ অনেক দোকানে আবার ১০ থেকে ২০ শতাংশ ডিসকাউন্টও দেওয়া হচ্ছে। জুতা, স্যান্ডেল, থ্রিপিস, শাড়ি, পাঞ্জাবি, বাচ্চাদের পোশাকের দোকানে ফিক্সড প্রাইজের নামে কয়েক গুণ বেশি দাম আদায় করা হচ্ছে।

ক্রেতাদের অভিযোগ, শপিং মলগুলোতে নতুন পণ্যের পাশাপাশি পুরোনো পণ্যও বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু ক্রেতারা বুঝতে পারছে না কোনটা নতুন আর কোনটা পুরোনো। বিশেষ করে ডিসকাউন্টের দোকানগুলোতে পুরোনো পণ্য বিক্রি চলছে। ব্যবসায়ীরা সারা বছরের বিক্রির সমান টাকা রমজানের এক মাসেই তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তারা ঈদের বাজারের জন্য অপেক্ষায় থাকেন। এ কারণে পুরোনো পণ্যগুলোও ‘ঈদ কালেকশন’ নাম দিয়ে বাড়তি দামে বিক্রি করেন। 

জানতে চাইলে মিমি সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম বলেন, ডিসকাউন্টে পণ্য বিক্রি রোজার আগে শেষ হয়েছে। পুরোনো মালগুলো ব্যবসায়ীরা ডিসকাউন্টে বিক্রি করেছেন। চট্টগ্রাম চেম্বারে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক হয়েছিল। সভায় ফিক্সড প্রাইসের দোকানগুলোতে ১০ শতাংশ ছাড় দেওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে ব্যবসায়ীর প্রচুর পণ্য কালেকশন করেছেন। কিন্তু এবার ডলারের মূল্যবৃদ্ধিতে প্রতিটি পণ্যের ক্রয়মূল্য বেশি হওয়ায় বিক্রয়মূল্যও বেশি পড়ছে। ক্রেতারা কিনছে কম, বিভিন্ন মার্কেটে ঘুরাঘুরি করে দাম যাচাই করছে।’

নগরীর বিভিন্ন কেন্দ্রে ঈদ সামনে রেখে ক্রেতাদের পদচারণা বেড়েছে। গত দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটির দিনে নগরীর বিপিণি কেন্দ্রগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে। ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য ঈদের বাজারে ব্যাপক আলোকসজ্জা করা হয়েছে। বিক্রেতারা জানান, এবার ঈদের বাজারে পণ্যের দাম কিছুটা বাড়তি। নগরীর কয়েকটি বড় শপিং মলে গুটি কয়েক দোকানে সারা বছরই ফিক্সড প্রাইজে পণ্য বিক্রি হয়ে থাকে। এখন ঈদের বাজারে দরকষাকষির দোকানগুলোতেও ফিক্সড প্রাইজ টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে জুতা স্যান্ডেল, পাঞ্জাবি, শাড়ি, থ্রিপিস, বাচ্চাদের পোশাকের দোকানগুলোয় ফিক্সড প্রাইজে পণ্য বিক্রির প্রবণতা বেড়েছে। ঈদের বাজারে দেখা যায়, মানুষ ভিড়ের ঝামেলা এড়াতে অনেকেই ফিক্সড প্রাইজে পণ্য কিনে থাকেন। ব্র্যান্ডের দোকানগুলোতে মূল্যের স্টিকার বদলিয়ে বাড়তি দাম লেখা হচ্ছে। এতে পণ্যের ক্রয় ও বিক্রয়মূল্যের মধ্যে কয়েক গুণ বেশি ব্যবধানে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে নগরীর কয়েকটি দোকানে জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর অভিযান চালিয়ে ব্যাপক অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক ফয়েজ উল্লাহ বলেন, ‘আমরা ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৈঠক করেছি। ঈদের বাজারে পণ্য বেচাকেনায় যাতে অতিরিক্ত মূল্য আদায় করা না হয়, তা নিয়ে সর্তক করা হয়েছে। আমরা শিগিগরই নগরীর শপিং মলগুলোতে অভিযান শুরু করব। দোকানিদের পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের রসিদ সংরক্ষণ করতে বলেছি।’

ইত্তেফাক/ইআ