মাদারীপুরে দলগত বঙ্গবন্ধু জনপ্রশাসন পদক প্রাপ্ত জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. রহিমা খাতুন এর পদোন্নতি প্রাপ্তিতে বদলী জনিত বিদায় সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানে একের পর এক মাদারীপুর জেলার মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন তিনি । রবিবার (২ এপ্রিল) ছিল মাদারীপুর কর্মস্থলের শেষ দিন তার । সেই দিনও সাধারণ মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন । সমাধানের চেষ্টা করেছেন । সাধারণ মানুষ কি পেলো বা না পেলো সেটা বড় নয়, একজন মানুষ ডিসির কাছে তার সমস্যা বলতে পেরে মনের দিক থেকে আশ্বস্ত হয়েছে। মাদারীপুরের বিদায়ী জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন ২ বছর ৯ মাস সরকারি দায়িত্ব পালন করতে এসে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মন জয় করে গেলেন। তার বদলির খবর শুনে অনেকেই অশ্রু সংবরণ করতে পারেননি। জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন যোগদান করেই তার মেধা ও কর্মদক্ষতা দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে মাদারীপুরবাসীর হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন। যখনি কোথাও কোনও সংকট দেখেছেন তিনি ছুটে গেছেন। পাশে দাঁড়িয়েছেন সবার বিপদ-আপদে। প্রশাসনের কর্তা-ব্যক্তি ছাড়াও মাদারীপুরের সাধারণ মানুষদেরও আস্থার যায়গা ছিল ড. রহিমা খাতুন।
শিবচরের এক ভ্যানচালক বলেন, ‘ডিসি সাহেব মাদারীপুরে যোগদান করে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরগুলোতে ঘুষ দুর্নীতি মুক্ত করতে পেরেছিলেন।’
স্থানীয় এক সংবাদকর্মী বলেন, ‘এমন মানবিক গুণসম্পন্ন ডিসির কথা ভোলা যায় না। তার সততা, কর্মনিষ্ঠা, মানবিকতায় আমি মুগ্ধ। তার মত ডিসি যদি প্রতিটি জেলায় থাকতো তাহলে মানুষ অতি সহজে সেবা পেত।’
শনিবার (১লা এপ্রিল) কালকিনি উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ হলরুমে জেলা প্রশাসক ড.রহিমা খাতুন এর বদলিজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় । উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পিংকি সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপিকা তাহমিনা বেগম । এছাড়াও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, উপজেলা চেয়ারম্যান মীর গোলাম ফারুক, কালকিনি পৌর মেয়র এস এম হানিফ সরদার, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কায়েসুর রহমান, কালকিনি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.শামীম হোসেন, শিক্ষক, ডাক্তার, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ, পৌর পরিষদ এবং কালকিনি উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এসময় জেলা প্রশাসককে ফুলের তোড়া ও ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানান উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পিংকি সাহা । অপরদিকে গত ৩০ মার্চ মাদারীপুর জেলা পুলিশের আয়োজনে পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন এর বদলি জনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএম (বার), পিপিএম এর সভাপতিত্বে এ সময়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ কামরুল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) মো. মনিরুজ্জামান ফকির পিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) ভাস্কর সাহা, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (শিবচর সার্কেল) আনিসুর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার (অপস) মো. মনিরুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার মো. শফিকুল ইসলাম এবং জেলার সকল অফিসার ইনচার্জগণ সহ জেলা পুলিশের সর্বস্তরের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও মাদারীপুর সদর, রাজৈর, ডাসার, কালকিনি এবং শিবচর উপজেলার সরকারি দপ্তর, রাজনীতিবিদ, উপজেলা পরিষদ, পৌর পরিষদসহ একাধিক দপ্তর বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজন করে ।
বঙ্গবন্ধু জনপ্রশাসন পদক প্রাপ্ত ড. রহিমা খাতুন তার বক্তব্যে বলেন, আমি ২০২০ সালের ৭ জুলাই মাদারীপুরে যোগদান করেছি। ২০২০ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত এই সরকারের সময়ে মাদারীপুর জেলায় অনেক উন্নয়ন হয়েছে । বিশেষ করে শিবচর উপজেলায় বেশি উন্নয়ন হয়েছে । এখানে শেখ হাসিনা ইনস্টিটিউট অব ফ্রন্টিয়ার টেকলোলজি যেটা সারা বাংলাদেশের মধ্যে একটি মাত্র প্রজেক্ট যেটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়বেন তার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখবে। এখানে শেখ হাসিনা তাঁতপল্লী, অনেকগুলো পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজসহ বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ এখানে চলমান রয়েছে। অনেক প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহনের কাজ সমাপ্ত হয়েছে। এখানে নার্সিং ইনস্টিটিউট হচ্ছে। জুডিসিয়াল একাডেমি যেটা সারা বাংলাদেশে একটাই। সেটাও এখানে হচ্ছে। এখানে বিচারক ও সকল আইনজীবীদের প্রশিক্ষন হবে। আমার যোগদানের ২ বছর ৯ মাসে এখানে যে পরিমান উন্নয়ন হয়েছে তার জন্য আমি চীফ হুইপ স্যারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। ধন্যবাদ জানাচ্ছি জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় মানুষদেরকে। আমি আসলে সকলের কাছেই কৃতজ্ঞ। আমি যখন এই জেলায় যোগদান করি তখন এটা ছিল সি ক্যাটাগরির আর এখন এটা বি ক্যাটাগরিতে উন্নীত হয়েছে। এর জন্যও আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। চীফ হুইপ স্যারসহ অন্যান্য এমপি যারা আছেন, রাজনৈতিক নের্তৃবৃন্দ যারা আছেন সকলেই কিন্তু চেষ্টা করে এটি কিন্তু করেছেন।
ড.রহিমা খাতুন আরো বলেন, আমরা যদি মাদারীপুর জেলাকে একটি বিশেষ ক্যাটাগরির জেলায় উন্নীত করতে পারি তাহলে অনেক ভালো হবে। মাদারীপুর জেলা কিন্তু বিশেষ ক্যাটাগরির জন্য যথেষ্ট উপযোগী। এটা হলে আমার কাছে আরো ভাল লাগবে। বিভিন্ন কেবিনেট বলেন, জনপ্রশাসন বলেন সব জায়গায় কিন্তু মাদারীপুর জেলা কিন্তু খুবই আলোচিত হয়েছে এবং প্রশংসিত হয়েছে। বিশেষ করে জনপ্রতিনিধি এবং আমরা যারা সরকারী কর্মকর্তা রয়েছি এই উভয়ের মাঝে যে সমন্বয় রয়েছে তা খুবই একটি প্রশংসনীয় বিষয়। আর এই সমন্বয় থাকলে যে অনেক ভালো ভালো কাজ করা যায়, অনেক চ্যালেঞ্জ নেয়া যায় সেই বিষয়গুলো কিন্তু এখানে আছে। আমি বিশেষ ধন্যবাদ জানাই প্রধানমন্ত্রীকে। কারন তিনি আমাকে বাছাই করে মাদারীপুর জেলায় জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। এই মাদারীপুরে এসে এত ভালো ভালো মানুষ, বড় বড় নের্তৃত্ব, বড় বড় মানুষের সাথে আমার পরিচয় হয়েছে যাদের কাছ থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি। মাদারীপুরকে আমি সারাজীবন মনে রাখবো। এখানের মানুষের কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ যে আমাকে কাজ করার জন্য সুন্দর একটি পরিবেশ দিয়েছেন আপনারা।
