সিদ্দিকবাজারের ক্যাফে কুইন ভবনের বেজমেন্টে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর নড়েচড়ে বসে রাজউক। রাজউকের অঞ্চলগুলোতে নির্মিত ভবনের বেজমেন্ট কি হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে সে তথ্য সংগ্রহে নামে তারা। গত ১০ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত রাজউক আওতাধীন এলাকায় আটটি অঞ্চলের ভবনে জরিপ (সার্ভে) চালানো হয়। রমজান শুরু হওয়ায় বর্তমানে বেজমেন্ট সার্ভের কাজ বন্ধ রয়েছে। আর এই জরিপে বেশির ভাগ ভবনে বেজমেন্টে পার্কিংয়ের জায়গায় দোকান ও গুদাম হিসেবে ব্যবহারের তথ্য পেয়েছে তারা।
জানা যায়, রাজধানীতে প্রায় ২৬ লাখ ভবন রয়েছে। এর মধ্যে ১৯ লাখই বহুতল। ১৪ দিনে ২ হাজার ২০৪টি ভবন পরিদর্শন করেছে রাজউক। এর মধ্যে ১ হাজার ১৬৩টি ভবনের বেজমেন্ট পার্কিংয়ের জন্য নির্দিষ্ট রয়েছে। আর ৭৫০টি ভবনের বেজমেন্ট অন্য কাজে ব্যবহার হয়েছে। অন্য কাজের মধ্যে কোনো ভবনে রুম বানিয়ে ভাড়া দেওয়া; আবার কোনো ভবনের নিচে দোকান করে ভাড়া দেওয়া। এ ছাড়া ৬৮৩টি ভবনের বেজমেন্ট গুদাম বা মার্কেট হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।
তথ্য সংগ্রহকালে ১ হাজার ৯৪৪টি ভবনের নকশা ভবন মালিকরা দেখাতে পারেনি।
রাজউকের এই জরিপের সময় ভবনের নকশা দেখাতে হয়। নকশায় ভবনের বেজমেন্ট কী কাজে ব্যবহার করার কথা ছিল, আর কী কাজে ব্যবহার হচ্ছে সেই তথ্য যাচাই করা হয়। যেসব ভবন মালিক নকশা দেখাতে পারেননি, তাদের সময় দিয়েছে রাজউক। ঈদের পর সেসব ভবনের নকশা পুনরায় যাচাই করা হবে। অভিযান চালানো হবে বেজমেন্টের অবৈধ ব্যবহার বন্ধ করতে।
নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, পুরান ঢাকার বেশির ভাগ বেজমেন্টই ঝুঁকিপূর্ণ। নিমতলী ও চুড়িহাট্টা ট্র্যাজেডি এ কারণেই ঘটেছে। কিছু মানুষের লোভের কারণে অনেক মানুষের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। চুড়িহাট্টার পর যে সুপারিশ দেওয়া হয়েছিল, সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হবে। এসব গুদাম-কারখানা সরানোর কোনো বিকল্প নেই। এতে কারও কারও ব্যক্তিগত ক্ষতি হতে পারে কিন্তু নগরবাসী উপকৃত হবে। তা না হলে যে কোনো মুহূর্তে আরো বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ভবনের কোথায় কোথায় কী ধরনের ব্যত্যয় আছে, তা চিহ্নিত করে শুধরাতে ভবন মালিককে বাধ্য করতে হবে।
এ বিষয়ে রাজউকের সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) তন্ময় দাস জানান, কোনো মার্কেটে বা ভবনের বেজমেন্টে দাহ্য পদার্থের গুদাম বা দোকান আছে কি না। তা ছাড়া নকশা অনুযায়ী ভবনের বেজমেন্টের ব্যবহার ঠিক আছে কি না, এগুলোই দেখা হচ্ছে। আমরা সব শেষ করতে পারেনি। বেজমেন্ট যারা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করছে তাদের আমরা নোটিশ দিয়েছি। ঈদের পরে আমরা এসব উচ্ছেদে নামবো। যেগুলোতে দাহ্য পদার্থ রয়েছে সেগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুতই আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। এছাড়া ক্রমান্বয়ে আমরা সব ভবনেই অভিযান চালাবো।
