পূরণ হচ্ছে না কোটা

আগামী বছর হজের খরচ বৃদ্ধির আগাম ঘোষণা

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২৩, ০৬:৩২

অস্বাভাবিক বিমানভাড়া ও প্যাকেজ খরচ বৃদ্ধির কারণে সাত দফায় হজযাত্রী নিবন্ধনে সময় বাড়ালেও কোটা পূরণ হচ্ছে না। আগামী ৫ এপ্রিল শেষ হচ্ছে নিবন্ধন। তবুও কোটা পূরণে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। গতকাল রবিবার রাত পর্যন্ত ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জনের কোটার মধ্যে পূরণ হয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার। এখনো শূন্য পড়ে আছে ৯ হাজার জনের কোটা। এটা দেশের হজ নিবন্ধনের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা। অতীতে এমন কখনো হয়নি। বরং হজের মৌসুম এলে হজে যাওয়ার জন্য মানুষের তীব্র আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়। হজ নিবন্ধনের চাহিদা এত বেশি থাকত যে, সামাল দিতে হিমশিম খেতে হতো হজ এজেন্সিগুলোকে। এ বছর তার ব্যতিক্রম। গত বছরের তুলনায় প্রায় ২ লাখ টাকা হজ প্যাকেজ বৃদ্ধির কারণে প্রাক-নিবন্ধনকারীদের অনেকেই টাকা তুলে নিয়েছেন। অনেকে ৭ লক্ষাধিক টাকা খরচ করে হজ করার সামর্থ্য হারিয়ে ওমরাহ পালন করতে যাচ্ছেন।   

এদিকে, আকাশচুম্বী হজ প্যাকেজ ও বিমানভাড়া নিয়ে সমালোচনা, হাইকোর্টের নির্দেশনা ও সর্ব মহলের আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৩ মার্চ হজ প্যাকেজের মূল্য ১১ হাজার ৭২৫ টাকা কমানোর ঘোষণা দেয় ধর্ম মন্ত্রণালয়। একই সময়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় বিমান মন্ত্রণালয়কে বিমানভাড়া কমানোর জন্য চিঠি দিয়েছিল। কিন্তু বিমান কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দিয়েছে— ভাড়া কমানো হবে না।

গত বছর হজযাত্রীদের জন্য বিমানভাড়া ছিল ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এ বছর তা ৫৮ হাজার টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকার ঘোষিত হজ প্যাকেজ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না—গতকাল জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সব আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাকে হজ যাত্রী পরিবহনে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করে। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে ধর্মসচিব, বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক, হজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) ও সৌদি রাষ্ট্রদূতসহ পাঁচ জনকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এদিকে চলতি বছর অস্বাভাবিক হজ প্যাকেজের খরচ নিয়ে দেশ জুড়ে ব্যাপক সমালোচনা ও তোলপাড়ের মধ্যে গতকাল ধর্ম মন্ত্রণালয় আগামী বছর হজের খরচ আরো বাড়বে বলে প্রচারণা চালাচ্ছে। গতকাল ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আবুল কাশেম মুহাম্মদ শাহীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং সৌদি আরবের হারাম শরিফের নিকটবর্তী বিভিন্ন হোটেল ভেঙে ফেলায় এ বছর হোটেলভাড়া নেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে এবং অধিক পরিমাণ অর্থ দিয়ে হোটেলভাড়া করা হচ্ছে। সার্বিক বিবেচনায় বিভিন্ন কারণে এ বছর হজ প্যাকেজকে হ্রাসকৃত প্যাকেজ হিসেবে ধরা যায়। একই ধারাবাহিকতায় আগামী বছরগুলোয় হজ প্যাকেজের মূল্য আরো বৃদ্ধি পাবে। কারণ, ভেঙে ফেলা বাড়ি/হোটেলসমূহ আবার গড়ে তুলতে ২ থেকে ৩ বছর সময় লাগবে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে হজযাত্রীদের এ বছরই হজ প্যাকেজে নিবন্ধিত হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

হজ এজেন্সিগুলো বলছে, চলতি বছর হজের নির্ধারিত কোটা পূরণ করতে না পেরে এমন অভিনব কৌশলে নেমেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। সাত দফা সময় বাড়িয়েও কাঙ্ক্ষিত সাড়া না মেলায় মন্ত্রণালয় এখন খরচ বাড়ার ‘ভয়’ দেখাচ্ছে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পবিত্র হজ পালনের অনুমতি পেয়েছেন।

বিমানভাড়া কমিয়ে হজ প্যাকেজ পুনর্নির্ধারণের দাবি হাবের

এদিকে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে স্বতন্ত্র টেকনিক্যাল কমিটি গঠনের মাধ্যমে হজযাত্রীদের বিমানভাড়া কমিয়ে হজ প্যাকেজ পুনর্নির্ধারণের অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছে। গতকাল হাব সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়। এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম এই চিঠিতে বলেন, যেসব হজযাত্রী ২০২৩ সালে হজ করবেন তাদের অধিকাংশই ২০১৮ ও ২০১৯ সালে প্রাক-নিবন্ধিত হয়ে তখনকার করা আর্থিক বাজেটে হজে যাওয়ার অপেক্ষা করছেন। কিন্তু হজযাত্রীদের অতিরিক্ত বিমানভাড়াসহ হজের খরচ বাড়ায় এরই মধ্যে হজযাত্রীসহ ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ও অসন্তুষ্টির সৃষ্টি হয়েছে। এ বছর হজযাত্রীদের বিমানভাড়া ১ লাখ ৯৭ হাজার ৭৯৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা বাস্তবতার নিরিখে অনেক বেশি এবং অযৌক্তিক। এ কারণে ঘোষিত হজ প্যাকেজ সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য হয়নি এবং সমালোচিত হয়েছে। যেহেতু বিমান একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ফলে তাদের একক কর্তৃত্বে ভাড়া নির্ধারণ যথার্থ হয়নি। চিঠিতে আরো বলা হয়, ২০২২ সালে হজযাত্রীদের বিমানভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। মূলত, করোনা মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে জেট ফুয়েলের মূল্যবৃদ্ধি এবং করোনার কারণে বিমানের কিছু আসন খালি রেখে ফ্লাইট পরিচালনার কারণে ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল। তবে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের প্রত্যাশা ছিল করোনা-পরবর্তী বিমানভাড়া কমতে পারে। বর্তমানে জেট ফুয়েলের দাম বাড়েনি, সৌদি আরব কোনো নতুন চার্জ আরোপ করেনি, বিমানের খালি আসন রেখেও হজযাত্রী পরিবহন করতে হবে না। অথচ হজযাত্রীদের বিমানভাড়া ৫৭ হাজার ৭৯৭ টাকা বাড়ানো হয়েছে। যা ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অযৌক্তিক মনে করেন এবং তাদের মধ্যে এ নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে স্বতন্ত্র টেকনিক্যাল কমিটি গঠনের মাধ্যমে হজযাত্রীদের বিমানভাড়া কমিয়ে হজ প্যাকেজ পুনর্নির্ধারণ করতে আপনার সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

নগদ ১৬ হাজার ডলার পর্যন্ত নিতে পারবেন

সৌদি আরবে ভ্রমণের জন্য আসা ওমরাহ যাত্রীদের বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ আনতে নিষেধ করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি এক টুইট বার্তায় এ পরামর্শ দিয়েছে হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়। শনিবার দুবাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়া এক প্রতিবেদনে জানায়, সৌদি কর্তৃপক্ষ মুসল্লিদের মূল্যবান স্বর্ণ, রত্ন এবং মেটাল না আনতে বলেছে। পরামর্শ দিয়েছে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার রিয়াল (১৬ হাজার ডলার) পর্যন্ত বহন করতে। এছাড়াও আহ্বান জানানো হয়েছে, দাপ্তরিক ওয়েবসাইট থেকে ব্যাংক অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করতে। এড়িয়ে যেতে বলা হয়েছে অচেনা কারো সঙ্গে অর্থ লেনদেন, বার্তায় সাড়া দেওয়া এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য শেয়ার করা।

 

ইত্তেফাক/ইআ