রেজিস্ট্রার রাশিদাকে নিয়ে নার্সিং কাউন্সিলে চরম অসন্তোষ

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২৩, ২০:৫১

বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রাশিদা আক্তারকে নিয়ে কাউন্সিলে চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। তার নিয়োগের পর থেকেই ভেঙে পড়েছে কাউন্সিলের শৃঙ্খলা। তাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা বেসরকারি নার্সিং কলেজের অনুমোদনের নামে ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দিয়ে ১৫-২০ লাখ টাকা করে আদায় করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আরো অভিযোগ রয়েছে, রাশিদা আক্তারকে ২০১৬ সালে যখন ডেপুটি রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তখন তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতনসহ চারটি মামলা ছিল। এসব মামলার তথ্য গোপন করে পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়াই অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন তিনি।

তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনেও (দুদক) অভিযোগ রয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় বিভাগীয় তদন্তের জন্য দুদক থেকে সচিব, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ এবং মহাপরিচালক, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি বরাবর চিঠি পাঠানো হয়। দুদকের উক্ত চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে অভিযোগকারী দুই জন সোনালী রানী দাস এবং মো. সিদ্দিকুর রহমানের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের যুগ্ম-সচিব মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম।

দুদকের ঐ চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তদন্ত ও পর্যবেক্ষণ করে সংগৃহীত সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনায় যুগ্ম-সচিব মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম গত বছরের ৩ জানুয়ারি প্রতিবেদন দাখিল করেন। ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিদা আক্তার ডেপুটি রেজিস্ট্রার হিসেবে বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলে যোগদান করার সময় তার বিরুদ্ধে আদালতে ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন ছিল। নিয়োগকালে প্রাক-পরিচয় যাচাই বা পুলিশ ভেরিফিকেশন না হওয়ায় ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও তিনি যোগদান করতে সক্ষম হয়েছেন। এটি নিয়োগ প্রক্রিয়ার একটি ত্রুটি হিসেবে বিবেচিত হয়। জাতীয় পর্যায়ের এমন একটি প্রতিষ্ঠানে ডেপুটি রেজিস্ট্রারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিকে প্রকাশ না করে শুধু কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে প্রকাশের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাও ছিল আরেকটি একটি বড় ত্রুটি। স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এমন তদন্ত রিপোর্টের পরেও ডেপুটি রেজিস্ট্রার রাশিদা আক্তারকে রেজিস্ট্রারের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিদেশ থেকে উচ্চতর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, পিএইচডি ডিগ্রিধারী, এমপিএইচ করা অনেকেই আছেন। তাদের যে কাউকে রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। সবাইকে বাদ দিয়ে রাশিদা আক্তারকে নিয়োগের কারণ হিসেবে অবৈধ লেনদেন আছে বলেই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএনএ) নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘রেজিস্ট্রারের মতো এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রশ্নবিদ্ধ কাউকে নিয়োগ করা ঠিক হয়নি। আমরা চাই যোগ্য ও দক্ষ একজন নার্সিং কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হোক।’

ইত্তেফাক/এএএম