হারিয়ে যাওয়ার ৯ বছর পর মা-বাবাকে খুঁজে পেলেন সাইফা 

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২৩, ২২:৩১

দাখিল পরীক্ষা চলার সময় ২০১০ সালে মাদ্রাসার হোস্টেলে হঠাৎ মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার সাইফা আকতার। তার বর্তমান বয়স ২৫। এর পর পরিবারের তত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিল। ২০১৩ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে পরিবারের অজান্তে হাসপাতাল থেকে নিরুদ্দেশ হয়ে যায় সাইফা। এরপর থেকে তার আর কোন সন্ধান জানে না পরিবার। 

গত কয়েকমাস আগে পটিয়া উপজেলার ভাটিখাইন হজরত মির্জা আলী লেদু শাহ দাখিল মাদরাসা সংলগ্ন এলাকায় সড়কের পাশে পড়ে থাকত। এলাকার মানুষেরা দয়া করে কেউ কিছু দিলে খেত না হয় পড়ে থাকত। কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলেও বলতে পারত না সে। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে এলাকার লোকজন স্থানীয় সমাজসেবক পটিয়া উপজেলা গাউসিয়া কমিটি মানবিক টিমের প্রধান সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুল আলমকে অবহিত করেন।

নয় বছর পর পরিবার ফিরে পান সাইফা আকতার। ছবি: ইত্তেফাক
 
খবর পেয়ে গাউসিয়া কমিটি মানবিক টিমের মহিলা সদস্যদের নিয়ে গত ২৮ মার্চ রাতে অ্যাম্বুলেন্স যোগে ওই তরুণীকে উদ্ধার করে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু ওই মানসিক রোগীর অবস্থা খারাপ হওয়ায় অন্য রোগীদের সমস্যা সৃষ্টির সম্ভাবনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ভর্তি করেননি। তবে গাউসিয়া কমিটির হেফাজতে রেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে চিকিৎসা সেবা দেয়।
 
উপজেলা গাউসিয়া কমিটি মানবিক টিমের সচিব মাওলানা মো. ইছহাক আলকাদেরী জানান, আমাদের মানবিক টিমের মহিলা সদস্য আনজুমান আরা মুন্নী, ইয়াছমিন আকতার ও রহিমা আকতারসহ অন্যারা মিলে আমরা তাকে সেবা দিয়ে সুস্থ করে তুলি।

শনিবার (১ এপ্রিল) বিকালে মেয়েটির হঠাৎ জ্ঞান ফিরলে সে আমাদের টিমের কাছে তার বাবার নাম, ভাইয়ের নাম ও ঠিকানা একটি খাতায় লিখে প্রকাশ করে। এই লেখার সূত্র ধরে তার ঠিকানা জানা যায়, সে সাতকানিয়া উপজেলার বারদোনা গ্রামের অধিবাসী চট্টগ্রাম এমইএস কলেজের সাবেক অধ্যাপক মরহুম মোহাম্মদ ইস্কান্দরের মেয়ে। এ ঠিকানায় আমাদের সাতকানিয়া উপজেলা মানবিক টিমের মাধ্যমে যোগাযোগ করে সাইফার পরিবারকে বিষয়টি বিস্তারিত জানানো হয়। গাউসিয়া কমিটির কাছে তাদের মেয়ে হেফাজতে থাকার খবরে তারা রোববার (২ এপ্রিল) সকালে ছুটে আসেন পটিয়ায়। মা শাকেরা বেগম, দু’ভাই তারেক আব্বাস ও হোসাইন মুহাম্মদ এরশাদ সাইফাকে দেখেই চিনতে পারেন এ তাদেরই হারিয়ে যাওয়া সাইফা। এ দিন দুপুরে পটিয়া উপজেলা গাউসিয়া কমিটির কাছ থেকে পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আতিকুল মামুনের উপস্থিতিতে সাইফাকে বুঝে নেয় তার পরিবার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাকিবুল ইসলাম, গাউসিয়া কমিটি মানবিক টিমের প্রধান মাহবুবুল আলম চেয়ারম্যান, সচিব মাওলানা মো. ইছহাক আলকাদেরী, আবুল কাসেমসহ সংগঠনের সদস্যরা।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিখোঁজের পর থেকে পরিবারের পক্ষ থেকে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তারা সাইফার সন্ধান পাননি। এতে পরিবার এক প্রকার আশাই ছেড়ে দিয়েছিল যে তাদের সন্তানকে হয়তো তারা আর ফিরে পাবেন না।

সাইফার ভাই হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ বলেন, গাউছিয়া কমিটির কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। তারা আমাদের হারিয়ে যাওয়া বোনকে চিকিৎসার পাশাপাশি আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছেন। মানবিক এ সংগঠনের জয়যাত্রা অব্যাহত থাকুক।

পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আতিকুল মামুন বলেন, গাউছিয়া কমিটির এমন মানবিক কাজের জন্য তাদের ধন্যবাদ জানায়। মানবিক কাজে এ সংগঠন অতীতের ন্যায় আরও বেশি বেশি কাজ করবে আশা করি।

ইত্তেফাক/পিও