স্থপতি ইমতিয়াজ টাকা দিতে অস্বীকার করাই তাকে হত্যা করা হয়। মামলার মূল পরিকল্পনাকারী ফয়সাল ওরফে আরাফাত আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ কথা জানায়। সোমবার (৩ এপ্রিল) আরাফাতকে মুন্সীগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করা হলে তিনি এ জবানবন্দি দেন।
মুন্সীগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি আবুল কালাম আজাদ এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আরাফাতকে গ্রেপ্তারের মধ্যে দিয়ে ইমতিয়াজ হত্যা মামলার ৫ জন আসামির মধ্যে ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। যারা সকলে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
এর আগে মুন্সীগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গত ২৯ মার্চ রাতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আরাফাতকে বরিশালের কোতোয়ালী থেকে আটক করে।
জানা যায়, চ্যাটিং অ্যাপের মাধ্যমে স্থপতি ইমতিয়াজ মোহাম্মদ ভূঁইয়ার (৪৭) সঙ্গে একটি চক্রের সদস্য আসিফের পরিচয় হয়। ৭ মার্চ ইমতিয়াজকে মোবাইল ফোনে কলাবাগানের একটি বাসায় ডেকে নেন আসিফ। সেখানে আগে থেকেই ছিলেন আরাফাত, মুন্না ও মেঘ। তারা সবাই মিলে তাকে সমকামিতার ফাঁদে ফেলে টাকার জন্য মারধর করেন। একপর্যায়ে ইমতিয়াজ মারা যান।
২৭ মার্চ রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ইমতিয়াজ হত্যার ঘটনায় আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে গ্রেপ্তারের আসামি মেঘ আনোয়ার ওরফে এহসান। তার দেওয়া জবানবন্দি থেকেই এই তথ্য জানা গেছে বলে জানায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
ইমতিয়াজ মোহাম্মদ ভূইয়ার স্ত্রী ফাহমিদা আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন, ঘটনার দিন আমাদের ১৫তম বিবাহবার্ষিকী ছিল। শবে বরাতের রাতের নামাজ নিয়ে পরিকল্পনা করেছিলাম। দুপুরের পরে মেয়েদের স্কুলে নিয়ে বের হওয়ার সময় কিছু কিনতে হবে কিনা জানতে চায়। পরে দরজার সামনে থেকে বলে, আমাকে ২০০ টাকা দাও। প্রিন্টের কাজটাও শেষ করে আসি। টাকা নিয়ে দুই মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে বের হয়ে যান। আর এভাবে ফিরবেন সেটা ভাবতে পারিনি। এই বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন ফাহমিদা। এটা পরিকল্পিত হত্যা। এর পেছনে অন্য কারণ থাকতে পারে।
অপর আসামি মো. আলিফ ওরফে আলামিনকে খুব শীঘ্রই আটক করা হবে। হত্যাকাণ্ডের পর লাশ পরবিহনের কাজে ব্যবহৃত গাড়িটি উদ্ধার করেছে মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ।
এর আগে এহসান ওরফে মেঘ, মিল্লাদ হোসেন মুন্না ও আনোয়ার হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
