নাটোরে গুরুদাসপুর থানা পুলিশের বহুল আলোচিত এএসআই আশিকের হাতে এবার অন্যায়ভাবে এলোপাথাড়ি মারপিটের শিকার হলেন এক মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। ঘটনার শিকার ওই মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের নাম নাজিমউদ্দীন মিঠু (৫৬)।
নাজিমউদ্দীন শহরের বড় হরিশপুর এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত নাজমুল হোসেনের ছেলে। তিনি গ্রামীণ ট্রাভেলসের চালক।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, নাজিমউদ্দিন ২০ বছর ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকা রুটে বাস চালান। বর্তমানে তিনি গ্রামীণ ট্রাভেলসে চালক হিসেবে কাজ করছেন। বাসটি বনপাড়া হার্টিকামরুল রুটে বড়াইগ্রাম উপজেলার রয়না এলাকা অতিক্রম করার সময় চালক দেখেন ফিডার রোড বাদ দিয়ে প্রধান সড়কে বেপরোয়া গতিতে মোটর সাইকেল চালিয়ে নাটোর অভিমুখে আসছেন গুরুদাসপুর থানার এএসআই আশিক। বেপরোয়া গতিতে চালানোর কারণে এএসআই আশিক নিজেই পিছলে পড়ে যান।
এ ঘটনায় ক্ষীপ্ত হয়ে এএসআই আশিক ধাওয়া করে কাছিকাটা টোল প্লাজায় এসে গ্রামীণ ট্রাভেলসের বাসটি থামিয়ে চালক নাজিমউদ্দীন মিঠুকে জোরপূর্বক নামান। তারপর টোলপ্লাজার একটি কক্ষে আটকে রেখে ঘন্টাব্যাপী বেধড়ক কিল, ঘুষি এবং লাঠি দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেন।
পরে বাসে থাকা যাত্রীরা চালককে অন্যায়ভাবে মারপিট করার প্রতিবাদ করলে মিঠুকে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় ফেলে চলে যায়। পরে স্থানীয় কিছু পরিবহন শ্রমিক তাকে উদ্ধার করে নাটোর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে আসে।
এ ব্যাপারে গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোজাহারুল ইসলাম বলেন, এএস আই আশিককে আজই রাজশাহীতে বদলী করা হয়েছে। আজ গুরুদাসপুরে ছিল তার শেষ কার্যদিবস।
অভিযুক্ত এএসআই আশিক বলেন, ‘গ্রামীণ ট্রাভেলসের চালকের বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর জন্য আমি এবং আমার কনস্টেবল রাস্তার পাশে পড়ে যাই। ভবিষ্যতে যেন ভালোভাবে গাড়ি চালায় এ জন্য উত্তম মাধ্যম দিয়েছি।’
নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আকরামুল ইসলাম বলেন , ‘অভিযোগ থাকলে চালকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। মারপিট করার অধিকার কারও নেই। আমি অবশ্যই তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নিবো।
আরও পড়ুন: দক্ষিণ ইংল্যান্ডে ১ ঘণ্টায় এক হাজার বজ্রপাত!
নাটোর জেলা পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেন বলেন, ‘আমাদের সদস্য নাজিমউদ্দীন মিঠুকে অন্যায়ভাবে মারপিট করা পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’
ইত্তেফাক/নূহু
