রাজধানীতে আগুন লাগলেই ফায়ার সার্ভিসকে পড়তে হয় পানির সংকটে। পানির অন্যতম উৎস জলাশয় ভরাটের পাশাপাশি শহরে নেই ফায়ার হাইড্র্যান্টও। অথচ ফায়ার হাইড্র্যান্টের সাহায্যে যে কোনো জায়গায় সহজেই আগুন নেভানো সম্ভব। বাসাবাড়িতে কিংবা সড়কের পাশে এটি স্থাপন করলে যখন-তখন পানি পাওয়া সম্ভব। এতে যে কোনো জায়গায় আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও কমিয়ে দিতে পারে।
ফায়ার হাইড্র্যান্ট হলো আগুন নেভানোর কাজে ব্যবহারের জন্য বিশেষ পানির কল। এটি ওয়াটার রিজার্ভার বা মূল পানির লাইনের (যেমন ওয়াসার লাইন) সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। ফলে কোথাও আগুন লাগলে সেখানকার সবচেয়ে কাছাকাছি থাকা ফায়ার হাইড্র্যান্টগুলোর সঙ্গে পাইপ সংযুক্ত করে সহজেই পানি ছিটাতে পারেন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। কিন্তু ঢাকায় এ ধরনের ব্যবস্থাই নেই। সম্প্রতি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন শহরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে ফায়ার হাইড্র্যান্ট বসানোর ঘোষণা দিয়েছিল। ২০২১ সালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) পক্ষ থেকে আগুন নেভানোর কাজে পানির প্রাপ্যতা সহজ করতে রাজধানীর বস্তিগুলোতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ফায়ার হাইড্র্যান্ট বসানো কথা বলেছিলেন মেয়র আতিকুল ইসলাম। রাজধানীর মহাখালীর সাততলা বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা বলেন। কিন্তু এখনো সেই প্রকল্প আলোর মুখ দেখেনি। এ বিষয়ে উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা বলেন, ফায়ার হাইড্র্যান্ট লাগানোর একটি প্রকল্প আমরা হাতে নিয়েছি। জায়গা নির্বাচনসহ প্রাথমিক কাজ শেষ হয়েছে। খুব শিগগিরই এগুলো লাগানো হয়ে যাবে।
সম্প্রতি রাজধানীর কয়েকটি বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বেশির ভাগ সময় পানি স্বল্পতার কারণে আগুন নেভাতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। সরু রাস্তায় পানি বহনকারী গাড়ি প্রবেশ করতে না পারাও একটি বড় সমস্যা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকা শহর পরিকল্পিতভাবে গড়ে না উঠলেও সরকার ও সিটি করপোরেশন চাইলে পুরো ঢাকা শহর জুড়ে ‘স্ট্রিট হাইড্র্যান্ট’ বসানো সম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন শুধু দায়িত্বশীলদের সদিচ্ছা।
ঢাকায় ফায়ার হাইড্র্যান্ট বসার জন্য সিটি করপোরেশন ও ওয়াসার মধ্যে সমন্বয় জরুরি বলছেন নগরবিদরা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ঢাকা অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠছে, ফলে কখনো ফায়ার হাইড্র্যান্ট বসানোর বিষয়ে কেউ মনোযোগী ছিল না। নিমতলীর অগ্নিকাণ্ডের পর ফায়ার হাইড্র্যান্ট বসানোর আলাপ জোরালোভাবে শুরু হলেও অদৃশ্য কারণে সিটি করপোরেশন, ওয়াসার মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া না হওয়ায় এটি আর আলোর মুখ দেখেনি।
ওয়াসা ও সিটি করপোরেশন দুটি প্রতিষ্ঠানই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে। তাহলে সমন্বয় করে প্রকল্প নেওয়ায় বাধা কোথায়? পুরান ঢাকায় যেসব পুকুর ছিল, সেগুলো তো আর নেই। আগুন লাগলে অনেক দূর থেকে পানি আনতে হচ্ছে। এ বিষয়ে ডিএসসিসি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস একটি অনুষ্ঠানে বলেছেন, নতুন এলাকাগুলো আমরা পরিকল্পিত আকারে নির্মাণে যাচ্ছি, এসব স্থানে ফায়ার হাইড্র্যান্টের ব্যাপারটা আমরা বিবেচনা করব। যদিও এই প্রকল্প অত্যন্ত ব্যয়বহুল তাই সিটি করপোরেশনের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এখানে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন আছে।
