বেশিরভাগ ছবির গল্পেই দেশপ্রেম উপেক্ষিত: অরুণা বিশ্বাস

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২৩, ০৯:১৩

অভিনেত্রী অরুণা বিশ্বাস। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছেন তিনি। এবার নির্মাণ করলেন নিজের প্রথম চলচ্চিত্র ‘অসম্ভব’। ছবিটির পাশাপাশি নিজের চলচ্চিত্র যাত্রার নানা দিক নিয়ে কথা বললেন ইত্তেফাকের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল

আপনার নির্মিত ‘অসম্ভব’ কবে নাগাদ মুক্তি পাচ্ছে? ছবিটি নিয়ে সহকর্মীদের কাছে প্রত্যাশা কেমন থাকছে?

আগামী ২ জুন সিনেমাটি মুক্তি পরিকল্পনা করছি। আমার বিশ্বাস সিনেমা সংশ্লিষ্ট সকলেই ‘অসম্ভব’-এর পাশে থাকবেন। কারও কাছে দয়া চাচ্ছি না, একজন শিল্পী-নির্মাতা-প্রযোজক হিসেবে এটা পাওয়া আমার অধিকার। আমি দীর্ঘদিন ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছি এবং আমাদের গল্পের একটি ছবি ‘অসম্ভব’। সেই জায়গা থেকে আমার বিশ্বাস সবাইকে পাশে পাবো।

সিনেমাটিতে বিশেষ কিছু দর্শকরা পাবে কি-না?

হ্যাঁ, অবশ্যই ভিন্ন কিছুই দর্শকরা পাবেন। অনেকদিন ধরেই বেশিরভাগ ছবির গল্পে দেশ বা দেশপ্রেম উপেক্ষিত। সেই সঙ্গে দর্শকের রুচিও পরিবর্তিত হয়েছে। তারা সিদ্ধান্ত নেবেন কোন ছবি দেখবেন, কোন ছবি দেখবেন না। তবে আমার মনে হয় অসম্ভব দর্শকদের মুগ্ধ করবে। যদিও আমি দর্শকদের হলে আসার জন্য জোর খাটাতে পারবো না। তবে তাদের অনুরোধ করবো আগে হলে আসবেন, তারপর ছবিটি দেখার মতো কি-না সেই মন্তব্য করবেন। 

গতবছর সিনেমা সুদিনের আভাস দিলেও নতুন বছর এখন অবধি কোনো ছবিই সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারেনি। এর কারণ কী মনে করছেন?

আমি সেন্সর বোর্ডে থাকার কারণে প্রতিনিয়তই নতুন ছবি দেখছি। ভালো ছবি যারা বানাতে চান তারা কিন্তু পারছেন। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে অর্থনৈতিক সাপোর্টটা তারা সেভাবে পাচ্ছে না। যে কারণে অনেক সময় জগাখিচুরি হয়ে যায়। তবে আমি মনে করি, যে গল্পটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবো সেই গল্প নিয়েই কাজ করতে হবে।

এই সংকটের কারণ কী মনে করছেন?

দেখুন, যাত্রা, নাটক, সিনেমা যেটাই বলুন সেখানেই আমরা অর্থনৈতিক সংকটে আছি। শুধু সংস্কৃতি মাধ্যমেই ‘নাই নাই’! অথচ রাষ্ট্রের যেকোনো সংকটে কিন্তু শিল্পীরাই আগে কথা বলে, সহযোগিতার হাত বাড়ায়। হ্যাঁ, কিছু উড়ে এসে জুড়ে বসা লোক আছে যারা অনেক টাকা আয় করছে, চারদিক থেকে সাপোর্ট পাচ্ছে। দিনশেষে ইন্ডাস্ট্রি থেকে তারা মুখও ফিরিয়ে নিচ্ছে। তারা সত্যি ভাগ্যবান! অথচ ৯০ ভাগ গুণীজন সেই সুযোগ বা সম্মান পাচ্ছে না।

তাহলে কী বলতে চাচ্ছেন ইন্ডাস্ট্রিতে গুণীজনদের অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে?

নিশ্চয় অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। একজন শিল্পীর যখন বয়স হয় তখন সে কিন্তু শিক্ষক হয়ে ওঠে। তার কাছ থেকে নতুনরা অনেককিছু শিখতে পারে। কিন্তু আমরা কয়জন শিল্পীকে শিক্ষক হিসেবে গণ্য করতে পেরেছি!

ইন্ডাস্ট্রিতে অরুণা বিশ্বাসের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি নিয়ে কী বলবেন?

অনেক কষ্ট করে আমাকে আজকের অরুণা বিশ্বাস হতে হয়েছে। খুব সহজে বা দয়া করে আমাকে কেউ সুযোগ বা কাজ কখনও দেয়নি। তাই ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে যেমন আমার প্রাপ্তি ভালোলাগা আছে তেমনি দুঃখ-কষ্টও আছে।

হল সংকট নিয়ে আমরা কথা বললেও নতুন হল নির্মাণের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা কোনো হলমালিক নিতে চাচ্ছেন না। এর কারণ কী মনে করছেন?

এখানে শুধু হলমালিকদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। আমাদের ভালো তারকা তৈরির আগ্রহ কমে গেছে। আমরা একজনের একটি সিনেমাটি হিট হলে তাকে নিয়েই পড়ে থাকি। যে ইন্ডাস্ট্রির জন্য অবদান রাখতে পারছে না তার পেছনে খরচ করছি। যারা লম্বা রেসের ঘোড়া তাদের অবমূল্যায়ন করছি।

অ্যাওয়ার্ড নিয়েও নানা নেতিবাচক সমালোচনা বিভিন্ন সময় শোনা যায়। বিষয়টি নিয়ে কী মন্তব্য করবেন?

পুরস্কার কাকে দেওয়া হবে সেটা তো আগে থেকেই সেটআপ করা থাকে। বলতে পারেন, পুরস্কার একটা ফর্মেটে দাঁড়িয়ে গেছে। এখানে কাজের চেয়ে পূর্বপরিকল্পনা গুরুত্ব পায়।

শিল্পী সমিতিতে এখনও কাঁদা ছোঁড়াছুড়ি চলছে। সম্প্রতি জায়েদ খানের সদস্য স্থগিতের বিষয়টি বেশ আলোচনায় রয়েছে...

সেদিন তো ওদের আচরণে আমি অবাক। সাইমনের মতো একজন জুনিয়রের সাহস কী করে হয় ‘আমি কেন এসেছি’ জিজ্ঞেস করার! আমি শিগগিরই বিষয়টি নিয়ে সমিতিতে চিঠি দেবো। সেদিন তারা জায়েদ খানের সদস্য পদ স্থগিতের জন্যই সভা ডেকেছিল। সেখানে সাধারণ সম্পাদকের পদটি এখনও বিচারাধীন সেহেতু এটি নিয়ে তো কথা বলাই ঠিক না। এছাড়া রুবেল, রোজিনা, সুচরিতা ম্যামকে ডেকে আজীবন সদস্য দেওয়া উচিত ছিল। এতে তাদের সম্মানই বাড়তো। কাঞ্চন ভাই অভিভাবক হয়ে কীভাবে এটা মেনে নিলেন বুঝতে পারছি না।

ইত্তেফাক/এসজেড