মনের মধ্যে অনেক কষ্ট জীবনের

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২৩, ২১:৩১

গোপালগঞ্জে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন জাতীয় দলের সাবেক স্ট্রাইকার নাবিব নেওয়াজ জীবন। কিন্তু মনটা ভালো নেই তাঁর। খেলবেন কি খেলবেন না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। দুশ্চিন্তায় জীবন। ক্যারিয়ার এভাবে টেনে নেওয়া যায় না। নিজের কাছেও ভালো লাগছে না। এতোটা বছর আবাহনীকে সার্ভিস দিয়ে এসেছেন আর এখন কি কারণে পিছিয়ে যাচ্ছেন বুঝতেও পারছেন না। আবাহনীর পাঠ চুকিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন জীবন। সামনে আমন্ত্রণ আছে। কিন্তু জীবনের কাছে আগে আবাহনী। তারপর অন্য কিছু। 

এই মৌসুমে আবাহনীর তিনটি ম্যাচ খেলেছেন জীবন। চট্টগ্রাম আবাহনী, মুক্তিযোদ্ধা সংসদেও বিপক্ষে বদলী খেলেছেন। আর লিগের ম্যাচে আজমপুরের বিপক্ষে একাদশে ছিলেন। তিন গোল করেছেন জীবন। দুই গোল করিয়েছেন। কোচ তাকে নামাচ্ছেন না। একাদশে দিচ্ছেন না। ‘বদলী খেলতে নেমে ১০ মিনিট চলে যায় গা গরম হতে-বললেন জীবন। তিনি বলেন, ‘গত মৌসুমে মাত্রই অপারেশন করিয়ে মাঠে আসলাম। সেবার ভয়ে ছিলাম। ভয়ে ভয়ে খেলেছি। ফিট হতেও তো সময় লাগে। আর এবার পুরো ফিট হয়েও খেলতে পারছি না।’ 

জাতীয় দলের সাবেক স্ট্রাইকার নাবিব নেওয়াজ জীবন।
 
নানা কষ্টের কথা জীবনের মধ্যে। নিজেকে ফিট দাবী করলেন। কিন্তু মাঠে নামতে পারছেন না। পর্তুগীজ কোচ মারিও লেমসের চোখে এলিটা কিংসলে এগিয়ে আছেন। এলিটার চেয়ে নিজেকে ফিট মনে করলেও তার পারফরম্যান্স ভালোভাবে মেলে ধরার সুযোগ পাননি জীবন। বললেন,‘আমাকে পুরো সময় না খেলালে মান বিচার করবেন কোন পাল্লায়। পুরো সময় নামালে খেলার সুযোগ দিলে তো বুঝা যাবে পারছি কি পারছি না। সুযোগ দেবে না আর দশ পনের মিনিট নামিয়ে গোল আদায় করে ফেলব, সব সময় সেটি হয় না।’ জীবন তার উপলব্ধি কথা কোচ মারিও লেমসের সঙ্গে বলেছেন। কিন্তু তাতে কোনো সাড়া পাননি। ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রূপুর সঙ্গেও বলেছেন আবারও বলবেন। সুফল না পেলে বিকল্প ভাবনায় যাবেন। জীবন বললেন,‘এভাবে পড়ে থেকে লাভ কি। আমি খেলতে চাই। বেঞ্চ গরম করার কোনো মানে হয় না। যেখানে খেলতে পারব সেখানেই যাব। এভাবে আবাহনীতে থাকার কোনো মানে হয় না।’ 

ফুটবলার উত্তর বারিধারা ক্লাব থেকে বিজেএমসি হয়ে আবাহনীতে নাম লেখান ২০১৫ সালে। এর আগেই জাতীয় দলে ডাক পেয়েছিলেন। তবে নিয়মিত হন ২০১৫ সালে। আবাহনী এবং জাতীয় দল, এক সঙ্গে খেলেছেন এই স্ট্রাইকার। জীবন বলছিলেন,‘আবাহনীর জার্সি গায়ে ৫০টির বেশি গোল করেছি।’ জীবনের কথায় স্পষ্ট, তার সঙ্গে আবাহনীর পাঠ শেষ হতে যাচ্ছে। ঘরের ছেলে ঘর ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নিজেকে নতুন রূপে দেখাতে চান। কষ্টের সীমা ছাড়িয়ে আরো ভালোভাবে নিজেকে উপস্থাপন করবেন। চ্যালেঞ্জ নেওয়ার মানসিকতা জীবনের মধ্যে প্রবল।  সেই কঠিন চ্যালেঞ্জ উতরে যেতে এখনই শক্ত পায়ে আগাতে চান নাবিব নেওয়াজ জীবন।

ইত্তেফাক/জেডএইচ