পাহাড়ে বৈসাবির আমেজ

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২৩, ০২:১৫

চৈত্রসংক্রান্তিতে পুরোনো বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে বরণ করতে পাহাড়ে এখন বইছে বৈসাবি উৎসবের আমেজ। পাহাড়ি গ্রামগুলো সেজেছে নতুনরূপে। করোনা ভাইরাসের মহামারির কারণে গত তিনটি বছর বৈসাবি উৎসবের আয়োজন ছিল সীমিত। কিন্তু এবার সেই বাধা না থাকায় বৈসাবি উত্সবে মেতেছে পাহাড়।

পাহাড়ের মানুষের প্রধান সামাজিক উত্সব বৈসাবি তথা বিজু-সাংগ্রাই-বৈসু পালন করা হচ্ছে এবার সাড়ম্বরে। আলাদা নামে হলেও চাকমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা ও মারমা জাতিগোষ্ঠীর মানুষ একযোগে পালন করে এ উত্সব। চাকমারা বিজু, ত্রিপুরারা বৈসু, মারমারা সাংগ্রাই আর তঞ্চঙ্গ্যারা বিষু নামে এ সামাজিক উত্সব পালন করে। তবে বাংলা ভাষাভাষী মানুষ এ উত্সবকে বৈসাবি নামেই চেনে। উত্সব ঘিরে নানান আয়োজন শুরু হয়েছে পাহাড়ি গ্রামে। সপ্তাহ জুড়ে চলবে এ উত্সব। এ উত্সবকে ঘিরে ইতিমধ্যে রাঙ্গামাটিতে পাঁচ দিনের বিজু বৈসু সাংগ্রাই মেলা উত্সাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৈসাবি উত্সবের বর্ণিল আয়োজনে রাঙ্গামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে পাঁচ দিনের বিজু-সাংগ্রাই-বৈসু-বিষু সংস্কৃতি মেলায় ৩০টি স্টলে নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর আলোকচিত্র ও ঐতিহ্যবাহী বস্ত্র ও হস্তশিল্প সামগ্রী প্রদর্শিত হয়। এছাড়া ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী যন্ত্রসংগীত, উভগীত, গেংখুলী গীতসহ নানান সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও শিশু চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

রাঙ্গামাটির সংসদ সদস্য ও খাদ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি দীপংকর তালুকদার এমপি বলেন, ‘পার্বত্যাঞ্চলে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রধান সামাজিক উত্সব বৈসাবিকে বিজু-সাংগ্রাই-বৈসু-বিষু-বিহু নামে পালন করে থাকে। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতির সংমিশ্রণে বৈসাবি এক বৈচিত্র্যময় রূপ ধারণ করেছে। এটা মূলত পুরোনো বছরকে বিদায় দেওয়া আর নতুন বছরকে বরণ করার জন্য পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর এ বৈসাবি উত্সব। আশা করি, বৈসাবির আনন্দ উচ্ছ্বাসের মধ্যে দিয়ে পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে।’

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর লোকজন জানায়, ১২ এপ্রিল নদীতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে চাকমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা জাতির বিজু বৈসুক কিংবা বিষু উত্সব শুরু হবে। পরদিন ১৩ এপ্রিল চৈত্রসংক্রান্তির দিনকে বলা হয় মূল বিজু, বৈসু বা বিষুু। এদিন প্রতি ঘরে রান্না হবে ঐতিহ্যবাহী পাচন। ঘরে ঘরে চলে অতিথি আপ্যায়ন। আর ১৪ এপ্রিল থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত চলে মারমা ও রাখাইনদের ঐতিহ্যবাহী জলকেলি তথা পানি খেলা উত্সব। রাখাইন, মারমা তরুণ-তরুণীরা জলকেলিতে অংশ নিয়ে উত্সবে মেতে ওঠে।

করোনা অতিমারির কারণে গত তিনটি বছরে বৈসাবি উত্সবের আয়োজন ছিল সীমিত। এবার করোনামুক্ত পরিবেশে সামাজিক উত্সবকে কেন্দ্র করে আনন্দ উত্সবে মেতে উঠেছে পাহাড়ের মানুষ।

ইত্তেফাক/এএইচপি