নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রে মাদক কারবারিদের সংঘর্ষে ৩ জন গুলিবিদ্ধসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বুধবার (১২ এপ্রিল) সকাল পর্যন্ত দফায় দফায় এ সংঘর্ষ চলে।
জানা যায়, মাদক কারবারি শাহাবউদ্দিন ও শমসের মিলে তাদের বাহিনী নিয়ে অপর মাদক কারবারি জয়নাল আবেদীনের বাহিনীর সঙ্গে কয়েক দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় সানি (১৭), সম্রাট পারভেজ (২১) ও রোমান (১৮) নামে ৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানান হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া। তিনি জানান, আহত ৩ জনেরই পায়ে গুলি লেগেছে।
চনপাড়ার স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, গুলিবিদ্ধ ৩ জনই জয়নালের সহযোগী। জয়নাল একটি হত্যা মামলায় গত বছরের জুনে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। সম্প্রতি জামিনে জেল থেকে বের হয়ে বাহিনী নিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে চনপাড়ার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার ইফতারের পর থেকে জয়নাল গ্রুপ এবং শমসের ও শাহাবউদ্দিন গ্রুপের মধ্যে মারামারি হয়। এরপর গভীর রাত পর্যন্ত কয়েক দফায় তাদের মধ্যে সংঘর্ষ চলে। এই সময় উভয়পক্ষ আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। এ সময় ককটেল বিস্ফোরণের মতো ঘটনাও ঘটে। সকালে আরেক দফায় সংঘর্ষ হয় তাদের মধ্যে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক যুবলীগ নেতা বলেন, ‘চনপাড়ার মাদক কারবারের নিয়ন্ত্রক ছিলেন ইউপি সদস্য বজলুর রহমান। গত ৩১ মার্চ কারাগারে থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে সে মারা যান। তার মৃত্যুর পর চনপাড়ার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টায় আছেন অন্য মাদক কারবারিরা। এরই ধারাবাহিকতায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কে আছেন।
গত বছরের নভেম্বরের শুরুর দিকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী ফারদিন নূর ওরফে পরশের মৃত্যুর ঘটনায় মাদক প্রসঙ্গ উঠলে ‘মাদক ও অপরাধীদের অভয়ারণ্য’ হিসেবে পরিচিত চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রের পাশাপাশি বজলুও ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসেন। ১৮ নভেম্বর বিকালে র্যাব-১ এর একটি দলের অভিযানে চনপাড়ার পূর্বগ্রাম এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন বজলু। ওই রাতেই র্যাব তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও জাল টাকা রাখার অভিযোগে ৩টি মামলা করে। ওই ৩ মামলার বাইরেও বজলুর বিরুদ্ধে হত্যা, মাদকসহ অন্তত ২৩টি মামলা ছিল বলে তখন জানিয়েছিল র্যাব।
রূপগঞ্জ থানার ওসি এ এফ এম সায়েদের সরকারি নম্বরে একাধিকবার কল করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
জেলা পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (রূপগঞ্জ-আড়াইহাজার সার্কেল) আবির হোসেন বলেন, ‘জয়নাল আবেদীন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ছিলেন। দেড় মাস আগে সে জামিনে ছাড়া পায়। এতদিন এলাকায় আসেনি। এলাকায় আসার পরপরই তার বাহিনী নিয়ে শমসের ও শাহাবউদ্দিন গ্রুপের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়।
তিনি আরও বলেন, গত ‘মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিক থেকেই উত্তেজনা ছিল। পরে রাত ২টার দিকে তারা সংঘর্ষে জড়ায়। উভয়পক্ষেরই কয়েকজন আহত হয়েছেন। ৩ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে বলে জানতে পেরেছি। বর্তমানে ওই এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’
