ফুটবল অঙ্গনে জল ঘোলা হয়ে আছে। মিয়ানমারে মেয়েদের ফুটবল দল না পাঠানোর দায় স্বীকার করে মহাবিপাকে বাফুফে। বাফুফে বলতে বাফুফের সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন। তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন পাঠাতে না পারার কথা। আর এই কথায় সমালোচকরা মহাসমারোহে জেগে উঠল। মেয়েদের ফুটবলটাকে ১২ বছর কীভাবে চালানো হয়েছে তার খোঁজ কেউ নেয়নি। একবার সরে যাওয়ায়, গেল গেল রব উঠল। সমালোচনা হবে এটা মেনে নিয়েই কাজ করতে হবে। কিন্তু এটাও ঠিক যে, গঠনমূলক সমালোচনা পথ দেখায়। সমাধানের পথ খুলে দেয়। সালাহউদ্দিনের ভাগ্যে গঠনমূলক সমালোচনা নেই। কথায় কথায় তার মন্ডুপাত করা।
সালাহউদ্দিন ছেড়ে দেয় না কেন। এই প্রশ্নটাও ওঠে। এর আগে একই প্রশ্ন এভাবে না উঠে পরোক্ষভাবে উঠেছিল, যখন ২০০৮ সালে প্রথম বার নির্বাচন করতে এসেছিলেন তখন। ফুটবলাররা খেলার দাবিতে আন্দোলন করছিলেন। তখন এসে নির্বাচনে নামার ঘোষণা দিলেন। তার আগে সালাহউদ্দিন জাতীয় দলের দায়িত্ব পালন করেছিলেন গোলাম রাব্বানী হেলালদের সঙ্গে নিয়ে। তারা জাতীয় দলের জন্য নিজ পকেট থেকে টাকা দিতেন। তখনও সমস্যা হয়নি।
২০০৮ সালে সভাপতি পদে নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ায় সালাহউদ্দিনকে ফুটবলের কিছু মানুষ মেনে নিতে পারলেন না। তারা নিজেরা সভাপতি পদে নির্বাচন করলেন না। অন্যজনকে প্রার্থী করে সালাহউদ্দিনের বিরুদ্ধে দাঁড় করলেন। বিরোধীদের মনোভাব ছিল সালাহউদ্দিন কেন বাফুফের সভাপতি হবেন। এটা মেনে নেওয়া যায় না।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। তখন জেনারেল মইন উ আহমেদ খেলাধুলার সব খোঁজখবর রাখেন। কিন্তু বাফুফের নির্বাচনে ফিরে তাকাননি। সালাহউদ্দিনকে ঠেকাতে, তার প্রার্থিতা বাতিল করতে আপত্তি দিয়েছিলেন চট্টগ্রাম আবাহনীর সামসুল হক চৌধুরী। এই ইস্যুতে বাফুফে ভবনে টেবিল বসল। প্রার্থিতা টিকে গেল বৈধভাবে। তার পরও তিনি জানতেন নির্বাচনে ফেল করবেন। সেটা জেনেই সালাহউদ্দিন সব বিরোধিতার মুখে কয়েক জনকে সঙ্গী করে স্রোতের বিপরীতে লড়াই করলেন। জিতলেন। ফুটবল সভাপতি হলেন। প্রথম সভায় মিটিং করতে দেওয়া হলো না। কমিটির অন্যরা মিটিং শুরুর দুই আড়াই ঘণ্টা পর বাফুফে ভবনে দল বেঁধে হাজির হয়েছিলেন।
সালাহউদ্দিন কেন বাফুফের সভাপতি হবেন, এটা প্রথম থেকেই মেনে নিতে পারছিলেন না বিরোধীরা। সেটাই মাথায় থাকল বিরোধীদের। সেই থেকেই প্রতি নিয়ত সালাহউদ্দিনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ। পান থেকে চুন খসলেই ভেতরের খবরটা বাইরে পাঠিয়ে সালাহউদ্দিনের বুকে-পিঠে তির ছোড়া হতো। সংগঠন পরিচালনায় ভুলভ্রান্তি নিয়ে সমালোচনার সুযোগ থাকলেও সেদিকে না গিয়ে ঘুরেফিরে সালাহউদ্দিনকে হঠাও।
জাতীয় দলের পারফরম্যান্স সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে দেশের ফুটবলকে। জাতীয় দলের পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনা করেছেন ফুটবল দর্শকরা। কিন্তু যারা সালাহউদ্দিন বিরোধী তারা জাতীয় দলের পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনা করেন না। কোন ফুটবলার কেন জাতীয় দলে ঢুকল, দলের প্রয়োজনে কাকে রাখা দরকার। কাকে বাদ দেওয়ায় দলের ক্ষতি হলো, এসব কথা সমালোচকদের মুখে শোনা যায়নি। এসব নিয়ে কখনো ন্যাশনাল টিমস কমিটির সমালোচনাও করা হয় না। সালাহউদ্দিনের সমালোচনা করেও বলা হয় না, কেন কমিটির কাছে ব্যর্থতার জবাব চাওয়া হয় না। এতো সুযোগ সুবিধা পেয়েও কেন জাতীয় দল সাফল্য দিতে পারছে না। ফুটবলারদের কাছে জবাব চাওয়া হয় না। এমনকি কোনো পরামর্শও দিতে দেখা যায় না। যা কিছুই ঘটুক, ঘুরে ফিরে সালাহউদ্দিনকে গালমন্দ করতে গিয়ে অর্পিত দায়িত্ব পালনকারী কমিটির ব্যর্থতা আড়ালেই থেকে গেছে। কর্মকর্তা নির্ভাবনায় থেকেছেন। একজন বিদেশি কোচ ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার আগে বলে গিয়েছিলেন ফুটবলের পৃথিবীতে জাতীয় দল ব্যর্থ হলে কোচের চাকরি যায়। আর বাংলাদেশে দেখলাম কোচ-খেলোয়াড়কে নিয়ে কথা হয় না। মন্ডুপাত করা হয় সভাপতিকে।
