দেশের সর্বোচ্চ তাপে পুড়ছে চুয়াডাঙ্গা

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২৩, ২০:৫০

তীব্র তাপপ্রবাহে প্রচণ্ড গরমে চুয়াডাঙ্গায় জনজীবনে রীতিমতো হাঁসফাঁস অবস্থা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের প্রখরতা আরও বেড়েছে। দাবদাহের কারণে দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রায় পুড়ছে এই জেলা।

বৃহস্পতিবার (১৩ এপ্রিল) বেলা ৩টার দিকে চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ থেকে এখন তীব্র তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক রাকিবুল হাসান। 

এদিকে সূর্যের প্রখর তাপে সাধারণ মানুষের জীবন পুরোপুরিভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি না হওয়া আর প্রচণ্ড রোদে ঘর থেকে বেরোতে পারছেন না শ্রমিক, দিনমজুরসহ খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। ভ্যান-রিকশা চালকরা গরমে অস্থির হয়ে পড়েছেন। 

একটু প্রশান্তির খোঁজে গাছের ছায়া ও ঠাণ্ডা পরিবেশে গা এলিয়ে দেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তা ঘাটে লোকজনের চলাচল সীমিত হয়ে পড়ে। আবার অনেকে জরুরি প্রয়োজন ও জীবন-জীবিকার তাগিদে তাপদাহ উপেক্ষা করে কাজে বের হচ্ছেন। অনেক পথচারী ছাতা মাথায় দিয়ে চলাচল করছেন। এছাড়া গরমে সদর হাসপাতালে রোগী ও স্বজনদের হাঁসফাঁস অবস্থা। 

চুয়াডাঙ্গা সদরের তালতলা গ্রামের শ্রমিক কালু বলেন, আমি রাজমিস্ত্রীর কাজ করি। তবে আজকে রোদের তেজের কারণে গরমে কাজ করতে পারছি না। গত কয়েকদিন যাবত প্রচণ্ড গরম পড়লেও আজকে গরমে কাজ করা মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। এমন কয়েকদিন হলে কাজে আসা সম্ভব না।

বেসরকারি চাকরিজীবী তারিক আহমেদ বলেন, মোটরসাইকেলযোগে বিভিন্নস্থানে মার্কেটিংয়ের কাজ করি। মোটরসাইকেল চালালে বাতাসে স্বস্তি লাগলেও আজ রোদের প্রখরতার কারণে মনে হচ্ছে গরম হাওয়ায় পুড়ে যাচ্ছে শরীর। রোজা আছি। এই গরমে বেলা ১২টার আগেই গলা-বুক যেন শুকিয়ে আসছে। 

চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার সাতগাড়ি গ্রামের কৃষক হাসান আলি বলেন, ধানে পানি দিতে হচ্ছে প্রতিদিন। রোদের তাপে মাঠে টেকাই যাচ্ছে না। কিছুক্ষণ পর পর গাছের ছায়ার নিচে বসতে হচ্ছে। 

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান বলেন, গত ২ এপ্রিল থেকে টানা ১১ দিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে এ জেলায়। বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আদ্রতার পরিমাণ ছিল ১৫ শতাংশ। এটি এই জেলার এই মৌসুমেরও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।

জামিনুর রহমান আরও বলেন, আগামী এক সপ্তাহের পূর্বাভাসে কোনো বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখতে পারছি না। যার কারণে তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং তাপপ্রবাহ আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকবে। এ জেলায় চলমান তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে অতীতের রেকর্ড ভাঙতে পারে। চুয়াডাঙ্গায় যেভাবে তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙছে তাতে আগামী দিনে সেই রেকর্ড ভাঙতে পারে।

ইত্তেফাক/পিও