নারী ফুটবলে বাংলাদেশ সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে গত সেপ্টেম্বরে। তখনই বাফুফের সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী ঘোষণা দিয়েছিলেন তার প্রতিষ্ঠান এনভয় গ্রুপ থেকে ৫০ লাখ টাকা দেওয়া হবে চ্যাম্পিয়ন দলকে। সেই টাকা দিতে সাত মাস লেগে গেল। গতকাল বাফুফে ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে খেলোয়াড়দের হাতে টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়।
সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর বাফুফের সিনিয়র সহসভাপতি সালাম মুর্শেদী, সহসভাপতি আতাউর রহমান মানিক এবং বিসিবির ঘোষণাকৃত টাকা দেওয়া হচ্ছিল না। এ নিয়ে নানা সমালোচনা হয়। মিয়ানমারে দল না পাঠানোর ব্যর্থতার সমালোচনায় জড়িয়ে যায় ঘোষণা দিয়েও যারা টাকা দেয়নি তাদের নাম। মানিক এবং বিসিবি তাদের টাকা দিয়েছে। আর গতকাল সালাম তার প্রতিশ্রুতি রাখলেন।
বাফুফের সভাপতি সালাম মুর্শেদী টাকা তুলে দিয়ে বললেন, ‘দেরিটা অনিচ্ছাকৃত।’ তিনি বলেন, ‘কিরণ আপাকে ধন্যবাদ তিনি দীর্ঘদিন দলটাকে ধরে রেখেছেন। শুধু জাতীয় দল নয়, বয়সভিত্তিক দলও ভালো করছে। ১০ বছরের মধ্যে আরো ভালো করবে নারী ফুটবল দল। নতুনরা যেভাবে খেলছে তাতে বিশ্বকাপের স্বপ্ন দেখা যেতে পারে।’
উপহারের চেক গ্রহণ করে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন বললেন, ‘সবাই দেরি দেরি বলছেন। দেরিতে পেলেও এটার আনন্দ আছে। কারণ ঈদের সময় বাড়ি যাওয়ার আনন্দটা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। সবাই বাড়ি যাবে। ঠিক সেই সময় টাকা হাতে আসা মানে অন্যরকম একটা অনুভূতি।’
অনুষ্ঠানে সালাম মুর্শেদী চ্যাম্পিয়ন খেলোয়াড়দের হাতে টাকা তুলে দেবেন, তাই আনুষ্ঠানিকতা। ডাকলেন সংবাদ মাধ্যমকে। সালাম মুর্শেদী তার স্ত্রী শারমিন সালাম এবং ছেলে ইশাম সালামকে নিয়ে আসার কথা থাকলেও স্ত্রী আসতে পারেননি। সালাম বললেন, ‘ট্র্যাফিক জ্যামের কারণে আসেননি। ছেলে ইশাম সালামকে পরিচয় করিয়ে দিলেন। এই ছেলে কানাডায় পড়াশোনা করে এসেছেন। এখন তার ছেলেমেয়ে ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়েছেন। সালাম বললেন,‘আগামীতে আমার ছেলেমেয়েও ক্রীড়াঙ্গনে থাকবেন। তারা নারী ফুটবলে ফ্র্যাঞ্চাইজি দল গড়বে।’
মিয়ানমারে দল না পাঠানোর জেরে বাফুফেকে এখনো আগুনে পুড়তে হচ্ছে। আর বাফুফের ঘরের মানুষ হয়ে আগুনে ঘি ঢালছেন কোনো কোনো কর্মকর্তা। বাফুফের সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আমি জানিই না। আমরা এলাকায় ছিলাম (খুলনায়)। মেয়েরা কেন খেলতে যাবে না। আমি ফাইন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান। আমাকে বলা হলে আমার কমিটি চেষ্টা করত। সৌদি আরবে জাতীয় দল গিয়েছে। বাজেট দেওয়া হয়েছিল। সাফের আগে কাতারে যাবে। বাজেট দেওয়া হয়েছে। মেয়েদের ব্যপারে আমার হাতে বাজেট দেওয়া হয়নি।’ তিনি বলেন,‘বাজেট দেওয়া হলে আমরা চেষ্টা করতাম কীভাবে কী করা যায়।’
খেলোয়াড়রা কত টাকা পেলেন?
সালাম মুর্শেদীর ৫০ লাখ টাকা ৩৪ জনের মধ্যে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে কোচ কর্মকর্তা মিলে ১০ জন আর খেলোয়াড় ২৪ জন। কোচ খেলোয়াড় পেয়েছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার টাকা করে। কর্মকর্তারা পেয়েছেন ১ লাখ করে। এর মধ্যে বাফুফের সদস্য এবং দলনেতা জাকির হোসেন চৌধুরী ১ লাখ টাকা না নিয়ে নগদ টাকা খেলোয়াড়দের মধ্যে ভাগ করে দেন।
সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর নানা দিক থেকে টাকা পেয়েছেন। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিবারই এই ফুটবলারদের টাকা দেন। সবরকম সহযোগিতা দেন। নানা সমস্যায় পাশে থাকেন। এবার সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরও ডেকে নিয়ে সংবর্ধনা দিয়েছেন। টাকাও দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও সেনাবাহিনী, সম্মিলিতি সাংস্কৃতিক জোট, আম্বার গ্রুপ, প্রথম আলো, রূপায়ন গ্রুপ, এনভয় গ্রুপ, আতাউর রহমান মানিক এবং বিসিবি অর্থ পুরস্কার দিয়েছে। তাতে দেখা যায় এক একজন ফুটবলার প্রায় ১৬ লাখ টাকা পেয়েছেন।
