রংপুর জুড়ে বেড়েছে ভাইরাসজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব

আপডেট : ২১ জুন ২০১৯, ২০:৪১

আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে নানান রোগে আক্রান্ত হয়েছে রংপুর জেলাসহ আট উপজেলার হাজার হাজার মানুষ। বেড়েছে ভাইরাস জনিত জ্বর-ডাইরিয়াসহ নানান রোগের প্রাদুর্ভাব। জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘরে ঘরে রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুসহ সব বয়সের মানুষ। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধদের সংখ্যাই বেশি। 

গতকাল বুধবার রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে আক্রান্ত মানুষের উপচে পড়া ভীর। কাউনিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে বেশ কিছু শিশু রোগী দেখা গেলেও তারা চিকিৎসা পাচ্ছে না ডাক্তারের অভাবে। অনেকে ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত হয়ে প্রায় স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকদের কাছে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অজ্ঞ পল্লী চিকিৎসকরা অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে চিকিৎসা করান। 

ইত্তেফাকের পীরগাছা, মিঠাপুকুর, গংঙ্গাচড়া, তারাগঞ্জ, বদরগগঞ্জ, পীরগঞ্জ, কাউনিয়া সংবাদদাতারা জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১০ দিনে ভাইরাস ও আবহাওয়া জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশুসহ প্রতিটি ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গড়ে প্রায় ৭ শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন ভর্তি হচ্ছেন ৪০ থেকে ৫০ জন রোগী। প্রতিদিন বহির্বিভাগ ও জরুরী বিভাগেও শতাধিক শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। 

ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে গেলে, বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা অভিযোগ করেন, শিশুকে নিয়ে সেবা নিতে এসে দেখি ডাক্তারের কক্ষে তালা লাগানো। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে বেশ কিছু শিশু রোগী দেখা গেলেও তারা চিকিৎসা পাচ্ছে না ডাক্তারের অভাবে। যে সকল রোগী ৭-১০ দিনের আক্রান্ত তারা ছুটছেন জেলা শহরের ক্লিনিকগুলোতে। 

আরো পড়ুন: বেগম জিয়ার মুক্তির পথে বাধা তাদের বক্তব্যেই প্রমাণ: খসরু

এদিকে কাউনিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টি.এইচ.ও ডা. মো. আসিফ ফেরদৌস বলেন, পূর্বে আমরা তিনশ থেকে সাড়ে তিনশ রোগীকে বহির্বিভাগে চিকিৎসা দিতাম। এখন চার থেকে পাঁচগুণ রোগীর চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। এখানে পদ থাকলেও কোন শিশু বিশেষজ্ঞ নেই। আইএমসি কর্নারে প্রতিদিন এক থেকে দেড় শতাধিক শিশু রোগীর চিকিৎসা দিচ্ছেন সিনিয়র স্টাফ নার্স হেমন্ত কুমার।

রংপুরের সিভিল সার্জন ডা.আবু মো. জাকিরুল ইসলাম ইত্তেফাককে জানান, তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় এবং হঠাৎ বৃষ্টির কারণে জেলায় ভাইরাস জনিত জ্বর ও ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা দেখা দিয়েছে। এটি ছোঁয়াচে রোগ। রোগীকে সেবা দানকারী ব্যক্তিকে অবশ্যই মাক্স ব্যবহার করে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। অন্যথায় ছড়িয়ে পড়বে। রোগীকে লেবুর সরবতও নিয়মিত খাবার খেতে হবে। আক্রান্তের ৩/৪ দিন অ্যান্টিবায়োটিক সেবন না করে পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। তবে আক্রান্তের ৫ দিন অতিবাহিত হলে নিকটস্থ কমিউনিটি ক্লিনিক বা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

ইত্তেফাক/জেডএইচ