পাবনার সুজানগরে এক সময়ের প্রমত্ত পদ্মা নদী এখন ধুধু বালু চরে পরিণত হয়েছে। এতে নদী তার অতীত ঐতিহ্য ও অস্তিত্ব হারাতে বসেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাত্র পাঁচ মাসের ব্যবধানে দীর্ঘ ৬ কিলোমিটার পদ্মা নদীর সাড়ে ৫ কিলোমিটার শুকিয়ে ধুধু বালু চর জেগে উঠেছে। মাত্র আধা কিলোমিটার পদ্মায় পানি রয়েছে। যেটুকুতে পানি রয়েছে তাতেও কোনো বড় এবং ভারি নৌযান চলাচলা করতে পারে না। পানি একদম কমে যাওয়ায় শুধু ছোট ছোট নৌযান চলাচল করে।
উপজেলার নারুহাটি গ্রামের পদ্মাপাড়ের বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য খলিলুর রহমান বলেন, বেশি দিন আগের কথা নয়, প্রচণ্ড স্রোতস্বিনী প্রমত্ত পদ্মার গর্জনে মাঝি মাল্লারা সাহস পায়নি পদ্মার বুকে তার খেয়া নৌকা চালাতে বা জেলে মাছ ধরা নৌকা চালাতে সাহস পায়নি। এমনকি অনেক সময় পদ্মার বিশাল ঢেউয়ের ভয়ঙ্কর গর্জনের মুখে ফেরি কিংবা স্টিমারের মতো ভারি নৌযানও চলতে সাহস পায়নি। শুধু তাই না সে সময় পদ্মার প্রচণ্ড স্রোত আর বিশাল ঢেউয়ের গর্জনে পদ্মা পাড়ের মানুষ ভয়ে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছে। কিন্তু কালের আবর্তনে সেই প্রমত্ত পদ্মা এখন শুকিয়ে শীর্ণ একটি খালে পরিণত হয়েছে। এখন পদ্মার বুক জুড়ে জেগে উঠেছে ধুধু বালু চর আর বালু চর।
উপজেলার শ্যামনগর গ্রামের দেলোয়ার হোসেন বলেন, পাবনার সাতবাড়ীয়া পদ্মা নদীর খেয়াঘাট হতে রাজবাড়ীর হাবাসপুর খেয়াঘাট পর্যন্ত পদ্মা নদীর দূরত্ব প্রায় ৬ কিলোমিটার। পাঁচ মাস আগেও দুজেলার হাজার হাজার মানুষ ব্যবসা বাণিজ্যসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে ওই নৌ-পথে খেয়া নৌকায় যাতায়াত করতেন। বিশেষ করে দুই জেলার মানুষ বাণিজ্যিকভাবে সবজি এবং মাছ বেচাকেনার জন্য পদ্মা নদী পারি দিয়ে স্থানীয় হাট-বাজারে যেতেন। কিন্তু মাত্র পাঁচ মাসের ব্যবধানে দীর্ঘ ৬ কিলোমিটার পদ্মা নদীর সাড়ে ৫ কিলোমিটার শুকিয়ে ধুধু বালু চর জেগে উঠেছে। আর মাত্র আধা কিলোমিটার পদ্মায় পানি রয়েছে।
ভুক্তভোগী খেয়া নৌকার যাত্রী উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামের দুলাল হোসেন বলেন, বর্তমানে পদ্মা নদীর সাড়ে ৫ কিলোমিটার চর পায়ে হেঁটে আর মাত্র আধা কিলোমিটার পদ্মা খেয়া নৌকায় পার হয়ে পাবনা এবং রাজবাড়ীর অভ্যন্তরে যাতায়াত করতে হয়। এতে খেয়া নৌকার যাত্রীদের অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
পদ্মাপাড়ের বাসিন্দারা জানান, সহসা বৃষ্টি না হলে আধা কিলোমিটার পদ্মার পানিও শুকিয়ে যেতে পারে। এতে করে নদী সম্পূর্ণভাবে তার অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলতে পারে।
পাবানা ২ আসনে সংসদ সদস্য ফিরোজ কবির জানান, পদ্মার অস্তিত্ব রক্ষায় নব্যতা বৃদ্ধিতে ড্রেজিং কার্যাক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। আসছে বর্ষা মৌমুসে ড্রেজিং কার্যক্রম সম্পূর্ণ হলে নব্যতা বৃদ্ধি পাবে। এতে খেয়া নৌকাসহ অন্যান্য নৌযান চলাচলের সুবিধা বৃদ্ধি পাবে।
