জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের সংসদ সদস্য নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন বলেছেন, এশিয়ার মধ্যে বড় কনভেনশন সেন্টার ‘মুজিব কনভেনশন সেন্টার’ শিবচরে হতে যাচ্ছে। যেখানে ১০ হাজার মানুষের ধারণ ক্ষমতা থাকবে। শিবচরে তাঁতপল্লি নির্মাণাধীন। হাউজিং প্রকল্প হয়েছে। স্পোর্টস সিটি করতে যাচ্ছি যেখানে অলিম্পিক ইভেন্টসহ দেশ বিদেশের খেলাধুলা এ মাটিতে হবে। তাই শিবচরের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
শনিবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার নূর-ই-আলম চৌধুরী অডিটোরিয়ামে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি ২৭৬ জন মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহার ট্যাব বিতরণ, দুস্থ ও অসহায় নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করেন।
চিফ হুইপ বলেন, আগামী ১০ বছর শিবচরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এখানকার উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করতে পারলে শিবচরকে আর পেছনে তাকাতে হবে না। ইনশাল্লাহ্ শিবচরকে সব থেকে আধুনিক উপজেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারব।
তিনি বলেন, প্রধান শিক্ষকরা ঝাড়ুদার রাখবেন না। আত্মীয়-স্বজনকে চাকরি দেবেন। একটা বাল্বও লাগাবেন না। সেই স্কুল যতদিন পরিবেশ ভালো না হবে সেখানে কোনো অনুদান দেওয়া হবে না। সেই প্রধান শিক্ষককে আগেই বললাম, আমার কাছে আসবেন না। আপনাদের বর্ধিত করা হবে না।
তিনি আরও বলেন, সব স্কুল-মাদ্রাসায় ভবন করে দিয়েছি। কিন্তু অনেক স্কুলে বাতি কেনা হয় না। অন্ধকারের মধ্যে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা করানো হয়। এক স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বেতন বন্ধ করেছিলাম কারণ তার নিজের রুমের ফ্যানও নষ্ট। নিজের রুমের বাল্বও নাই। কোনো স্কুলে দেখা যাচ্ছে প্রধান ফটকের সামনে টয়লেট করে রেখেছে। পরিবেশ ভালো করতে হবে। যে প্রধান শিক্ষক পারবেন না চাকরি ছেড়ে চলে যান। যে সভাপতি পারবেন না সে পদ ছেড়ে দেন।
নূর-ই-আলম চৌধুরী বলেন, অনেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা বাড়িতে বসে অফিস করে। অফিসে যাওয়াটাই একটা কাজ। ডিজিটাল যুগে সব কাজই অফিসে বসে করা যায়। আপনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদে যাবেন না। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সেবা দেবেন না। ভবিষ্যতে দলের কাছে আপনাকে জবাবদিহি করতে হবে।
জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের উদ্দেশে চিফ হুইপ বলেন, এখানে অনেক চেয়ারম্যান ও নেতা আছেন। চুরির মামলায় তদবির করেন। অথচ ভালো কাজে ফোন করে না। পাবলিক আমাকে ম্যাসেজ দিয়েছে রাস্তা নষ্ট। চেয়ারম্যানদের বলার পর বলে, ‘স্যার রাস্তাটা নষ্ট হয়েছে’। এই হলো নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অবস্থা। এখান থেকে আমাদের পরিবর্তন হতে হবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মারুফুর রশিদ খান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুনির চৌধুরী, পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, শিবচর উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আ. লতিফ মোল্লা, পৌর মেয়র মো. আওলাদ হোসেন খান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাজিবুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শাজাহান মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. সেলিম, পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি তোফাজ্জেল হোসেন খানসহ আরও অনেকে।
