বিতর্কিত আম্পায়ার ইস্যু

আমাদের নতুন আম্পায়ার আনতে হবে: আম্পায়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২৩, ০৪:৩১

দেশের ঘরোয়া ক্রিকেট লিগগুলো পরিচালনা করা হয় দেশি আম্পায়ার দ্বারাই। তবে নিয়মিত প্রশ্ন ওঠে তাদের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে। প্রতিবারই দেশের বিভিন্ন লিগের ম্যাচে তা বিতর্ক সৃষ্টি করে। এর আগে ২০২১ সালে বিতর্কিত আম্পায়ারিং ইস্যুতে প্রতিবাদস্বরূপ মাঠেই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান লাথি দিয়ে স্ট্যাম্প ভাঙার মতো ঘটনা ঘটিয়েছিল। তবে আম্পায়ারিংয়ের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি, আগের মতোই চলছে সব। চলমান ডিপিএলেও দেখা গেলেও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে হতাশায় ভুগছেন খেলোয়াড়রা। তার মধ্যে কয়েক দিন আগে ডিপিএলের এক ম্যাচে টাইগার সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাকে দেখা গেছে আম্পায়ারিং ইস্যুতে হাতাশা প্রকাশ করতে। শুধু তাই নয়, কয়েক দিন আগে বিতর্কিত আম্পায়ারিং নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে জরিমানা গুনতে হয়েছে টাইগার অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজকেও। সম্প্রতি এসব বিষয় নিয়ে গতকাল বৈঠকে বসে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের আম্পায়ার্স কমিটি। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আম্পায়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমেদ মিঠু। এ সময় তিনি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নতুন আম্পায়ার নেওয়া, তাদের উচ্চ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করাসহ দেশের ক্রিকেটারদের সহায়তা কামনা করেন।

শনিবার মিরপুর শের-ই-বাংলায় আম্পায়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমেদ মিঠু বলেন, ‘আমরা পরিকল্পনা করেছি নতুন আম্পায়ারের জন্য কয়েক দিন পর বিজ্ঞপ্তি দেব। তখন যারা ছেলেমেয়ে দুই পক্ষ থেকে আগ্রহী তারা আসবে। এটা কিন্তু একটা প্রক্রিয়া। আমাদের নতুন আম্পায়ার আনতে হবে, ঐ পরিকল্পনাই যাচ্ছে। বিশেষ ট্রেনিং এইড কী আনা যায় এটাও আমরা চেষ্টা করছি।’ বিসিবির নতুন আম্পায়ার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘আমরা চাইব (নতুন আম্পায়ার)। প্রতি বছরই চাই। আমাদের ওয়েবসাইটে দেখবেন। এটা তো এমন না যে কাগজে বিজ্ঞপ্তি দেব। আমাদের ওয়েবসাইটে দেব। আমাদের একটা মিনিমাম রিক্রুটমেন্ট যাবে। এরপর যারা যারা আসবে আস্তে আস্তে উঠবে।’

এ সময় খেলোয়াড়রা মাঠে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন উল্লেখ করে মিঠু বলেন, ‘খেলোয়ড়রাও কিন্তু বেশি প্রতিক্রিয়া দিচ্ছেন। যেটা আদর্শের বাইরে। এরপর যখন সিসিডিএমের সঙ্গে আলোচনা করব, তারা নিয়মটা বানায়। আলাপে এটা আনতে হবে আমাদের। ক্রিকেটারদেরও ঠান্ডা হতে হবে। এরকম প্রতিক্রিয়া আপনি দেখাতে পারেন না মাঠে। ভুল করছে আম্পায়ার তবুও। আমি শতভাগ অভয় দিতে পারি, ইচ্ছেকৃত সিদ্ধান্ত হচ্ছে না।’

এক পর্যায়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মতো ঘরোয়া ক্রিকেটেও কড়াকড়ি নিয়ম এবং এতে খেলোয়াড়দের সহায়তা কামনা করে তিনি বলেন, ‘এটা আমিও মনে করি। আমরাও যখন খেলতাম প্রেশার টেকটিকস ব্যবহার করতাম। এটা কিন্তু খেলোয়াড়রা করবেনই। কিন্তু তখনকার নিয়ম ও এখনকার নিয়মে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এটা একদম বন্ধ। কিছু অসন্তোষ দেখালেই ম্যাচ ফাইন। আমরাও আস্তে আস্তে ঐ লেভেলে যাচ্ছি। যেরকম দেখেন মিরাজের ঘটনাতেও সর্বোচ্চ জরিমানা করা হয়েছে। আমার মতে এটা খেলোয়াড়দের করা উচিত না। বাংলাদেশের খেলোয়াড়দেরও আমাদের সাহায্য করা উচিত ক্রিকেটের মান উন্নয়নে।’

 

 

ইত্তেফাক/ইআ