আগুনের সঙ্গে ফুটওভারব্রিজ ভাঙার যোগসূত্র আছে?

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২৩, ০৮:০৩

রাজধানীর নিউ সুপার মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে নিউ মার্কেটসংলগ্ন ফুটওভার ব্রিজটি ভাঙার যোগসূত্র খুঁজছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, আগুন ও ফুটওভার ব্রিজ ভাঙার মধ্যে যোগসূত্র আছে। তবে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দায়িত্বশীলরা বলছেন, নিউ মার্কেট ও গাউছিয়া মার্কেটের মধ্যকার ফুটওভার ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ঈদে বাড়তি চাপে বড় দুর্ঘটনা এড়াতে সিঁড়ির কিছু অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

নিউ মার্কেটের তৃতীয় তলার বুটিক ব্যবসায়ী মো. সজিব হোসেন বলেন, ‘সারা বছর ব্রিজ ভাঙার খবর নাই। এই ঈদের আগে চোরের মতো রাতের আঁধারে কেন ব্রিজ ভাঙতে হবে? পরশু দিন আর গতকালকে রাতে ব্রিজ ভাইঙা দিছে, যাতে মানুষ না উঠতে পারে। আজকে লাগছে আগুন। নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ীদের শেষ করতে এটা করা হইছে।’

ফুটওভার ব্রিজের সিঁড়িগুলো ভেঙে ফেলায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে আগুন ও ফুটওভার ব্রিজ ভাঙার মধ্যে কী যোগসূত্র রয়েছে, তা স্পষ্ট করতে পারেননি ক্ষতিগ্রস্তরা। তারা বলছেন, রাতের আঁধারে এটি ভাঙতে গিয়ে বিদ্যুতের শক সার্কিট থেকে আগুন লাগে। তবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী সালেহ আহম্মেদ সাংবাদিকদের বলেছেন, বড় দুর্ঘটনা এড়াতে ব্রিজের ব্যবহার বন্ধ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এটা ভেঙে নতুন ফুট ওভারব্রিজ বানানো নিয়ে জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি রয়েছে। আমরা বারবার পিছিয়ে যাচ্ছিলাম। এই ঈদে ওভারলোড হয়ে যেন কোনো বড় দুর্ঘটনা না ঘটে, সেজন্য সিঁড়ির দিকে সামান্য ভাঙা হয়েছে। এটা করা হয়েছে, মানুষ যাতে অবাধে চলাফেরা না করতে পারে। বেশি মানুষ উঠলে ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার চান্স আছে।

দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবু নাছের বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ আড়ালে রাখতেই সন্দেহের তির সিটি করপোরেশনের দিকে।’ তার দাবি, অগ্নিকাণ্ডের কবলে পড়া মার্কেটটি অপসারণ করা পাকা ব্রিজ থেকে বেশ দূরে। এই অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে সিটি করপোরেশনের কোনো সম্পর্ক নেই। ঈদবাজার বিবেচনায় নিয়ে রাতে সিটি করপোরেশন ঝুঁকিপূর্ণ ফুটওভার ব্রিজটি অপসারণে যায়। অগ্নিকাণ্ডের আগেই আমাদের টিম কাজ শেষ করে চলে আসে। এর প্রায় ৩০ মিনিট পর আগুনের ঘটনা ঘটে।’

 

ইত্তেফাক/ইআ