বাক্প্রতিবন্ধী লাভলী খাতুনকে (২৮) নীলফামারী থেকে ২০১০ সালে উদ্ধার করেছিল পুলিশ। ওই বছরই তাকে পাঠানো হয় রাজশাহী জেলার পবা উপজেলার বায়ায় অবস্থিত সেফ হোমে। ১৩ বছর পর শনিবার (১৫ এপ্রিল) বিকালে ওই সেফ হোম কর্তৃপক্ষ ধুমধাম করে তার বিয়ে দিয়েছেন।
এই বিয়েতে রাজশাহী জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ, পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেনসহ ১০০ অতিথি উপস্থিত ছিলেন।
লাভলী খাতুনের বরের নাম মো. হাবিব (৪২)। বাড়ি নগরের বড়বনগ্রাম দুরুলের মোড় এলাকায়। তিনি রাজশাহী শহরে অটোরিকশা চালান। মো. হাবিবের আগের স্ত্রী দুই বছর আগে মারা গেছেন। আগের স্ত্রীর পক্ষের তিনটি ছেলে রয়েছে, যা ইশারা ভাষায় বোঝানো হয়েছে লাভলীকে। সব জেনে তিনি খুশিমনে এই বিয়েতে রাজি হয়েছেন। সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত পবা উপজেলার বায়ায় অবস্থিত সেফ হোমটির নাম ‘শিশু-কিশোরী হেফাজতিদের নিরাপদ আবাসন’।
বিয়ের আসরে সেফ হোম ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি রাজশাহী জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ বলেন, এটি একটি মানবিক কাজ। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিয়ের ব্যবস্থা করার জন্য আদালতে তাঁদের জামিন নিতে হয়। লাভলী খাতুনের সঙ্গে হাবিব পারিবারিক বন্ধনে আবদ্ধ হলেন। বিয়েতে নিজেরা খুশি বলে জানিয়েছেন তারা। অভিভাবকহীন এই তরুণীকে বিয়ে দিতে পেরে আমরাও খুশি।
এই বিয়েতে অতিথি হিসেবে এসেছিলেন রাজশাহী পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেনও। তিনি বলেন, মেয়েটির কোনো ঠিকানা ছিল না। তিনি একটা সংসারের ঠিকানা পেলেন। বিয়েতে তাকে খুবই খুশি লাগছিল।
অনুষ্ঠানে অতিথি ছিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কল্যাণ চৌধুরী, পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) অভিজিত সরকার, রাজশাহী সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হাসিনা মমতাজ, রাজশাহীর নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) মো. শামসুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক আবদুল্লা আল ফিরোজ, সেফ হোমের উপ-তত্ত্বাবধায়ক লাইজু রাজ্জাকসহ অনেকে। এছাড়া বরযাত্রী এসেছিলেন আরও প্রায় ২০ জন।
সেফ হোমে গিয়ে দেখা যায়, বিয়েতে আয়োজনের কোনো কমতি নেই। বর মো. হাবিবের তিন ছেলে বাবার পাশে বসে আছে। বিয়ের দেনমোহর ঠিক করা হয় এক লাখ টাকা। বরের ছেলে মেহেদী হাসান বলেন, বাবার বিয়েতে খুশি তারা।
সেফ হোমের উপ-তত্ত্বাবধায়ক লাইজু রাজ্জাকসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিয়ে উপলক্ষে সাজগোজ করেই আসেন। লাইজু রাজ্জাক বলেন, লাভলী খাতুন নিজের সংসারে সুখে থাকবেন। এটা ভেবে তার আনন্দ। এর আগে ২০২১ সালের ২০ নভেম্বর শিরিনা ও অন্তরা নামে ঠিকানাহীন দুই মেয়েকে তিনি এভাবে বিয়ে দিয়েছেন। শিরিনার একটি ছেলে ও অন্তরার একটি মেয়ে রয়েছে। তারা সুখে আছেন।
