রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে মইদুল ইসলাম সোনা (৪০) নামে এক কৃষককে হাতে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে বাসা থেকে তুলে নিয়ে মুক্তিপণ দাবিসহ অকথ্য নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার ৬ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও মামলা রেকর্ড করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ এপ্রিল। রাত প্রায় ১টা। গঙ্গাচড়া উপজেলার আলমবিদিতর ইউনিয়নের চওড়াপাড়া গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে কৃষক মইদুল ইসলাম সোনা মিয়ার বাড়িতে আসে যান ডিবি পুলিশ পরিচয়ে অজ্ঞাত ৭/৮জন ব্যক্তি। এ সময় তারা সোনা মিয়ার হাতে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হলো জানিয়ে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় স্ত্রী সাথী বেগম তার স্বামীকে গ্রেপ্তারের কারণ জানতে চাইলে তাকে পিটিয়ে আহত করে তারা। একপর্যায়ে সোনা মিয়াকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় ডিবি পুলিশ পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিরা। ঘটনার পর অপহৃত সোনা মিয়ার বাবা নুর ইসলাম স্থানীয় ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম ও চেয়ারম্যানকে তাৎক্ষণিকভাবে পুরো বিষয় অবহিত করেন।
খবর পেয়ে ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম অপহৃত সোনা মিয়ার বাসায় যান। পরে সোনা মিয়ার খোঁজে আলমবিদিতর খানাটারী গ্রামের মৃত নুরু মিয়ার ছেলে সুরুজ মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে বেড়িয়ে পড়েন ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম। একপর্যায়ে রাত ৩টার দিকে সুরুজ মিয়া মোবাইল ফোনে অপহৃত সোনা মিয়ার বাবা নুর ইসলামকে ডেকে নিয়ে তার ছেলের মুক্তির জন্য পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এবং বলে, ওই পরিমাণ টাকা দিলে অপহরণকারীরা তার ছেলেকে ছেড়ে দেবেন। তাৎক্ষণিক ওই পরিমাণ টাকা না থাকায় কিছু টাকা সুরুজের হাতে দেন অপহৃত সোনা মিয়ার বাবা নুর ইসলাম। এ সময় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে অপহৃত সোনা মিয়াকে উদ্ধারের কথা জানিয়ে আবারও মোটরসাইকেল নিয়ে বেরিয়ে যান সুরুজ মিয়া। এর কিছু সময় পর সুরুজ মিয়া মোবাইল ফোনে অপহৃত সোনা মিয়ার বাবা নুর ইসলামকে পার্শ্ববর্তী নোহালী ইউনিয়নের জনৈক ওয়াযানুর ইসলামের চাতালের সামনে যেতে বলেন। তখন বাবা নুর ইসলাম তার ভাতিজা ও ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে ওই জায়গায় গিয়ে অপহৃত ছেলে সোনা মিয়াকে গুরতর আহত অবস্থায় রাস্তায় বসে থাকতে দেখেন। পরে ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে বাসায় ফিরে আসেন তারা। পরদিন সকালে অপহৃত সোনা মিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে গঙ্গাচড়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেন বাবা নুর ইসলাম।
রোববার (১৬ এপ্রিল) বিকালে কয়েকবার গঙ্গাচড়া থানার ওসি দুলাল হোসেনের সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, একটু সমস্যা ছিল। তবে আজ (রোববার) মামলাটি রেকর্ড করা হবে বলে জানান।
