রূপগঞ্জের চনপাড়া বস্তি আবার উত্তপ্ত

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২৩, ০০:০৫

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের চনপাড়া বস্তির ডন বজলু মেম্বার গত ৩১ মার্চ মারা যাওয়ার পর থেকে সেখানে এখন চলছে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই। বস্তির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কবজায় রাখতে গত দুই সপ্তাহে সেখানে কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত চার জন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ২৫ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বস্তির আধিপত্য ধরে রাখা, আসন্ন ইউপি সদস্য পদে উপনির্বাচন আর প্রভাবশালীদের ইন্ধন এসব সংঘর্ষের মূল কারণ বলে জানা গেছে। 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর র‍্যাবের অস্ত্র ও মাদকবিরোধী অভিযানের সময় র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলা করে সেখানকার সন্ত্রাসীরা। এই হামলায় অংশ নেন বজলু মেম্বার, তার সহযোগী রাজা, সিটি শাহিনসহ আরো কয়েক জন। এই হামলার ঘটনায় তাৎক্ষণিক সন্ত্রাসী রাজাকে গ্রেফতার ও পরে গত ১০ নভেম্বর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা যান সিটি শাহিন। ঘটনার ১২ দিন পর বজলুকেও আটক করে র‍্যাব-১। এই পরিপ্রেক্ষিতে বজলুর প্রতিপক্ষ ডাকাত সমসের, সাহাবুদ্দিন এলাকায় প্রবেশ করে। সমসের, সাহাবুদ্দিন আর এক মহিলা লীগ নেত্রীর নেতৃত্বে নতুন গ্যাংয়ের উত্থান ঘটে চনপাড়ায়। তাদের নেতৃত্বে চলে চনপাড়ার সব ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ড। এদিকে, গত ৩১ মার্চ কারা হেফাজতে থাকা বজলু মেম্বার মারা গেলে বজলুর মেম্বার পদটি শূন্য হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় নতুন গ্যাং তৈরি করে আরেক মাদক সম্রাজ্ঞী ইয়াছমীন ও বজলুর ডানহাত হিসেবে পরিচিত জয়নাল। 

চনপাড়ায় নিজের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে দুই গ্যাংয়েরই পৃষ্ঠপোষকতা করার অভিযোগ উঠেছে এক জন প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। তারা জানান, ঐ প্রভাবশালীর আশ্রয়-প্রশ্রয়ে উভয় গ্যাং এখন বেপরোয়া। যখন তখন আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে শুরু হয় সংঘর্ষ। সর্বশেষ বস্তির আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত মঙ্গলবার রাতে জয়নাল গ্রুপের সঙ্গে সমসের গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে তিন জন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ২৫ জন গুরুতর জখম হয়। চনপাড়ায় এখন আবার নতুন করে শুরু হয়েছে ত্রাসের রাজত্ব। পাশাপাশি মাদক ব্যবসা, খয়ের পার্টি, মলম পার্টি, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, অস্ত্র ব্যবসাসহ সব ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ড চলছে আগের চেয়ে আরো অধিকভাবে। এসব অপরাধ কর্মকাণ্ডে সেখানকার নিরীহ বাসিন্দারা এখন শঙ্কিত। স্থানীয়দের মতে, রাজনৈতিক শেল্টার বন্ধ না হলে এই গ্যাংদের বিরুদ্ধে  ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়।

 

ইত্তেফাক/ইআ