টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়। সোমবার (১৭ এপ্রিল) বিকাল ৩টার দিকে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা অতি তীব্র তাপপ্রবাহ। এটি চলতি মৌসুমের জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে চুয়াডাঙ্গায় শনিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৪২.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিকে চলমান অতি তীব্র তাপদাহে নাকাল হয়ে পড়েছে জেলাবাসী। স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, তীব্র তাপদহে হাসপাতালে বাড়ছে গরমজনিত রোগীর সংখ্যা। গত এক সপ্তাহে হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ২৫০ জন, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ১৫২ জন, জ্বরসহ গরমজনিত অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়ে পুরুষ ও মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে ২৪০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়া বহির্বিভাগে প্রতিদিন চিকিৎসা নিচ্ছেন ৪ শতাধিক রোগী।
সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে তিনদিন আগে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত দুই বছর বয়সী মেয়েকে ভর্তি করেছেন সাবিনা খাতুন। তিনি বলেন, ‘মেয়ের হঠাৎ নিউমোনিয়া হয়েছে। ৩ দিন ধরে ভর্তি রয়েছে। ডাক্তার বলেছে আরও কয়েকদিন থাকতে হবে। এখানে রোগীর অনেক চাপ। ওয়ার্ডের ভেতরে কোনো জায়গা নেই। তাই মেয়েকে নিয়ে বারান্দায় আছি।’
শিশু বিশেষজ্ঞ মাহবুবুর রহমান মিলন বলেন, ‘তীব্র গরমে হাসপাতালে শিশু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। শয্যার চেয়ে প্রায় ৫ গুণ রোগী বেশি ভর্তি হয়েছে। তাই চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এই গরমের সময় শিশুদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বুকের দুধসহ তরল জাতীয় খাবার খাওয়াতে হবে।’
চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান বলেন, ‘কয়েকদিন যাবৎ চুয়াডাঙ্গা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার ওপর দিয়ে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। টানা ১৬ দিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়। আগামীকাল তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে।’
