বিদ্যুৎ-পানির জন্য হাহাকার চট্টগ্রামে

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২৩, ০০:১৪

জরুরিভাবে চট্টগ্রামে জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগ ও নগর কমিটির নেতৃবৃন্দ। প্রচণ্ড দাবদাহে অতিষ্ঠ জনগণ ভয়াবহ লোডশেডিং কবলিত হয়ে পড়ায় জনজীবনের গতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

ক্যাব নেতারা বলেন, দেশের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের প্রাণ ও অন্যতম বৃহৎ নগরী চট্টগ্রাম ও এর আশপাশের এলাকাগুলোতে চলছে বিদ্যুৎ ও পানির জন্য হাহাকার। বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী চট্টগ্রামে প্রতিদিন গড়ে বিদ্যুৎ প্রয়োজন ১ হাজার ১১০ মেগাওয়াট, সেখানে পাওয়া যাচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৫০ মেগাওয়াট। আর এ কারণে পুরো চট্টগ্রামে লোডশেডিং বেড়েছে প্রচণ্ড আকারে। এই পরিস্থিতির শিকার হচ্ছে চট্টগ্রাম ওয়াসাসহ বিভিন্ন শিল্প, কলকারখানা, দোকানপাট, শপিংমল ও বাসাবাড়ি। জানা যায়, গ্রামাঞ্চলে এই অবস্থা আরো ভয়াবহ।

নেতৃবৃন্দ বলেন, বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন সাত থেকে আট বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করে। গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লোডশেডিং বাড়ছে। বাড়ছে বিদ্যুৎ নিয়ে মানুষের কষ্টের সীমাও। বিদ্যুৎ বিভাগের বরাত দিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, চট্টগ্রামে ছোট-বড় ২৪টি বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে। এর মধ্যে ১৩টি কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। তারমধ্যে কাপ্তাই লেকের পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় পানির অভাবে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের চারটি ইউনিট বন্ধ রয়েছে।

নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চট্টগ্রামে চালু রয়েছে ১১টি বিদ্যুৎকেন্দ্র। এসব কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ২৫৮ মেগাওয়াট। কিন্তু এসব কেন্দ্র থেকে উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ৬৪৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এর মধ্যে খুঁড়িয়ে চলছে ৬টি। অন্যদিকে উৎপাদন ক্ষমতার অর্ধেক উৎপাদনে চলছে চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্র।  কাপ্তাই জল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে চারটি ইউনিট বন্ধ রয়েছে। এখন মাত্র ১ নম্বর ইউনিটে (৪৬ মেগাওয়াট) ২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। রাউজান তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৪২০ মেগাওয়াটের দুটি (প্রতিটি ২১০ মেগাওয়াট করে) বিদ্যুৎকেন্দ্র দীর্ঘদিন থেকে বন্ধ রয়েছে। শিকলবাহা ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ রয়েছে অনেক দিন ধরে। একই সঙ্গে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রটিও অনেক দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। হাটহাজারী ১০০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার প্ল্যান্টটিও অনেক দিন থেকে বন্ধ। ২৪ মেগাওয়াটের রিজেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। ১০০ মেগাওয়াটের এনার্জি প্যাক বন্ধ। এ দিকে বছরের পর বছর ধরে টেকনাফ সোলার প্ল্যান্ট ও কাপ্তাই সোলার প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, সহসভাপতি সাংবাদিক এম নাসিরুল হক, ক্যাব মহানগরের সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু, সাধারণ সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, ক্যাব চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সভাপতি আবদুল মান্নান প্রমুখ।

ইত্তেফাক/ইআ