অপশক্তি চিহ্নিত করিবার সময় এখনো আছে

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২৩, ০৩:১৮

দুঃখজনকভাবে দেশের জেলা-উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন পর্যন্ত একই চিত্র পরিলক্ষিত হইতেছে। একশ্রেণির স্বাধীনতাবিরোধীরা দোকান খুলিয়া বসিয়াছে। তাহারা মাদকব্যবসা হইতে শুরু করিয়া হেন কোনো অপরাধ নাই—যাহা স্থানীয় পর্যায়ে ঘটাইতেছে না। অথচ রক্ষাকবচ হিসাবে ব্যবহার করিতেছে ক্ষমতাসীন দলকে। আমরা এই কথা বারংবার বলিতেছি, বলিয়া আসিতেছি। ক্ষমতাসীন দলকে তাহারা ঢাল-তলোয়ার হিসাবে ব্যবহার করিতেছে। ইহা পূর্বেও ছিল, এমনকি মোগল আমলেও হয়তো ছিল। অবশ্য ইহাও সত্য, উন্নয়নশীল বিশ্বে ক্ষমতার কাছাকাছি না থাকিলে কিছু করা যায় না বলিয়া ধারণা করা হইয়া থাকে। সেই জন্যই সুযোগসন্ধানীরা পরিবর্তনের সঙ্গে থাকে। তাহারা যখন যেইখানে সুবিধা দেখিতে পায়, সেইখানে নিজের প্রকৃত ভোল পালটাইয়া ঢুকিয়া পড়ে। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলেরই বাছিয়া দেখা প্রয়োজন সুযোগসন্ধানীরা কী চাহে এবং তাহারা দলের জন্য কতটা শুভাকাঙ্ক্ষী হইতে পারে! যাহারা স্বাধীনতার বিরুদ্ধাচরণ করিয়াছে, যাহারা পূর্বপুরুষের সময় হইতে স্বাধীনতাকামী মানুষদের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন ছিলেন, তাহারাই যদি স্বাধীনতার ঝান্ডা জাতির হাত হইতে ছিনাইয়া লইতে উদ্ধত হইয়া উঠে, তাহা জাতির স্বাধীনতাকে বিপন্ন করিয়া তুলিতে পারে।

সুতরাং ক্ষমতাসীন দলের জন্য এখন কিছু ক্ষেত্রে লাগাম টানিয়া ধরা অতীব জরুরি হইয়া পড়িয়াছে। দেশে পুলিশ তথা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের প্রয়োজন রহিয়াছে নিশ্চয়ই। তাহারা অপরিহার্য। কিন্তু তাহারা কতটা সঠিকভাবে কাজ করিতে পারিতেছে অথবা করিতেছে—তাহা প্রশ্নবিদ্ধই থাকিয়া যাইতেছে। আর এই প্রশ্নবিদ্ধ হইবার কারণগুলি মোটেই অস্পষ্ট নহে। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের প্রকৃত কর্মীরা আরো কোণঠাসা হইয়া পড়িতেছে। রাজনৈতিক দলের মতোই প্রশাসনের চিত্রও একই রকম—আনুপাতিক সংখ্যায় ও চরিত্রগত বৈশিষ্ট্যে। সেইখানেও চতুরতার সঙ্গে, নিজেদের পরিচয়কে ঢাকিয়া ফেলিয়া আসন গাড়িয়া বসিতেছে স্বাধীনতা ও আওয়ামীবিরোধী চিন্তাধারার ব্যক্তিরা। অবস্থা যেই দিকে যাইতেছে তাহা আক্ষরিক অর্থেই আশঙ্কার কারণ হইয়া উঠিয়াছে। এই সকল স্বাধীনতাবিরোধীরা প্রশাসন ও রাজনীতির ময়দানে বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের নাম ভাঙাইয়া হেন কোনো অপরাধ নাই, যাহা করিতেছে না! এই নব্য অনুপ্রবেশকারীরা প্রশাসনের নিম্নপর্যায় হইতে উচ্চপর্যায় পর্যন্ত অসৎ কিছু ব্যক্তির যোগসাজশে সকল অপকর্মকে জায়েজ করিয়া লইতেছে!

এই পরিস্থিতি হইতে উত্তরণের উপায় কী, তাহা আমাদের জানা নাই। তাহার কারণ, দেশের বিভিন্ন স্থানে যাহাদেরকে এখন দলের দায়িত্ব দেওয়া হইতেছে, বলা যায় যাহারা নিজের স্কন্ধে দায়িত্ব তুলিয়া লইতেছে তাহাদের সম্পর্কে নির্লিপ্ত থাকিবার বিষয়টা যে কতটা ভয়াবহ হইয়া উঠিতে পারে—উহা কল্পনা করিলেও গা শিহরিয়া উঠিবার কথা। ইহা বারংবার স্মরণ করা দরকার যে এই সকল ব্যক্তির অন্যায়-অনিয়মের সকল দায়ভার গিয়া বর্তায় যিনি প্রধান নির্বাহী থাকেন তাহার উপর। আমরা ইহাও বুঝিতে পারি, ক্ষমতাসীন দলে অন্তর্ভুক্ত হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের মতো পরিস্থিতি দিনে দিনে স্তিমিত হইয়া যাইতেছে। কিন্তু বাংলায় একটি বহুল প্রচলিত প্রবাদে বলা হইয়াছে—অন্ধ হইলেই প্রলয় বন্ধ হয় না। তাই অন্তত চোখ খুলিয়া তাকাইয়া দেখিবার কথা আমরা বলিতে পারি। নিশ্চয়ই বিষয়টি সম্পর্কে সরকার আমাদের চাইতে অধিক অবগত আছে। এতত্সত্ত্বেও এই অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ না থাকায় দল ও প্রশাসন উভয় ক্ষেত্রেই অনুপ্রবেশকারীরা শক্তিশালী অবস্থান হইতে পরাক্রমশালীতে পরিণত হইতেছে। ইহা কঠিন এক সত্য যে প্রশাসন ও দলে সৎ, নিষ্ঠাবান ও আদর্শে বিশ্বাসীগণ হাল ছাড়িয়া দিতেছেন। কারণ চোখের সম্মুখেই তাহারা স্বাধীনতাবিরোধীদের আস্ফালন উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাইতে দেখিতেছেন এবং নিজেদের গুরুত্ব হারাইতে দেখিতেছেন। এই সকল ব্যক্তি তাহাদের সুবিধাজনক সময়ে কাটিয়া পড়িবেন, নূতন খোলস ধারণ করিবেন—ইহাও আজ মনে রাখা অপরিহার্য কর্তব্য। সুতরাং অপশক্তিগুলি চিহ্নিত করিয়া এখনই এই সকল অপশক্তির গতিরোধের চেষ্টা করিলে আগামী দিনে খানিকটা হইলেও তাহা উপশম হিসাবে কাজ করিতে পারে।

 

ইত্তেফাক/ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন