ফিফার সদর দপ্তরে বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ এবং আরো তিন কর্মকর্তাকে ডেকে নেওয়া হয়েছিল। তবে সোহাগকে বলা হয়েছিল তিনি যদি কাউকে সঙ্গে আনতে চান তারা ফিফার তদন্ত টেবিলে কথা বলতে পারবেন, তাদেরকে আনা যাবে। সোহাগ নিয়েছিলেন তার পছন্দের মানুষকে, একজন গ্রাসরুট ফুটবল ম্যানেজার হাসান মাহমুদ এবং অন্য জন প্রিমিয়ার লিগের কম্পিটিশন ম্যানেজার জাবের বিন আনসারি।
এই দুজন সোহাগের খুব ঘনিষ্ঠজন। তারা অনেক কাজের সঙ্গে জড়িত, আস্থাভাজন। এ কারণে ফিফার অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তারা সোহাগের মতো করেই কথা বলেছেন সেটা বুঝতে পারছে ফিফা। কিন্তু তারা বুঝাতে পারেননি। গ্রহণযোগ্য কথা বলতে পারেননি যে কারণে সোহাগের নিষেধাজ্ঞা এসেছে।
২০১২ সালে বাফুফেতে চাকরি নিয়ে ঢুকেছেন হাসান। এত অল্প সময়ের মধ্যে সোহাগের আস্থাভাজন হয়ে ওঠার সুযোগে হাসান নানা রকম দায়িত্ব পালন করতেন। কাতার বিশ্বকাপের টিকিট ছিল তার হাতে। কেউ টাকা দিয়ে টিকিট পায়নি আর কেউ টাকা ছাড়াই টিকিট নিয়ে খেলা দেখতে গিয়েছিলেন। বিশ্বকাপের টিকিট ফ্রি পাওয়া যায় না। কিনতে হয়।
কিন্তু হাসানের ক্ষমতা ছিল, তিনি পছন্দের মানুষকে ফ্রি দিয়েছেন। এবারের বিশ্বকাপে হাসান যত ম্যাচ দেখেছেন বোধকরি দেশের কোনো ধনকুব বিশ্বকাপের এত ম্যাচ দেখেননি। কথায় কথায় স্ত্রী নিয়ে দেশের বাইরে বেড়াতে যান। মহি উদ্দিন মহি জানিয়েছেন কারা সোহাগের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যে জড়িত। বাফুফেতে যারা চাকরি করেন তাদের বেশির ভাগই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। কেনাকাটার কাজ করতে গিয়ে এই হাসান-জাবেররা ফায়দা তুলেছেন বলে বাফুফের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মত। যে কোনো কেনাকাটার জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হয়। আর বাফুফের কিছু লোকজন রয়েছে তারা নিজেরাই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে মহি উদ্দিন মহি জানিয়েছেন।
