আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যস্থতায় সুদানে যুদ্ধরত সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা সত্ত্বেও সংঘাত থামেনি। জাতিসংঘ চলমান সংঘাতকে মানবিক বিপর্যয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সেই সঙ্গে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সংঘর্ষে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির তিন কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর সুদানে সংস্থাটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
সুদানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশটিতে চলমান সংঘাতে কমপক্ষে ২৭০ জন নিহত ও দুই হাজার ৬০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। জেনারেল ২ এর অনুগত বাহিনী সুদানের রাজধানী খার্তুমের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় লড়াই চালিয়ে যায়।
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য তারা একে অপরকে দোষারোপ করেছে। গতকাল স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা থেকে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কয়েকটি টিভি চ্যানেলের লাইভ ভিউতে ভারী গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়।
সেনাবাহিনী ও তার প্রতিদ্বন্দ্বী আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) পৃথক বিবৃতিতে একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতির প্রতি সম্মান না দেখানোর অভিযোগ করেছে। সেনাবাহিনীর হাইকমান্ড জানিয়েছে, তারা রাজধানী ও অন্যান্য এলাকা সুরক্ষিত রাখতে অভিযান অব্যাহত রাখবে।
সুদানের যুদ্ধবিরতি বিশৃঙ্খলে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফানি দুজারিক নিউইয়র্কে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, 'লড়াই থেমে গেছে এমন কোনো ইঙ্গিত আমি পাইনি।' চার দিন আগে সুদানের ক্ষমতাসীন কাউন্সিলের নেতা ও সামরিক প্রধান ও তার সহকারীর মধ্যে সংঘাত শুরু হয়।
ফলে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যস্থতার মাধ্যমে দেশে একটি গণতান্ত্রিক ও বেসামরিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়টি মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। চার বছর আগে এই দুই নেতা তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য একসঙ্গে কাজ করেছিলেন।
দুই বছর পর সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বর্তমান কাউন্সিল গঠিত হয়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিনকেন জানিয়েছেন, তিনি সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান ও আরএসএফ নেতা জেনারেল মোহাম্মদ হামদান দাগালোর সঙ্গে আলাদাভাবে ফোনে কথা বলেছেন।
তিনি লড়াই বন্ধ করার জন্য তাদের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে মানবিক সহায়তা ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে পৌঁছাতে পারে এবং বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া সুদানী পরিবারগুলো পুনরায় একত্রিত হতে পারে। উভয় পক্ষই আল-জাজিরাকে জানিয়েছে, তারা যুদ্ধবিরতি মেনে চলতে আগ্রহী।
সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল খালেদ আল-আকিদা গণমাধ্যমকে বলেন, 'আমরা যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আগ্রহী। কিন্তু আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফ কাউকে সম্মান করে না।'
আরএসএফ কমান্ডারের উপদেষ্টা মুসা খাদ্দাম গণমাধ্যমকে বলেন, 'খার্তুমের কিছু এলাকায় মোতায়েন আমাদের বাহিনী যুদ্ধবিরতিকে সম্মান করছে।' গত রোববারও (১৬ এপ্রিল) যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু উভয় পক্ষই তা উপেক্ষা করে।
ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে সুদানের রাজধানীতে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সুদানের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে চলেছে।
