বসবাসের একটা সুন্দর জায়গা চায় নারী ফুটবলার কাকুলী

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২৩, ১২:৪৮

নানা প্রতিকূলতা আর দরিদ্রতা দমাতে পারেনি দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল হেয়াতপুর গ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সম্ভাবনাময়ী নারী ফুটবলার কাকুলী সরেনকে। তিনি ২০২২ সালে অনুষ্ঠিত বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা (অনূর্ধ্ব-১৭) ফুটবল টুর্নামেন্টে রংপুর বিভাগের শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় হন। এখন তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে একের পর এক সাফল্য আনছেন। এলাকাবাসী বলছেন, পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতা পেলে কাকুলী হতে পারে দেশের শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবল তারকা।

কাকুলী সরেন বলেন, বাড়িসংলগ্ন দাউদনগর শেডবোর্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষার্থী তিনি। বিদ্যালয়ের ছোট্ট মাঠে তার ফুটবল খেলার যাত্রা শুরু হয়। মেয়ে হওয়ায় প্রথমে খেলতে নিত না ছেলে শিক্ষার্থীরা। কিন্তু তার ফুটবলের প্রতি আগ্রহ দেখে এক পর্যায়ে ছেলেদের সঙ্গে খেলার সুযোগ পান। বাধা দেয় সমাজের কিছু মানুষ। মেয়ে মানুষের আবার কিসের ফুটবল খেলা। অভাব-অনটন ও সামাজিক বাধায় ফিকে হয়ে ওঠে কাকুলীর ফুটবল খেলার স্বপ্ন । ঠিক সে সময় স্থানীয় দাউদপুর ফুটবল একাডেমি তার পাশে এসে দাঁড়ায়। উত্সাহ দেয়, সুযোগ করে দেয় বিভিন্ন ফুটবল টুর্নামেন্টে খেলার। এখন তার স্বপ্ন সুযোগ পেলে তিনি জাতীয় দলে খেলা।

দাউদপুর ফুটবল একাডেমির কোচ কবীর হোসেন বলেন, ‘২০২২ সালে উপজেলা পর্যায়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হয়ে বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্টে নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন কাকুলী সরেন। উপজেলা হয়ে খেলতে যান জেলা পর্যায়ে। সেখানে ভালো খেলে নজরে আসেন জেলা ফুটবল দলের। অল্প সময়ে সুনাম ছড়িয়ে পড়ে কাকুলীর। বিভিন্ন টুর্নামেন্টে অতিথি খেলোয়াড় হিসেবে অংশগ্রহণ করে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার অর্জন করে যাচ্ছেন তিনি। সর্বশেষ ২০২২ সালে অনুষ্ঠিত বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা (অনূর্ধ্ব-১৭) ফুটবল টুর্নামেন্টে জেলা, বিভাগে ও জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় হন। সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে। 

একই গ্রামের এনজিও কর্মী পাতরাস মুর্মু বলেন, ‘কাকুলীর বাবা-মা দরিদ্র কৃষিশ্রমিক। সামান্য আয়ে কোনো মতে চলে তাদের সংসার। একটি মাটির জীর্ণ ঘরে বাবা মাকে নিয়ে থাকেন সম্ভাবনাময় এ নারী ফুটবলার। একজন খেলোয়াড় হিসেবে যে খাবার ও থাকার পরিবেশ প্রয়োজন তার কোনোটিই নেই কাকুলী সরেনের। তারপরেও থেমে নেই কাকুলী। দরিদ্রতা নিয়েই স্বপ্ন দেখছেন জাতীয় দলের একজন খেলোয়াড় হয়ে দেশ-বিদেশে দেশের সুনাম বয়ে আনতে। 

তিনি দাবি করেন, পৃষ্ঠপোষকতা বসবাসের পরিবেশ ও সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান করা হলে অপার সম্ভাবনাময় এ খেলোয়াড় দেশের একজন শীর্ষ তারকা ফুটবলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে। বসবাসের একটা সুন্দর জায়গা চায় কাকুলী।  

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, ‘কাকুলী এলাকার গর্ব। তিনি জাতীয় পর্যায়ে সেরা ফুটবল খেলোয়াড় হয়ে উপজেলার সুনাম বয়ে এনেছে। তার খেলা অব্যাহত রাখার জন্য উপজেলা পরিষদ থেকে যতটুকু সম্ভব সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। তিনি ফুটবলসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সম্ভাবনাময় ফুটবলার কাকুলী সরেনের পাশে থাকার জন্য আহ্বান জানান।

ইত্তেফাক/এসএস