ইউক্রেনকে এখনো গোলাবারুদ দিতে নারাজ সুইজারল্যান্ড

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২৩, ১৫:৫২

'নিরপেক্ষতা' সংক্রান্ত আইনের কারণে সুইজারল্যান্ড সংকটের সময় কোনো পক্ষকে অস্ত্র সরবরাহ করতে পারে না। ইউক্রেন সংকটের প্রেক্ষাপটে নতুন বিতর্কের মাঝে সুইস প্রেসিডেন্ট বার্লিন সফর করলেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে এক ধাক্কায় অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদের চাহিদা বিশাল মাত্রায় বাড়িয়ে দিচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি অস্ত্র প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি সেই চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। ফলে, মজুত ভাণ্ডারের দিকে সবার আগে নজর পড়ছে। 

এমনকি রপ্তানি করা প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আবার কিনে নেবার উদ্যোগ নিচ্ছে কিছু দেশ। জার্মানির মতো দেশ প্রথা ভেঙে যুদ্ধক্ষেত্রে অস্ত্র সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু ইউরোপের দেশ সুইজারল্যান্ড 'নিরপেক্ষতা' বজায় রাখতে এখনো বদ্ধপরিকর।

জার্মানিসহ পশ্চিমা বিশ্ব ইউক্রেনের উপর রাশিয়ার একতরফা হামলার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতার কোনো অবকাশ দেখছে না। ইউক্রেনের সহায়তা না করা পরোক্ষভাবে রাশিয়াকে মদত করার সমান বলে তারা মনে করছে। 

জার্মানির মতো দেশ প্রথা ভেঙে যুদ্ধক্ষেত্রে অস্ত্র সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

পশ্চিমা বিশ্বের মতে, বল প্রয়োগ করে সীমানা বদলানোর এমন আচরণকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া চলে না। কারণ সে ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশের সার্বভৌমত্বও হুমকির মুখে পড়তে পারে। সুইজারল্যান্ড এখনো সেই যুক্তি মেনে নিতে নারাজ। 

সরকার ও সংসদ ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহ করতে অস্বীকার করছে। সে দেশের প্রেসিডেন্ট অ্যালাইন বারসেট মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) বার্লিন সফরে এসে আবার ইউক্রেনকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন। উল্লেখ্য, সুইজারল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর সদস্য নয়। 

সুইস প্রেসিডেন্ট জানান, দেশের আইন ভেঙে সরকার সংকটের কোনো পক্ষকে অস্ত্র সরবরাহ করবে, এমন প্রত্যাশা করা উচিত নয়। তিনি মনে করিয়ে দেন, সুইজারল্যান্ডে প্রস্তুত সামরিক সরঞ্জাম কেনার সময় ক্রেতাকে লিখিত প্রতিশ্রুতি দিতে হয়, যে সেই সরঞ্জাম বিবাদমান পক্ষের হাতে পৌঁছবে না। 


বিদেশ থেকে আমদানি করা অস্ত্র ও গোলাবারুদ নতুন করে রপ্তানির ক্ষেত্রেও সেই বাধা রয়েছে। তবে, সুইজারল্যান্ডেও বিষয়টি নিয়ে তর্ক-বিতর্ক চলছে বলে সুইস প্রেসিডেন্ট স্বীকার করেন। তবে, সরকার ও সংসদের মধ্যে শেষ পর্যন্ত রফা হলেও সেই প্রশ্নে গণভোটের সম্ভাবনা রয়েছে। 

প্রেসিডেন্ট অ্যালাইন বারসেট

ফলে, দীর্ঘ প্রক্রিয়ার শেষে গোটা পরিকল্পনা বানচাল হয়ে যেতে পারে। আপাতত জার্মানি সুইজারল্যান্ডে মজুত গেপার্ড ট্যাংকের গোলাবারুদ ইউক্রেনে সরবরাহের জন্য চাপ দিচ্ছে। জার্মানি মোট ৩৪টি ট্যাংক ইউক্রেনের হাতে তুলে দিলেও মাত্র ৬০ হাজার রাউন্ড গোলাবারুদ সরবরাহ করতে পেরেছে। 


ডেনমার্ক ও স্পেনও ইউক্রেনকে ট্যাংক সরবরাহ করে সুইজারল্যান্ডের কাছে গোলাবারুদ সরবরাহের অনুরোধ করেছে। জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস সুইজারল্যান্ডে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত বিরোধিতা দূর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। 

সুইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, সবাই জানে ইউক্রেনের অস্ত্র ও গোলাবারুদের প্রয়োজন। সেই কারণে জার্মানি ঘাটতি মেটাতে একাধিকবার সুইজারল্যান্ডের কাছে গোলাবারুদ সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে।

ইত্তেফাক/ডিএস