রমজানের রোজার শেষে ঈদ খুশি নিয়েই হাজির হয়। এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতর সবাইকেই আনন্দিত করে তোলে। সেই খুশি ছড়িয়ে যায় পরিবার, আত্মীয়স্বজন বন্ধুদের নিয়ে এক মহামিলনের সীমানায়। তবে, দিন দিন জীবনযাত্রা যেভাবে কঠিন হয়ে উঠছে এতে ঈদের আনন্দ কী ফিকে হয়ে আসছে মানুষের জীবনে? জিনিসপত্রের দাম নাগালের বাইরে, মানুষের রোজগার কমে আসছে। বিশ্ব জুড়েই মানুষ সংকটের সামনে দাঁড়িয়ে। যুদ্ধ চলছে ইউক্রেনে, তার প্রভাব বিশ্ব জুড়ে। সুদানেও মানবিক বিপর্যয়। ঈদকে সামনে রেখেও দুই পক্ষ ‘যুদ্ধ বিরতি’ ঘোষণা মানছে না।
এসব বিরুদ্ধ স্রোতে মানুষের জীবন এতটাই ওলটপালট হয়ে আছে যে তা তাকে আনন্দ উদযাপনে আগ্রহী করে না। এবারের ঈদ যেন মানুষকে খুশিতে মাতিয়ে তুলতে পারছে না। মার্কেটগুলোতে আগুনে সর্বস্বান্ত হওয়া দোকানিদের দীর্ঘশ্বাস মিশে রয়েছে। বঙ্গবাজার, নিউ সুপার মার্কেটের পর দেশের নানা প্রান্তেও মার্কেটে আগুন লাগার ঘটনায় সারা দেশেই মানুষের মনে আগুন-আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি আগুনভীতি মানুষকে কেনাকাটা থেকে বিমুখ করে তুলেছে। সে কারণেই কি না এবার ঈদ বাজারে রাজধানীর শপিংমল ও বিপনিবিতানগুলোতে ক্রেতাদের সেই উপচে পড়া ভিড় নেই। যেটুকু না করলেই নয় এর বাইরে বাড়তি খরচ করছে না বেশির ভাগ মানুষ। এত কিছুর পরেও ঈদের আনন্দ হারিয়ে যায় না। ঈদুল ফিতর ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের একটি। মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা দীর্ঘ এক মাস রোজা রাখার পর এই দিনটিকে খুব আনন্দের সঙ্গে উদযাপন করে থাকে।
ঈদের খুশির টানেই এই প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে পরিবারের সান্নিধ্য প্রত্যাশায় বাড়ির পথে লাখ লাখ মানুষ। তবে এ বছর সড়ক-মহাসড়কে যানজট দেখা যায়নি। নির্বিঘ্নে বাড়ি যেতে পারছে মানুষজন।
দেশ জুড়েই ঈদগাহ সাজিয়ে তোলার কাজ চলছে। শপিং মলগুলোতে নেই নেই করেও শেষ মুহূর্তে কেনাকাটার ব্যস্ততা দেখা যাচ্ছে। ঈদকে সামনে রেখে বিদেশ থেকে প্রায় ৩ লাখ মানুষ ফিরছে দেশে। বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিমান বন্দরে বিদেশ থেকে আসা কর্মীদের বিশেষ উপহার দিয়ে বরণ করে নেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশে ঈদ মানেই নাড়ির টানে ঘরে ফেরা। রাস্তায় জ্যামের ভোগান্তি, টিকিট কেনার ঝক্কি ঠেলে পরিবারের সঙ্গে ঈদ করার তীব্র আনন্দ মিশে থাকে। প্রিয়জনের স্নেহমাখা স্পর্শ, স্মৃতিঘেরা বাড়ি, পাড়া-মহল্লায় আড্ডার টান খুব কম বাঙালিই উপেক্ষা করতে পারে। ঈদ তো শুধু আনন্দ উপলক্ষ নয় বাঙালি মুসলমানের কাছে এটা একধরনের মিলনমেলাও। ঈদ এলেই মানুষের বাড়ির টানের তীব্রতা চোখে ধরা পড়ে বেশি। যানজট ঠেলে, বেশি ভাড়া গুণে, পথের নিদারুণ কষ্ট সহ্য করে তারা ফিরতে চায় তার ফেলে আসা স্মৃতিগন্ধমাখা বাড়িতে, প্রিয় মানুষগুলোর কাছে। মনের কোণে বারবার হাতছানি দেয় সেই মেঠো পথ, জমির আল ধরে ধানক্ষেতের মাঝ দিয়ে হেঁটে যাওয়া, সবুজ গাছের সারি, নদীর পানিতে ঝাপাঝাপি আর দল বেঁধে মাছ ধরার স্মৃতিময় দিনগুলি।
রমজান শুরুর পর থেকেই শুরু হয়ে যায় ঈদের কেনাকাটা। হাজারো রঙিনসামগ্রী থেকে নিজের ও পরিবারের জন্য সেরাটা বেছে নেওয়া। ঈদের দিন সকালে নতুন পাঞ্জাবি পরে আতর-সুরমা দিয়ে ঈদের নামাজ পরা, নতুন জামা পরা, কোলাকুলি করে একে-অন্যের সঙ্গে খুশি ভাগাভাগি, সালামি আদায় করা, বিকালে সবার সঙ্গে একসঙ্গে ঘুরতে যাওয়া এ যেন এক অন্যরকম আমেজ।
