গফরগাঁওয়ে অবৈধভাবে চলছে ২৯ ইটভাটা, মানা হচ্ছে না আইন

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২৩, ১২:৫৩

পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই চলতি মৌসুমে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় চালু করা হয়েছে ২৯টি ইটভাটা। আর এসব ভাটায় সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে কয়লার বদলে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। যার ফলে বসতবাড়ির পাশ ঘেঁষে এবং ফসলি জমিতে স্থাপিত এসব ইটভাটার ধোঁয়ায় বিপর্যস্ত হচ্ছে পরিবেশ, বিপন্ন হচ্ছে জনজীবন। ইটভাটার মালিকপক্ষ বলছে, সারাদেশেই একই অবস্থা। তাদের কিছুই করার নেই।

জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২৯টি ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছে। উপজেলার নিগুয়ারি ইউনিয়নের ১৬টি ইটভাটার একটিতেও  পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। তবে এর মধ্যে শুধু একটি ইটভাটা মেসার্স পারভেজ এন্টারপ্রাইজ (বিবিবি/এম‌বি‌বি) বন্ধ আছে। ২৯ টির মধ্যে কোনো ইটভাটার ছাড়পত্র নেই। এর মধ্যে আবার ৬টি ইটভাটা ড্রাম চিমনির। ড্রাম চিমনি ইটভাটায় অনেক আগে থেকে নিষিদ্ধ। এদিকে কুরচাই গ্রামে সবুজ মিয়া এক ব্যক্তি আরেকটি ড্রাম চিমনি ইটভাটা নির্মাণ কাজ শুরু করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় সবগুলো ইটভাটাই সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করে গড়ে উঠেছে। ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইন অনুসারে, আবাসিক এলাকা, উপজেলা সদর ও ফলের বাগানের আশেপাশের ৩ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে ইটভাটা স্থাপন সম্পন্ন অবৈধ। কিন্তু উপজেলার অধিকাংশ ইটভাটাগুলো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা ও কৃষিজমিতে স্থাপন করা হয়েছে। এতে ইটভাটার নির্গত ধোঁয়া অতি সহজেই লোকালয় ও ক্ষেত খামারে ছড়িয়ে পড়ছে।

ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইন অনুসারে ইটভাটায় কাঠ পোড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও উপজেলার পাঁচুয়া, পুখুরিয়া, ছোট বারইহাটি, মাখল, চাকুয়া, পাতলাশি, কুরচাই, নিগুয়ারি, শেখভিটা, মাখল, বকুল তলা, দত্তেরবাজার এলাকার কয়েকটি ইটভাটা ঘুরে দেখা গেছে ইট পোড়ানোর কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে কাঠ। তবে এসব ইটভাটার সামনে স্বল্প পরিমাণ কয়লাও দেখা গেছে, যা অত্যন্ত নিন্মমানের। ড্রাম চিমনির ইটভাটাগুলোতে কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানোর ফলে স্বল্প উচ্চতার টিন দিয়ে তৈরি চিমনি থেকে বের হচ্ছে ঘন মেঘের মত কালো ধোঁয়া, ফলে আশপাশের গাছপালা ক্রমে বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে। ইটভাটায় অবাধ কাঠ ব্যবহারের ফলে উজাড় হচ্ছে উপজেলার বৃক্ষ সম্পদ।

নিগুয়ারি গ্রামের বাশার মিয়া (৫০) বলেন, ‘কৃষি জমিতেও ইটভাটা বসানোয় কৃষিকাজে সমস্যা হচ্ছে। বিষাক্ত ধোঁয়া ধান ক্ষেতের ভীষণ ক্ষতি করছে এবং ধান উপাদন কমে গেছে।’

এ বিষয়ে পাতলাশি গ্রামে স্থাপিত মেসার্স বিএবি ইটভাটার মালিক রুমেন আকন্দ বলেন, ‘সারা দেশেই একই অবস্থা। আপনারা যা লেখার লেখেন, সমস্যা নাই, আমরা ইটভাটা মালিকদের সমিতি আছে।এই সমিতি সবকিছু দেখভাল করে।’

পরিবেশ অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ বিভাগীয় পরিচালক দিলরুবা আহমেদ বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমরা গফরগাঁওয়ে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকটি অবৈধ ইটভাটা ভেঙে দিয়েছি। পর্যায়ক্রমে বাকি অবৈধ ইটভাটা বন্ধের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যারা ইটভাটায় কাঠ পোড়ায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা ইটভাটা মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় তাদের অটো ব্রিক ফিল্ড এবং ব্লক ইট নির্মাণের দিকে উৎসাহিত করার চেষ্টা করছি।’

ইত্তেফাক/এএএম