‘বশিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেম জিহাদির সন্ত্রাসীরা নোমান ও রাকিবকে গুলি করে হত্যা করেছে। কাশেম আমার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরেছিল। এরপর থেকে আমাদেরকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল চন্দ্রগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবুল কাশেম জিহাদি।’
লক্ষ্মীপুর জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার বড় ভাই বশিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান সাংবাদিকদের এসব অভিযোগ করেন।
মাহফুজুর রহমানের করা অভিযোগের বিষয়ে জানতে গতকাল বুধবার বেশ কয়েক বার আবুল কাশেম জিহাদির মোবাইল ফোনে ও তার ঘনিষ্ঠ বেশ কয়েক জন নেতার মোবাইল ফোনে কল করা হয়। কিন্তু তাদের সবার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের মতে বশিকপুর ইউনিয়নে দীর্ঘদিন থেকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন আবুল কাশেম জিহাদি। তার নামে ঐ এলাকায় সন্ত্রাসী বাহিনীও রয়েছে। সদর ও চন্দ্রগঞ্জ থানায় তার নামে ও তার বাহিনীর সন্ত্রাসীদের নামে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। স্থানীয়রা আরো জানান, বশিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেম জিহাদি গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেন। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মাহফুজুর রহমান। এতে আবুল কাশেম জিহাদির ভরাডুবি হয়। ঐ নির্বাচন নিয়েই কাশেম ও তার অনুসারীদের সঙ্গে মাহফুজ-নোমান গ্রুপের দ্বন্দ্ব চলছিল। এর জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পরে বলে ধারণা তাদের।
জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের পোদ্দাবাজার এলাকায় ঐ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয়রা জানান, ঘটনার আগে যুবলীগের সাবেক সাধারণ সমপাদক নোমান পোদ্দারবাজারে ছিলেন। ঐ সময় তার সঙ্গে থাকা অন্যদের বিদায় দিয়ে তিনি ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলেন। পথেই সন্ত্রাসীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও নোমানের মোবাইল ফোনও নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। পরে গুলির শব্দে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে নোমান ও রাকিবকে পড়ে থাকতে দেখেন। দ্রুত তাদের উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।
যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যুর খবরে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা ঐ রাতে সদর হাসপাতালে জড়ো হন। এ সময় হাসপাতাল প্রাঙ্গণে কান্নার রোল পড়ে।
গুলিতে নোমান ঘটনাস্থলে ও রাকিবকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় জেলা সদর হাসপাতাল থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা যায়।
এদিকে, গতকাল বশিকপুর মাদ্রাসার সামনে তাদের জানাজা শেষে গত রাতে তাদের দাফন করা হয়।
জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম সালাহ উদ্দিন টিপু বলেন, আমরা এ হত্যার প্রতিবাদ জানাই। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত খুঁজে বের করতে হবে। চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। আমরা গুরুত্বসহকারে কাজ করছি।
অপরদিকে এই হত্যাকাণ্ডের জন্য বিএনপি ও জামায়াতের সন্ত্রাসীদের দায়ী করে জেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
