কয়লা সংকটে রামপালে ফের বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০২৩, ১৪:২৮

রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সচল রাখতে কয়লা আমদানি অব্যাহত রাখা জরুরি। তবে ২৩ এপ্রিল থেকে কয়লা সংকটের কারণে দেশের অন্যতম বড় এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এতে খুলনাঞ্চলে বেড়েছে লোডশেডিং আর বিদ্যুৎ বিভ্রাট।

এর আগে কয়লা সংকটের কারণে চলতি বছর ১৪ জানুয়ারি রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর কয়লা সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার এক মাসের মাথায় আবার উৎপাদনে ফেরে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র।

সংশ্লিষ্টরা জানান, গত বছর ১৫ আগস্ট রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়। ওই বছর ১৭ ডিসেম্বর থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবারহ শুরু করে রামপাল। ২৩ ডিসেম্বর থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ সরবারহ শুরু হয়। তবে এক মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, কারিগরি ত্রুটি বলা হলেও মূলত কয়লা সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এই সংকট কেটে গেলে ফের উৎপাদনে ফিরবে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র। গত বছর ৬ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে রামপালে ১৩২০ মেগাওয়াট মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্টের আওতায় ৬৬০ মেগাওয়াটের প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু রাখতে দীর্ঘ মেয়াদী চুক্তির আওতায় ৮০ লাখ মেট্রিক টন কয়লা ক্রয়ের সিদ্ধান্ত হয়। সে হিসেবে এখন পর্যন্ত রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ইন্দোনেশিয়া থেকে দুই লাখ ৬৭ হাজার ৭৫২ মেট্রিক টন কয়লা আমদানি করা হয়েছে।

রামপালে আমদানিকৃত কয়লার শিপিং এজেন্ট মেসার্স টগি শিপিং অ্যান্ড লজিস্টিক লিমিটেডের খুলনার সহকারী ব্যবস্থাপক খন্দকার রিয়াজুল হক বলেন, শেষ ১৩ মার্চ এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ৩৩ হাজার মেট্রিক টন কয়লা আমদানি হয়েছে। এরপর আর কয়লা আসেনি।

তবে কয়লা সংকটের কারণে রামপাল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ কিনা সেটি না বললেও আগামী ১০ মার্চ এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য আরও ৪৯ হাজার মেট্রিক টন কয়লা আসার খবর জানান তিনি।

এদিকে হঠাৎ করে রামপাল তাপবিদ্যুৎ বেন্দ্র হওয়ার প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহে। ফলে মোংলা, বাগেরহাট, খুলনা, যশোরসহ পুরো দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়েছে।

বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রতিষ্ঠান ওজোপাডিকোর মোংলা অঞ্চলের আবাসিক প্রকৌশলী এইচ এম ফরহাদ হোসেন বলেন, উৎপাদনে আসার পর থেকে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে খুলনাসহ এই অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরাবরাহ করা হতো। কিন্তু হঠাৎ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ থাকায় লোডশেডিং এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাট বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে তুলনামূলক মোংলায় লোডশেডিং নেই। 

 

ইত্তেফাক/আরএজে