জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে আব্দুল খালেক নামে মাদ্রাসার পরিচালকের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত আব্দুল খালেক উপজেলার রহমতপুর দারুস সুন্নাহ এবতেদায়ী মাদ্রাসা ও এতিমখানার পরিচালক।
জানা যায়, অভিযুক্ত আব্দুল খালেক মাদ্রাসার ২৫ ছাত্রের জীবিত অভিভাবককে মৃত দেখিয়ে জাল মৃত্যু সনদ তৈরি করেন। ওই ২৫ ছাত্রসহ ৪৫ জনের নাম দেখিয়ে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে সরকারি সহায়তার অর্থ উত্তোলন করেন। যেখানে প্রত্যেক এতিম ছাত্রকে মাসে ২ হাজার টাকা দেওয়া হবে।
মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাহমিদ সোয়াইব সিয়ামের বাবা ভূইডোবা গ্রামের সোহেল রানা বলেন, ২০১৮ সাল থেকে মাদরাসার মুহতামিম তাকে মৃত দেখিয়ে তার ছেলেকে এতিম বানিয়ে সরকারি টাকা উত্তোলন করে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল রাফির বাবা আব্দুল আলিম বলেন, প্রতি মাসে ছেলের পড়াশোনা বাবদ পরিচালককে টাকা দিয়ে থাকি। যখন জানতে পারলাম ২০১৪ আমি মারা গেছি, তখন থেকে এই হুজুরের প্রতি আমার ঘৃণা জন্মেছে।
এতিমখানার সভাপতি ইউনুছ আলী বলেন, উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে জমাকৃত তালিকায় স্বাক্ষরটি আমার না। ছাত্রদের অভিভাবকের মৃত্যু সনদ সম্পর্কে কিছুই জানি না।
মাদ্রাসার পরিচালক আব্দুল খালেক বলেন, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। এ বিষয়ে সংবাদ না করার জন্য অনুরোধ জানান।
বাগজানা ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুল হোসেন বলেন, মাদ্রাসার পরিচালক ইউনিয়ন পরিষদের সিল ও স্বাক্ষর জালিয়াতি করেছেন। তিনি জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখিয়ে সমাজসেবা অফিস টাকা উত্তোলন করেছেন। ইউপি সদস্য ও গ্রামপুলিশকে তদন্তের জন্য পাঠিয়েছি। প্রতিবেদন পেলে সমাজসেবা অফিসে পাঠিয়ে দিব।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোছা. শাহিনুর আফরোজ বলেন, এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। তদন্তের জন্য বাগজানা ইউপি চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরমান হোসেন বলেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।