ভিউ বাণিজ্যের অস্থির বাজারে দর্শকদের মুগ্ধতার নাম ‘ ঈদ ইত্যাদি’

আপডেট : ০১ মে ২০২৩, ০৫:০২

কোনো অনুষ্ঠানের অবলোকন লিখতে হলে মূলত অনুষ্ঠানের আঙ্গিক নিয়ে জানা প্রয়োজন। মুশকিল হলো এখনকার টিভি অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে (কিছু সংখ্যক অনুষ্ঠান ছাড়া) অধিকাংশরই কোনো গবেষণা বা আঙ্গিক লক্ষ্য করা যায় না। দর্শক হিসেবে দেখবেন ডিজিটাল প্লাটফর্মে জনপ্রিয় এমন কিছু বিষয় বা ব্যক্তিকে নিয়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। নাটক, টকশো বা যা কিছুই বলি না কেন, টিভি চ্যানেলগুলোকে এখন খেয়ে বসেছে ভিউয়ের অস্থির দৌড়। অর্থাত্ অনুষ্ঠানের কন্টেন্টে মেধা মনন থাকলো কি-না তা দেখার প্রয়োজন নেই। ভিউ বাড়লেই যথেষ্ট, সেটাতেই রাজি। বিটিভি এখনও সেই আনুগত্যের বাইরে এটাই সবচেয়ে স্বস্তির কথা। সেখানে ইত্যাদি এক দারুণ দৃষ্টান্তের নাম। 

এই কথাগুলো ইত্যাদি অনুষ্ঠানের আলোচনায় এ কারণেই লিখলাম, এবারের ইত্যাদি এসব সময়োপযোগী বিষয়গুলোই তুলে ধরেছে। ইউটিউব বাণিজ্যে এখন আর সাবজেক্ট লাগে না। সেই প্রসঙ্গ নিয়েই ইত্যাদির একটি সেগমেন্টে-এক ছাগল নিয়ে দুই ব্যক্তির তুমুল বাহাস। সেটা সমাধানের চেষ্টা নেই। কিন্তু মোবাইলের ক্যামেরা নিয়ে সেটা রেকর্ড করতে শুরু করে দুই ইউটিউবার। খুবই চলমান ও বাস্তব চিত্র। এছাড়া অনলাইনে লাইভ কাপড়ের ব্যবসা নিয়ে স্যাটায়ার করেছেন ফুটপাতের হকারদের নিয়ে। যা খুবই যুত্সই এক আলোচনা। যদিও অনলাইনে দেশের অগণিত নারীরা সাবলম্বী হচ্ছেন এই বিষয়টা স্যাটায়ারের সাথে যোগ করলে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতো আরও। ঈদ ইত্যাদির পুরোটাই বরাবরের মতো সাম্প্রতিক অসঙ্গতি তুলে ধরেছে। তারকাসমৃদ্ধ বরাবরের ইত্যাদি ছিল নানা বিষয় বৈচিত্র্যে ঠাসা। 

প্রতি ঈদ ইত্যাদি নিয়ে একটি বিষয়ে যা মুগ্ধ করে—বারবারই যা বলতে হয় তা হলো জাতীয় কবি নজরুলের ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে’ গানটির বর্ণিল চিত্রায়ন। আমি মনে করি ইত্যাদির আর্কাইভে এই গানটির যতগুলো ভার্সন রয়েছে তা এদেশের এক অনবদ্য সংকলন। দর্শক পর্বের ফর্মেট ভাঙা হয় প্রতিবারই। ঈদ ইত্যাদিও তেমনই বৈচিত্র্যের ছিল। অভিনেতা জাহিদ হাসানের সাথে ৪ দর্শক যেমন পারঙ্গমতা দেখিয়েছেন এবং পুরো স্ক্রিপ্টটা যেভাবে সাজানো হয়েছে তা অনবদ্য। মুগ্ধ করেছে শিবলী-নিপার পারফর্মেন্স। রুচিশীল বিনোদন’ নিয়ে সাম্প্রতিক যে বাহাস চলছে তারও যেন দারুণ এক জবাব দিয়ে দিলেন হানিফ সংকেত। ঈদ বাজার নিয়ে সজল-রিচি-সারিকাদের পর্বটাও ভালো ছিল। আর ঈদের ইত্যাদিতে একজন দর্শক হিসেবে সকলে যেমন বসে থাকে, যে পর্বটি দেখার জন্য তা হলো বিদেশিদের বিশেষ পর্ব। এই পর্বে এবারে কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের কারসাজি। এক বন্ধু বাইরে থেকে বাড়িতে এসেছে, তাকে ধারণ করার জন্য হৈ চৈ। বিদেশিদের অভিনয়, পারফর্মেন্স ছিল অসাধারণ। পুরো অংশটা আলাদা করে কোনো সিনেমা, টেলিফিল্ম বা নাটক করলেও তা অসাধারণ কিছু মনে হতো। ইত্যাদির এটিই এক দারুণ মুন্সিয়ানা। নানা বৈচিত্র্যে আপনাকে আটকে রাখবে। শেষ না করে উঠতে পারবেন না।

মাহফুজ-বুবলী’র সামাজিক মেসেজপূর্ণ গান, বাঁধন, নাজিফা তুষি, সাবিলা নূরের সাথে দর্শক পর্ব ছিল ঈদ আয়োজনের সংযুক্তি। সব মিলিয়ে ইত্যাদি অনুষ্ঠানটি বারবার শুধু এটিই মনে করিয়ে দেয় দর্শককে না ঠকালে, তাদের সঠিক মেসেজ ও বিনোদন দিলে তারাও আপনাকে যুগ যুগ ধরে লালন করবে। ইত্যাদি এবং একজন হানিফ সংকেতকে দর্শকরা এভাবেই যুগ যুগ ধরে লালন করে আসছে। ধন্যবাদ হানিফ সংকেত ও তার সকল কলাকুশলীদের।

ইত্তেফাক/ইআ