এলাকাবাসীদের বাধা ও পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে বাঘা-আড়ানী সড়কে পুরাতন কাজের সামগ্রী তুলে নিয়ে নতুন করে নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়েছে। শনিবার সকালে বাঘা পৌর এলাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তায় নিম্নমানের বালি মিশ্রিত পাথর তুলে আবার নতুন করে এই কাজ শুরু করা হয়। এতে স্বস্তি ফিরে আসে স্থানীয় জনগণের মধ্যে।
সওজ সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীর বাঘা উপজেলার 'বাঘা-আড়ানী' সড়কের ১১ কিলোমিটার রাস্তার নির্মাণকাজ চলছে। এই কাজের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮ কোটি টাকা। কাজটি পেয়েছেন যশোরের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। মাঠ পর্যায়ে ঠিকাদারের অংশীদার রাজশাহীর হারুন-অর-রশিদ এ কাজটি করছেন। রাস্তার নির্মাণকাজের আর প্রায় দেড় কিলোমিটার বাকি। এখন কাজ চলছে বাঘা পৌর এলাকায়-উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে।
জানা যায়, গত বুধবার রাস্তার নির্মাণকাজ চলাকালে সওজ'র কোনও প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। এ সময় স্থানীয় জনগণ কাজের অনিয়মের অভিযোগ উত্থাপন করেন। তাদের অভিযোগ ছিল, সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের বালি ব্যবহার করা হচ্ছে, দরপত্রের বর্ণিত বালি ও পাথরের অনুপাত মানা হচ্ছে না, পর্যাপ্ত পানি ব্যবহার করা হচ্ছে না এবং কার্পেটিংয়ের আগে বালি পরিষ্কার করা হচ্ছে না। এ সময় অভিযোগকারীদের সরানোর জন্য ঠিকাদারের প্রতিনিধি চাঁদা চাওয়ার কথা বলে বাঘা থানায় খবর দিয়ে পুলিশ নিয়ে আসেন।
এ সময় সেই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন বাঘা উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট লায়েব উদ্দীন। স্থানীয় লোকজন তার কাছেও একই অভিযোগ করেন। তিনি সেখান থেকে সওজ'র নির্বাহী প্রকৌশলীকে ফোন করে অভিযোগের বিষয়টি অবহিত করেন। নির্বাহী প্রকৌশলী ওই অবস্থায় কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন এবং পরের দিন বৃহস্পতিবার ওই সড়ক পরিদর্শন করবেন বলে আশ্বাস দেন।
আরও পড়ুন: রোহিতকে ফেরালেন মুজিব, চাপে ভারত
স্থানীয় জনগণের অভিযোগ করে বলেন, 'পুরো রাস্তাটি নানা অনিয়মের মধ্য দিয়ে করা হয়েছে। তারা কোনো আপত্তি করেননি। কিন্তু বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের জায়গাটিতে পানি জমে তাড়াতাড়ি রাস্তা নষ্ট হয়ে যায়। তারা এই এলাকার রাস্তাটুকু সঠিকভাবে করার আবেদন জানিয়েছিলেন। সেখানেও অনিয়ম করার কারণে তারা কাজে বাধা দিয়ে অভিযোগ করেন।'
সেই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২০ জুন) রাজশাহী সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলী সরেজমিন বাঘা-আড়ানী সড়কের নির্মাণকাজ পরিদর্শনে আসেন। পরিদর্শনে এসে তিনি বলেন, 'রাস্তায় যে বালি ব্যবহার করা হচ্ছে তা নিম্নমানের।' তারপরেও তার চোখের সামনে সেই বালি দিয়েই কাজ চলতে থাকে। পরে ল্যাবে গবেষণাগারের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধরা পড়ে শুধু বালিই নিম্নমানের নয়, বালি ও পাথরের যে অনুপাত সেটিও সঠিক নয়। এ নিয়ে পরদিন শুক্রবার দৈনিক ইত্তেফাকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ ছাপা হয়। এতে টনক নড়ে প্রশাসনের।
সেই মোতাবেক শনিবার (২২ জুন) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের রাস্তায় পুরাতন কাজের সকল সামগ্রী তুলে নিয়ে নতুন করে কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ সময় কাজের পাশে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্মাণকাজ তদারক উপ-সহকারী প্রকৌশলী আলতাফ হোসেন ও ঠিকাদারের প্রতিনিধি সেকেন্দার আলী।
ইত্তেফাক/জেডএইচডি
