বুদ্ধিমানরা জানেন নিজের সীমানা

আপডেট : ০৪ মে ২০২৩, ০৪:৪৮

নিজের সীমানা না জানিলে মানুষ পদে পদে ভুল করে। পৃথিবীতে এমন কোনো বড় অপরাধী নাই, যিনি মেধাবী নহেন। বিশেষ করিয়া অসংখ্য সিস্টেম ম্যানেজ করিয়া কিছু কিছু অপরাধী এমন চমকপ্রদ কিছু অপরাধ করেন—যাহা দেখিয়া বিস্ময়াভিভূত হইতেই হয়। এইভাবে জটিল বুদ্ধি খাটাইয়া অপরাধ করাটা যে কোনো বোকা মানুষের পক্ষে সম্ভব নহে, তাহা বলিবার অপেক্ষা রাখে না। সুতরাং কোনো সন্দেহের অবকাশ নাই যে, বড় বড় অপরাধ যাহারা করেন, তাহারা অসাধারণ মেধাবী হইয়া থাকেন। তবে মেধাবী হইলেই কেহ বুদ্ধিমান হইয়া যান না। বুদ্ধিমান হইবার বিষয়টি অন্য। প্রথম কথা হইল, বুদ্ধিমানরা এমন কাজ করিবেন না, সেইখানে কোনো এক পর্যায়ে বিপদে পড়িবার বিপুল সম্ভাবনা থাকিবে। তাহারা নিজের পায়ে কখনোই কুড়াল মারিবেন না। মেধাবীরা বুদ্ধিমান হইলে তাহা একটি জাতির সম্পদে পরিণত হন; কিন্তু মেধার সহিত উপরচালাকি ও অপরিণামদর্শী মনোভাব যুক্ত হইলে তাহারা অপরাধ করিতে উত্সাহী হন। আর মেধাবীরা যখন অপরাধে যুক্ত হন, তখন তাহারা একধরনের চক্রব্যূহে প্রবেশ করেন। ঐ ব্যূহে সহজে প্রবেশ করা যায়; কিন্তু সহজে বাহির হওয়া যায় না। আর বাহির হইতে না পারিলে অর্থাত্ অপরাধ করিয়া পার না পাইলে জীবনের সকল অর্জন ধ্বংস হইয়া যায়। কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি নিশ্চয়ই জানিয়া শুনিয়া নিজেকে ধ্বংস করিবেন না। বলা হইয়া থাকে—চুরি বিদ্যা বড় বিদ্যা যদি ধরা না পড়ে। মেধাবী অপরাধীরাও মনে করেন, তাহারা ধরা পড়িবেন না; কিন্তু যেইখানে অপরাধ করিয়া ধরা পড়িবার সমূহ সম্ভাবনা থাকিবে, এমন অপরাধ কোনো বুদ্ধিমান মেধাবী কখনই করিবেন না।

মেধাবীরা যখন অপরাধী হইয়া উঠেন তখন তাহারা ভয়ংকর রূপ ধারণ করেন। কেননা যে কোনো ধরনের অপরাধে যখন মেধার সমন্বয় ঘটে তখন তাহা হয় নিপুণ, প্রায় নির্ভুল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বেগ পাইতে হয় সে অপরাধের রহস্য উদ্ঘাটন করিতে। অ্যাকশন থ্রিলার সিনেমাগুলিতে এই সকল কাহিনি আমরা দেখিতে পাই। একবার পশ্চিমা দেশের একজন সিরিয়াল কিলার একের পর এক খুন করিবার পরও পুলিশ তাহাকে টিকিও ছুঁইতে পারিতেছিল না। ঐ সিরিয়াল কিলার শেষ অপরাধ করেন অত্যন্ত হিসাবনিকাশ করিয়া, আর তাহার পরই সে ধরা পড়িল পুলিশের জালে। পুলিশ তাহাকে ধরিবার পর জানতে চাহিলেন তিনি এত বুদ্ধিমান হইবার পরও এইবার এত আনাড়ি ও বোকার মতো খুন করিলেন কেন? সিরিয়াল কিলার বলিলেন, এই খুনটি তিনি সবচাইতে অধিক পরিকল্পিতভাবে করিয়াছেন!

সুতরাং যতই পরিকল্পনা করিয়া অপরাধ করা হউক না কেন, কোনো না কোনো ত্রুটি বা আলামত অপরাধীরা রাখিয়া যান-ই। আর তাহার সূত্র ধরিয়া অপরাধীর নাগাল পাওয়া খুব কঠিন হয় না। বড় বড় অপরাধী যাহারা শায়েস্তা করেন তাহারা ঐসকল অপরাধীর চাইতেও নিশ্চিতভাবেই বুদ্ধিমান। শিক্ষিতও বটে। তবে তাহাদের সবচাইতে বড় শক্তি হইল সততা। সততার পরাজয় নাই। আপাতদৃষ্টিতে অপরাধীরা জয়ী হইলেও শেষ বিচারে তাহারা পরাজিত হইতে বাধ্য। এই জন্য ‘নো দাইসেলফ’—সবচাইতে বড় উপলব্ধির কথা। বুদ্ধিমানরা নিজেদের চিনিয়া থাকেন। নিজেদের না চিনিলে অনেকে মেধাবী হইয়া দুর্ধর্ষ অপরাধ করেন এবং লোভের যূপকাষ্ঠে নিজেদের বলি দেন। সুতরাং সর্বাগ্রে নিজেকে জানাটা জরুরি। কেবল নিজেকে জানিলেই আমরা বুঝিতে পারি—আমাদের দৌড় কত দূর, আমাদের কী করা উচিত এবং কী করা উচিত নহে।

ইত্তেফাক/ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন