বিশ্বের অন্যতম কোলাহলমুখর শহর ঢাকা। যে শহর এখন ঘিরে রয়েছে সুউচ্চ দালান। সঙ্গে তো মানুষ আর যানবাহনের চাপে অনেকটাই নুয়ে পড়েছে শহরটা। ঢাকার অন্যতম জায়গা মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে কিছু দূরে রামচন্দ্রপুরে ৯ একর জমি নিয়ে কোলাহলমুক্ত বুকভরা নিশ্বাস নেওয়ার জায়গাটি ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)-এর। যেখানে শব্দ-দূষণের কোনো কোলাহল নেই। যা আছে সেটা হলো নতুন প্রজন্মের স্বপ্নের ধ্বনি আর চারিদিকে পাখিদের কিচিরমিচির।
শহরের ভেতরেই একখণ্ড সবুজের বুকে শিক্ষার এক অবাধ দুয়ার খুলে রেখেছে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল বাংলাদেশ। দৃষ্টিনন্দন একাডেমিক ভবনের সামনেই বিশাল খেলার মাঠ। আজকাল বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অত্যাধুনিক করতে গিয়ে মাঠের উপযোগিতা যেন হারিয়েই গেছে। অথচ ইউল্যাবের মাঠটিকে বলতে হয় প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলার উপযোগী। শুধু কি তাই? তার পাশের লেকটি যেন সবুজের বুকে তুলি দিয়ে এঁকে দিয়েছে নীলাভ রঙ। এমন সৌন্দর্যকে আরও মনমুগ্ধ করে তুলবে চারিপাশে দাঁড়িয়ে থাকা অর্গানিক ফলজ বাগান।
শিক্ষার্থীদের আড্ডায়, খেলায় মেতে থাকে বিশ্ববিদ্যালয়টি। বলা হয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কখনো রাত নেমে আসে না। তরুণদের স্বপ্নে বিভোর থাকে তার প্রতিটি প্রাঙ্গন, সে সদা জাগ্রত। এমনই একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্ন দেখেছিলেন ইউল্যাবের বোর্ড অব ট্রাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট কাজী শাহেদ আহমেদ। একটি পূর্ণ লিবারেল আর্টস বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্নে ২০০৪ সালের ১ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়টি। তাদের মূল উদ্দেশ্যই ছিল কর্মমুখী ও সময়োপযোগী শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা। সেই লক্ষ্য নিয়েই হাঁটি হাঁটি পা-পা করে বিশ্ববিদ্যালয়টির বয়স এখন ১৯ বছর।
যেসব বিষয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে:
ইউল্যাবে শিক্ষার্থীরা ব্যাচেলর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (বিবিএ), বিএসএস ইন মিডিয়া স্টাডিজ অ্যান্ড জার্নালিজম, বিএ ইন ইংলিশ অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ, বিএসসি ইন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ও ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড ইলেট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (ইই্ই) পড়ার সুযোগ পাবে। একইসঙ্গে স্নাতকোত্তর কোর্সগুলো হলো- এমবিএ, ইএমবিএ, মাস্টার্স ইন কমিউনিকেশন, এমএ ইন ইংলিশ।
সম্প্রতি ইউল্যাব ‘বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ’ শুরু করেছে। বাংলা পড়েও যে ক্যারিয়ার গড়া যায় সেই বিষয়টিই প্রতিষ্ঠিত করতে আগ্রহী ইউল্যাব। আর এজন্য যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য এ বিভাগের শিক্ষার্থীরা ইংরেজি, সাংবাদিকতা, প্রকৌশলবিদ্যা ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে পড়ার সুযোগ পাবে। যার মাধ্যমে অন্য আরেকটি বিষয়েও নিজেকে দক্ষ করে ক্যারিয়ারে আরও সামনে এগিয়ে যাওয়ারও সম্ভাবনা তৈরি হবে।
গবেষণায় আছে অবাধ সুযোগ:
যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য থাকে নতুন জ্ঞান উৎপাদন ও উদ্ভাবন। ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ পিছিয়ে নেই গবেষণাতেও। বিশ্ববিদ্যালয়টি গবেষণায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। এ জন্যই গবেষণা খাতে তাদের বাৎসরিক ব্যয় ধরা হয় প্রায় নয় কোটি টাকা। ইউজিসি রিপোর্ট ২০১৯ অনুযায়ী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে গবেষণায় ইউল্যাব ছিল দ্বিতীয়।
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণায় উৎসাহ ও কাজের সুযোগ দেওয়ার জন্য তাদের রয়েছে ১০টি সমৃদ্ধ গবেষণা কেন্দ্র বা রিসার্চ সেন্টার। সেন্টার ফর আর্কিওলজিক্যাল স্টাডিজ (সিএএস), সেন্টার ফর বাংলা স্টাডিজ (সিবিএস), সেন্টার ফর এন্টাপ্রাইজ অ্যান্ড সোসাইটি (সিইএস), সেন্টার ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট (সিএসডি), সেন্টার ফর অ্যাডভান্স থিওরি (সিএটি), সেন্টার ফর এক্সিলেন্স ইন টিচিং অ্যান্ড লার্নিং (সিইটিএল), তথ্য যাচাইবিষয়ক উদ্যোগ ফ্যাক্ট ওয়াচ অন্যতম। ফ্যাক্ট ওয়াচ সরাসরি সামাজিক যোগাযোগ্য মাধ্যম ফেসবুকের সঙ্গে কাজ করছে। বাংলাদেশের গুজব রোধে তারা অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে। তাদেরও রয়েছে সমৃদ্ধ গবেষণাগার।
রয়েছে আন্তর্জাতিক মানের লাইব্রেরি ও ল্যাব:
শিক্ষার্থীদের পাঠে সহযোগিতা ও বই পড়ায় উদ্বুদ্ধ করার জন্য রয়েছে আন্তর্জাতিক মানের লাইব্রেরি। যেখানে শিক্ষার্থীরা পড়ার সুযোগ পায়। ইউল্যাবের লাইব্রেরিটি সম্পূর্ণ ওয়েব নির্ভর ও অটোমেশন প্রযুক্তিসম্পন্ন। লাইব্রেরিতে দেশি-বিদেশি প্রয়োজনীয় সকল বইসহ জার্নাল, ম্যাগাজিন, গবেষণাপত্র ও প্রয়োজনীয় অডিও ও ভিজ্যুয়াল তথ্য-উপাত্ত রয়েছে। এছাড়াও তত্ত্বীয় জ্ঞানের পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষায় নিজেকে যোগ্য করার জন্য রয়েছে আধুনিক ল্যাবও। যেখানে শিক্ষার্থীরা তত্ত্বীয় জ্ঞানকে পরীক্ষা করার সুযোগ পায়। একইসঙ্গে মিডিয়া ও জার্নালিজম বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে ইউল্যাব টিভি স্টেশন, রেডিও স্টেশন এবং নিজস্ব পত্রিকা।
শিক্ষাবৃত্তি নিয়েও রয়েছে পড়ার সুযোগ:
ইউল্যাব প্রতি বছর বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শিক্ষার্থীদেরকে প্রায় ১৫ কোটি টাকা শিক্ষাবৃত্তি দিয়ে থাকে। যার মধ্যে উপাচার্য বৃত্তি ও ডিন বৃত্তি অন্যতম। প্রতি সেমিস্টারের ফলাফলের উপর ভিত্তি করেও শিক্ষার্থীরা বৃত্তি পেয়ে থাকেন। এছাড়াও এসএসসি ও এইচএসসি ফলাফলের উপর ভিত্তি করে শিক্ষার্থীরা শতভাগ পর্যন্ত বৃত্তি পেয়ে থাকেন।
ইউনিভার্সিটি লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ বতর্মানে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ওয়ার্ল্ডস ইউনিভার্সিটিজ উইথ রিয়েল ইমপ্যাক্ট (ডব্লিউইউআরআই) র্যা ঙ্কিংয়ে বিশ্বের শীর্ষ ৫০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় বাংলাদেশের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব) ২০২০ সালে জায়গা করে নেয়। এর আগে টাইমস্ হায়ার এডুকেশন ইমপ্যাক্ট র্যাং কিং-এ বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ইউল্যাব চতুর্থ স্থান অর্জন করে।
এছাড়াও যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণা সংস্থা কোয়াককোয়ারেলি সায়মন্ডস (কিউএস) সোশ্যাল সায়েন্স সিলভার অ্যাওয়ার্ড ২০২১ জিতেছে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)। ওয়ারটন-কিউএস রিইমেজিন এডুকেশন অ্যাওয়ার্ড বিশ্বে ‘শিক্ষায় অস্কার’ হিসেবে পরিচিত। সমাজে তাদের নিজেদের গল্প বলতে উৎসাহিত করার কাজে অবদান রাখায় ইউল্যাবকে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
ওয়ারটন-কিউএস রিইমেজিন এডুকেশন অ্যাওয়ার্ড বিশ্বে ‘শিক্ষায় অস্কার’ হিসেবে পরিচিত।
এই বিশ্ববিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীদের আসা-যাওয়ার জন্যও রয়েছে পরিবহন সার্ভিস। যা শিক্ষার্থীরা নিশ্চিন্তে ব্যবহার করতে পারবেন। ইউল্যাবের অন্যান্য তথ্য ও বৃত্তি সম্পর্কে জানতে ভিজিট করতে পারেন এই লিংকে– https://admissions.ulab.edu.bd/
