দশ বছর আগে ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে জড়ো হয়েছিলেন হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীরা। ওই দিন রাজধানীজুড়ে ব্যাপক সহিংসতা হয়। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ, বাগেরহাট, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ ৭ জেলায় হেফাজতের কর্মীদের সঙ্গে সহিংসতা ঘটে। পুলিশের সংঘর্ষে মোট ১৯ জন নিহত হন। এসব ঘটনায় ঢাকাসহ ৭ টি জেলায় ৫৩ টি মামলা দায়ের হয়। ৫৩ টি মামলার মধ্যে ৪৯ টি মামলা ঝুলে আছে।
আবার ২০২১ সালের ২৬ মার্চ রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ এলাকায় বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় হেফাজতের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এক পর্যায়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রামের হাটহাজারী, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। এসব ঘটনায় সারাদেশে ১৫৪টি মামলা দায়ের করা হয়। সব মিলিয়ে হেফাজতের সহিংসতার ঘটনায় ২০৩ টি মামলা এখনো রয়েছে।
সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনার পর হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ২০৩ টি মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করার উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। সরকারের হাইকমান্ড থেকে নির্দেশনা পেয়ে পুলিশও কাজ শুরু করে দিয়েছে। গত এক মাসের ব্যবধানে অন্তত ১০ নেতা জামিন পেয়েছেন। সর্বশেষ গত ২৯ এপ্রিল চট্টগ্রাম থেকে মাওলানা কামরুদ্দিন ও মাওলানা মিজানুর রহমান কারামুক্ত হয়েছেন। বর্তমানে আরও ১১ জন নেতা কারাবন্দি। শিগগির কারামুক্ত হচ্ছেন হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতা মুফতি হারুন ইজাহার, শিশুবক্তা হিসেবে পরিচিত রফিকুল ইসলাম মাদানী ও আলোচিত হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হক। মুফতি হারুন ইজাহার সব মামলায় জামিন পেয়েছেন। রফিকুল ইসলাম মাদানী সব মামলায় জামিন পেলেও চেম্বার আদালত একটি মামলায় জামিন স্থগিত করে আপিল বিভাগে শুনানির জন্য পাঠিয়েছেন।
অন্যদিকে, ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুটি থানায় দায়েরকৃত ৫ মামলায় জামিন পেয়েছেন হেফাজতে ইসলামের সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক। বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আমিনুল ইসলামের দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার এ রায় দেয়া হয়। তবে মামুনুলের বিরুদ্ধে প্রায় ৪১টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে নিম্ন আদালতে ১৩টি মামলায় তিনি জামিন পেয়েছেন। সব মিলিয়ে আরও ২৩ টি মামলায় মাওলানা মামুনুল এখনও জামিন পাননি।
হেফাজত সূত্র জানায়, নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের ঘটনায় ২০২১ সালের ২৬ মার্চ রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ এলাকায় বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় হেফাজতের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় তাদের ১ হাজারেরও বেশি নেতাকর্মীকে আটক করা হয়। তাদের মধ্য থেকে বেশিরভাগই জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। এখনও কারাগারে আছেন। সংগঠনের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, সহকারী মহাসচিব মুফতি সাখাওয়াত হুসাইন রাজী, সাবেক অর্থ সম্পাদক মুফতি মুনির হুসেন কাসেমী, সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি হারুন ইজহার, মুফতি নূর হুসাইন নুরানী, আবদুল মান্নান, দিদারুল আলম, অনিক দত্ত, সোহাগ ও আজিজুল হক। মুফতি হারুন ইজাহার, রফিকুল ইসলাম মাদানী ও মাওলানা মামুনুল হক খুব শিগগিরই জামিনে মুক্ত হবেন এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন তাদের আইনজীবী ও হেফাজত নেতারা।
হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দিন রাব্বানী ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমরা সবার মুক্তির জন্যই চেষ্টা করছি। সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছি যে আমাদের সকল নেতা-কর্মীদের মুক্তি দেওয়া হোক। আমাদের এই দাবি অব্যাহত থাকবে।’
