জার্মানিতে হয়ে গেল ‘হ্যালো রোবট’ প্রদর্শনী

আপডেট : ০৬ মে ২০২৩, ১২:২১

জার্মানির ভাইল আম রাইনের ভিট্রা ডিজাইন মিউজিয়ামে সম্প্রতি ‘হ্যালো রোবট’ নামে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল। রোবট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মানুষ ও যন্ত্রের মধ্যে উত্তেজনা ইত্যাদি বিষয়ে সেখানে আলোচনা হয়েছে। কিউরেটর ছিলেন অস্ট্রিয়ার আমালি ক্লাইন। 

তিনি বলেন, 'পৃথিবীতে যা কিছু আছে তার প্রায় সবকিছুতেই প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে। এটা অনেকটা রংয়ের স্তরের মতো। এটা হয়ে গেছে। এটা আর ফিরিয়ে নেয়া সম্ভব নয়। বোতল থেকে জ্বিন বেরিয়ে গেছে। তাই ব্যক্তি হিসেবে আমরা এবং সমাজ কীভাবে প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নেবো, তা খুঁজে বের করতে হবে।'

জার্মানির ভাইল আম রাইনের ভিট্রা ডিজাইন মিউজিয়ামে সম্প্রতি ‘হ্যালো রোবট’ নামে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল।

বুদ্ধিমান যন্ত্র ছাড়া এখন শিল্পজগতের কথা ভাবাই যায় না। মানুষ ও রোবটের মধ্যে সম্পর্ক এখন ইউটোপিয়া ও ডিস্টোপিয়ার মধ্যে দুলছে। একদিকে প্রযুক্তির সাহায্যে উন্নত জীবনযাপনের আশা করা হচ্ছে, অন্যদিকে মানুষের কাজ হারানোর আশঙ্কাও রয়েছে।

ক্লাইন বলেন, 'একটা রোবট আছে যেটা মেনিফেস্টো লিখতে পারে, যার সম্পর্কে আমরা রাজনীতি বা আর্টের জগত থেকে জানি। এটা একটা বুদ্ধিভিত্তিক কাজ৷ কিন্তু এই রোবট আসলে বোকা। কারণ সে তিনটি ভাষা জানে; শব্দভান্ডার, গ্রামার আর সিন্টেক্স বোঝে, কিন্তু কী লিখছে সেটা সে বোঝে না।'

বুদ্ধিমান যন্ত্র ছাড়া এখন শিল্পজগতের কথা ভাবাই যায় না।

অনেক মুভিতে কৃত্রিম মানুষকে তুলে ধরতে দেখা গেছে যারা দেখতে অনেকটা আমাদের মতো, কিন্তু আমাদের চেয়েও বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন। মেট্রোপলিস থেকে শুরু করে ২০০১, ব্লেড রানার থেকে শুরু করে ম্যাট্রিক্স। এমন সব সায়েন্স ফিকশন ব্লকবাস্টার মুভিতে চলচ্চিত্র নির্মাতারা রোবট, অ্যান্ডরয়েড ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতি মানুষের মুগ্ধতা এবং একইসঙ্গে আশঙ্কার বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন।

ক্লাইন বলেন, 'পুপলার কালচারের মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অনেককিছু আমাদের মাথায় ও মনে ঢুকে গেছে। এভাবে রোবট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে আমাদের মনে একটা ছবি তৈরি হয়েছে। তাই আমরা যখন বাস্তবে রোবট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দেখি, তখন হতাশ হই, কারণ বেশিরভাগ সময়ই মুভি বা বইয়ে পড়ার মতো তাদের চমকপ্রদ মনে হয় না।'

একটা রোবট আছে যেটা মেনিফেস্টো লিখতে পারে, যার সম্পর্কে আমরা রাজনীতি বা আর্টের জগত থেকে জানি।

কিন্তু মানুষের সৃজনশীলতা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মধ্যে সীমানা কোথায়? যন্ত্র কি শেষ পর্যন্ত প্রযুক্তি জগতের সর্বশেষ রহস্য, আবেগ অনুভব করা ও তাকে শিল্পে পরিণত করতে সক্ষম হবে?

ইত্তেফাক/ডিএস

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন