লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে খাল থেকে নারী ও শিশুর লাশ উদ্ধারের ১৫ দিনের মাথায় হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে। প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ঢাকার শ্যামপুর এলাকা থেকে নিহতের স্বামী জামাল ও পিকআপচালক বেলালকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১।
শনিবার (৬ মে) বিকালে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. মাহফুজ্জামান আশরাফ। অভিযুক্ত জামাল চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার বহরীগ্রামের রুহুল আমিন মিঝির ছেলে। ভিকটিম রওশন আরা তার দ্বিতীয় স্ত্রী। তিনি ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার আজোলবেড়া গ্রামের কেরামত আলীর মেয়ে।
জানা গেছে, ২০১৯ সালে বিয়ের পর থেকে জামাল ও রওশনের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। তারা দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার রায়েরবাগ এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতো। গত ১৫ এপ্রিল দাম্পত্য কলহের জেরে স্ত্রী রওশনকে গলা টিপে হত্যা করেন জামাল। পরে ঘুমন্ত অবস্থায় এক বছরের শিশু কন্যাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে। পরে বাসার মালামালসহ দুজনের লাশ ওয়্যারড্রবে করে পিকআপে নোয়াখালীর উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে রওয়ানা দেন জামাল। কিন্তু নোয়াখালী না গিয়ে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের দুটি পৃথক স্থানে ব্রিজের নিচে লাশ দুটি ফেলে দেন। ১৯ এপ্রিল রামগঞ্জ-সোনাইমুড়ি সড়কের পাশে হানুবাইশ ব্রিজের নিচে শিশু ও পার্শ্ববর্তী আলীপুর এসপি বাড়ির সামনের ব্রিজের নিচ থেকে নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওইদিন রাতে রামগঞ্জ থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন পুলিশ।
পুলিশ সুপার মো. মাহফুজ্জামান আশরাফ জানান, লাশগুলো উদ্ধারের পর নাকফুলের সূত্র ধরে লাশ শনাক্ত করা হয়। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ফরিদপুরের মধুখালী থানায় এক নারী ও এক শিশুর নিখোঁজ ডায়েরি রয়েছে। পরে নিহতের স্বজনরা এসে লাশ শনাক্ত করেন। র্যাবকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, র্যাব শুধু ঘাতককে গ্রেপ্তার করেছে বাকি কাজ পুলিশ করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে জামাল হত্যার দায় স্বীকার করেছে।
