জেল কারারক্ষী পদে চাকরি প্রদানের জন্য নেওয়া ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ায় চাকরি প্রার্থীর নামে অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়েছে গাইবান্ধায়। শনিবার (৬ মে) গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে চাকরি প্রার্থী রায়হান মিয়ার বাবা সেকেন্দার আলী আয়নাল এই অভিযোগ করেন।
জেল কারারক্ষী পদে চাকরি প্রার্থী রায়হান মিয়া সাদুল্লাপুর উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের বৈষ্ণবদাস গ্রামের সেকেন্দার আলী আয়নালের ছেলে।
জেল কারারক্ষী পদে চাকরি প্রদানের জন্য ঘুষের টাকা গ্রহণকারী বকুল বিশ্বাস গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ছাপরহাটি গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে।
সম্মেলনে সেকেন্দার আলী আয়নাল লিখিত বক্তব্যে বলেন, সাদুল্লাপুর উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক ও পশ্চিম দামোদরপুর গ্রামের জাহিদুল ইসলামের মাধ্যমে বকুল বিশ্বাস সাথে আমার পরিচয় হয়। সেই পরিচয়ের সুত্র ধরে বকুল বিশ্বাস আমার ছেলে রায়হান মিয়াকে ৭ লাখ টাকার বিনিময়ে জেল কারারক্ষী পদে চাকরি নিয়ে দিবেন বলে আব্দুর রাজ্জাক ও জাহিদুল ইসলামের মাধ্যমে আমাকে প্রস্তাব দেন।
তিনি আরও বলেন, ছেলের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আমি প্রথম দফায় চলতি বছরের গত ৭ ফেব্রুয়ারি বকুল বিশ্বাসকে ৮০ হাজার টাকা প্রদান করি। পরবর্তীতে আরও কয়েক দফায় তাকে ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা প্রদান করেছি। এরপরও বকুল বিশ্বাস আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। সেই ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার জন্য তিনি (বকুল বিশ্বাস) গত ২৬ এপ্রিল আমার বাড়িতে আসেন। কিন্তু আমার মোবাইলে পাঠানো তার এসএমএস এবং তার কথাবার্ত ও আচারণ বিধি দেখে সন্দেহ হয়। তাই বকুল বিশ্বাসকে প্রদানকৃত ৭ লাখ টাকা ফেরত চাই। কিন্তু টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে তিনি তালবাহানা শুরু করেন। ফলে সারারাত এ নিয়ে বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে আব্দুর রাজ্জাক, জাহিদুল ইসলাম, আমার ছেলে রায়হান মিয়া ও আমার মেয়ে জামাই কবিরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এরই মধ্যে গত ২৭ এপ্রিল ভোরবেলা থানা পুলিশ আমার বাড়িতে উপস্থিত আমাদের সকলকে সাদুল্লাপুর থানায় নিয়ে যায়।
তিনি বলেন, পরের দিন ২৮ এপ্রিল সেখান থেকে পুলিশ আব্দুর রাজ্জাক, জাহিদুল ইসলাম, কবিরুল ইসলাম, রায়হান মিয়া ও বকুল বিশ্বাসকে সুন্দরগঞ্জ থানায় নিয়ে যান।
সেকান্দার আলী অভিযোগ করে বলেন, বকুল বিশ্বাসের ছোট ভাই গোলাম আজম বিষয়টি সমাধানের লক্ষ্যে আমার কাছে থাকা বকুল বিশ্বাসকে টাকা দেওয়ার চেকের ফটোকপি ও স্ট্যাম্প জমা নেন। কিন্তু তিনি এই বিষয়টি কোন সমাধান করেন নাই। এবং আমার কাছ থেকে নেওয়া চেক ও স্ট্যাম্পও ফেরত দেন নাই।
সেকেন্দার বলেন, একপর্যায়ে বকুল বিশ্বাস প্রভাব খাটিয়ে ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে তাকে (বকুল বিশ্বাসকে) অপহরণ করা হয়েছে বলে তার ছোট ভাই গোলাম আজমকে বাদি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি মিথ্যা অপহরণ মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ ওই মামলার আসামি হিসেবে আব্দুর রাজ্জাক, জাহিদুল ইসলাম, কবিরুল ইসলাম ও রায়হান মিয়াকে গ্রেপ্তার দেখায়ে আদালতে সোপর্দ করেন। বর্তমানে তার গাইবান্ধা জেলা কারাগারে রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সেকেন্দার আলী আয়নালের স্ত্রী রুপিয়া বেগম, মেয়ে সিমা বেগম, রসুল ইউপির সাবেক সদস্য লাইলী বেগম ও আতাউর রহমান প্রমুখ।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত বকুল বিশ্বাসের সঙ্গে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
অপহরন মামলা দায়ের হওয়ার কথা স্বীকার করে সুন্দরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সেরাজুল হক বলেন, আয়নাল হয়তো বকুল বিশ্বাসের কাছে টাকা পাবেন। কিন্তু তার কাছ থেকে থানায় কোন চেক কিংবা ষ্ট্যাম্প নেওয়া হয়নি।
